Employability Skills
Employability Skills
এই পেজটি মূলত পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) নবম ও দশম শ্রেণির বৃত্তিমূলক শিক্ষা (Vocational Education) বা ‘Employability Skills’ বিষয়ের একটি ডিজিটাল পাঠাগার। এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অত্যন্ত সহজ ভাষায় যোগাযোগ দক্ষতা (Communication Skills), স্ব-ব্যবস্থাপনা (Self-management Skills), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT Skills), উদ্যোক্তা দক্ষতা (Entrepreneurial Skills) এবং পরিবেশবান্ধব দক্ষতা (Green Skills) সংক্রান্ত বিভিন্ন রিসোর্স ও স্টাডি মেটেরিয়াল দেওয়া হয়েছে। বাংলা মাধ্যম শিক্ষার্থীদের জন্য জটিল বিষয়গুলোকে সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করাই এই পেজের মূল উদ্দেশ্য।
বৃত্তিমূলক দক্ষতা: পাঠ্যসূচি (নবম শ্রেণি)
Employability Skills: Syllabus (Class IX)
বৃত্তিমূলক দক্ষতা: পাঠ্যসূচি (নবম শ্রেণি)
Unit 1: Communication Skills (যোগাযোগ দক্ষতা)
Session 1: Introduction to Communication (যোগাযোগের পরিচিতি)
Session 2: Verbal Communication (মৌখিক যোগাযোগ)
Session 3: Non-Verbal Communication (অবাচনিক যোগাযোগ)
Session 4: Writing Skills: Parts of Speech (লিখন দক্ষতা: পদের শ্রেণিবিভাগ)
Session 5: Writing Skills: Sentences (লিখন দক্ষতা: বাক্য)
Session 6: Pronunciation Basics (উচ্চারণের প্রাথমিক ধারণা)
Session 7: Greetings and Introduction (অভিবাদন এবং পরিচয় প্রদান)
Session 8: Talking about Self (নিজের সম্পর্কে কথা বলা)
Session 9: Asking Questions I (প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা – ১)
Session 10: Asking Questions II (প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা – ২)
Unit 2: Self-Management Skills (স্ব-ব্যবস্থাপনা দক্ষতা)
Session 1: Introduction to Self-management (স্ব-ব্যবস্থাপনার পরিচিতি)
Session 2: Strength and Weakness Analysis (নিজের শক্তি ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ)
Session 3: Self-confidence (আত্মবিশ্বাস)
Session 4: Positive Thinking (ইতিবাচক চিন্তা ভাবনা)
Session 5: Personal Hygiene (ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা)
Session 6: Grooming (সাজসজ্জা বা গ্রুমিং)
Unit 3: ICT Skills (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দক্ষতা)
Session 1: Introduction to ICT (আইসিটি-র পরিচিতি)
Session 2: ICT Tools: Smartphones and Tablets — I (আইসিটি সরঞ্জাম: স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট — ১)
Session 3: ICT Tools: Smartphones and Tablets — II (আইসিটি সরঞ্জাম: স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট — ২)
Session 4: Parts of Computer and Peripherals (কম্পিউটারের অংশ এবং পেরিফেরালস)
Session 5: Basic Computer Operations (কম্পিউটার পরিচালনার প্রাথমিক নিয়মাবলী)
Session 6: Performing Basic File Operations (ফাইলের প্রাথমিক কাজসমূহ সম্পাদন)
Session 7: Basics of Internet (ইন্টারনেটের প্রাথমিক ধারণা)
Session 8: Internet Browsing (ইন্টারনেট ব্রাউজিং)
Session 9: Introduction to e-mail (ই-মেইল পরিচিতি)
Session 10: Creating an e-mail Account (ই-মেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি করা)
Session 11: Writing an e-mail (ই-মেইল লেখা)
Session 12: Receiving and Replying to e-mails (ই-মেইল গ্রহণ এবং উত্তর দেওয়া)
Unit 4: Entrepreneurship Skills (উদ্যোক্তা হওয়ার দক্ষতা)
Session 1: What is Entrepreneurship? (উদ্যোক্তা হওয়া কী?)
Session 2: Role of Entrepreneurship (উদ্যোগের ভূমিকা)
Session 3: Qualities of a Successful Entrepreneur (একজন সফল উদ্যোক্তার গুণাবলী)
Session 4: Entrepreneurship and Wage Employment (উদ্যোগ এবং বেতনভুক্ত কর্মসংস্থানের পার্থক্য)
Session 5: Types of Business Activities (ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ধরণ)
Session 6: Product, Service and Hybrid Businesses (পণ্য, পরিষেবা এবং হাইব্রিড ব্যবসা)
Session 7: Entrepreneurship Development Process (উদ্যোক্তা উন্নয়নের প্রক্রিয়া)
Unit 5: Green Skills (পরিবেশবান্ধব দক্ষতা)
Session 1: Society and Environment (সমাজ এবং পরিবেশ)
Session 2: Conserving Natural Resources (প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ)
Session 3: Sustainable Development and Green Economy (টেকসই উন্নয়ন এবং সবুজ অর্থনীতি)
Unit 1 - Session 1: যোগাযোগ বা কমুনিকেশন পরিচিতি (Introduction to Communication)
Unit 1 – Session 1: যোগাযোগ বা কমুনিকেশন পরিচিতি (Introduction to Communication)
১. যোগাযোগ বা কমুনিকেশন কী? (What is Communication?)
‘কমুনিকেশন’ (Communication) শব্দটি ল্যাটিন শব্দ‘commünicāre’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো‘ভাগ করে নেওয়া’ (to share)। অর্থাৎ, তথ্য বা তথ্যাদি আদান-প্রদান করাকেই যোগাযোগ বলা হয়।
সংজ্ঞা: কোনো সাধারণ বোঝাপড়ায় পৌঁছানোর জন্য দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করাকেই যোগাযোগ বলা হয়।
২. যোগাযোগের গুরুত্ব (Importance of Communication)
স্পষ্টভাবে নিজের চিন্তা, অনুভূতি এবং ধারণা প্রকাশ করতে পারলে ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্পর্ক ভালো থাকে। যোগাযোগের প্রধান তিনটি উদ্দেশ্য হলো:
- তথ্য প্রদান করা (Inform): কাউকে কোনো তথ্য বা সঠিক সংবাদ জানানো।যেমন: পরীক্ষার সময়সূচী বন্ধুদের জানানো।
- প্রভাবিত করা (Influence): পরোক্ষভাবে কাউকে কোনো কাজে রাজি করানো বা সাহায্য করা।যেমন: দোকানদারের সাথে দামাদামি করা বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বন্ধুকে সাহস দেওয়া।
- অনুভূতি প্রকাশ করা (Express Feelings): নিজের আবেগ বা অনুভূতি অন্যদের সাথে ভাগ করে নেওয়া।যেমন: পরীক্ষায় ভালো ফল করলে মা-বাবার কাছে আনন্দ প্রকাশ করা।
৩. যোগাযোগের উপাদানসমূহ (Elements of Communication)
যোগাযোগ হলো তথ্যের দ্বিমুখী আদান-প্রদান। এর পাঁচটি প্রধান ধাপ বা উপাদান রয়েছে (Fig. 1.2):
- প্রেরক (Sender): যিনি যোগাযোগের প্রক্রিয়াটি শুরু করেন এবং বার্তা পাঠান।
- বার্তা বা মেসেজ (Message): যে তথ্যটি পাঠানো হচ্ছে।
- মাধ্যম (Channel): যে পথের মাধ্যমে বার্তাটি পৌঁছায় (যেমন: কথা বলা, লেখা, ফোন বা ইমেইল)।
- গ্রাহক (Receiver): যিনি বার্তাটি গ্রহণ করেন।
- প্রতিক্রিয়া (Feedback): গ্রাহক বার্তাটি পাওয়ার পর যখন উত্তর দেন, তখন যোগাযোগ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হয়।
৪. কার্যকর যোগাযোগের নীতি বা ‘7 Cs’ (7Cs of Effective Communication)
পেশাগত জীবনে সফল হতে হলে যোগাযোগ অবশ্যই কার্যকর হতে হবে।এর জন্য নিচের ৭টি নীতি মেনে চলা জরুরি:
- Clear (স্পষ্ট): আপনি কী বলতে চান তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Concise (সংক্ষিপ্ত): অপ্রয়োজনীয় কথা বাদ দিয়ে শুধু প্রয়োজনীয় কথা সহজ শব্দে বলুন।
- Concrete (যথাযথ): সঠিক শব্দ এবং তথ্যের ব্যবহার করুন।
- Correct (সঠিক): কথা বা লেখার সময় ব্যাকরণ এবং বানান সঠিক রাখুন।
- Coherent (সামঞ্জস্যপূর্ণ): আপনার কথা বা বার্তা অবশ্যই মূল বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত হতে হবে।
- Complete (সম্পূর্ণ): বার্তায় সব প্রয়োজনীয় তথ্য থাকতে হবে।
- Courteous (ভদ্র): অন্যদের সাথে কথা বলার সময় বিনয়ী ও সৎ হতে হবে।
৫. যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাধা (Barriers to Communication)
কখনও কখনও নির্দিষ্ট কিছু কারণে আমরা তথ্য সঠিকভাবে বুঝতে পারি না।এগুলোকে যোগাযোগের বাধা বলা হয়:
- ভাষা (Language): অপরিচিত ভাষা বা ভুল শব্দ ব্যবহার করলে যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হয়।
- অতীত অভিজ্ঞতা (Past Experience): আগে কোনো খারাপ অভিজ্ঞতা থাকলে আমরা সামনের জনের কথা বিশ্বাস করতে পারি না।
- পরিবেশ (Environment): চারপাশের কোলাহল বা শব্দ যোগাযোগের সমস্যা সৃষ্টি করে。
- ব্যক্তিগত মনোভাব (Personal Factors): ভয় বা আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকলে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
- সংস্কৃতি (Culture): ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের কাছে কোনো ইশারা বা চিহ্নের অর্থ আলাদা হতে পারে।
শিক্ষার্থীদের জন্য টিপস:
সবসময় মনে রাখবে, ভালো কমুনিকেশন স্কিল বা যোগাযোগ দক্ষতা শুধু ইংরেজিতে কথা বলা নয়, বরং নিজের মাতৃভাষায় এবং অন্য যেকোনো মাধ্যমে নিজের বক্তব্য স্পষ্টভাবে অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আসল সাফল্য।
Session 2: Verbal Communication
Unit 1 – Session 2: মৌখিক যোগাযোগ (Verbal Communication)
১. মৌখিক যোগাযোগ বা Verbal Communication কী?
যখন আমরা নিজেদের মনের ভাব বা তথ্য আদান-প্রদান করার জন্য শব্দ (Words) ব্যবহার করি, তখন তাকে মৌখিক যোগাযোগ বা ‘Verbal Communication’ বলা হয়। এটি যোগাযোগের সবচেয়ে সহজ এবং বহুল প্রচলিত মাধ্যম।
আমরা সাধারণত কথা বলে (Speaking) অথবা লিখে (Writing) এই যোগাযোগ সম্পন্ন করি।
২. মৌখিক যোগাযোগের প্রকারভেদ (Types of Verbal Communication)
মৌখিক যোগাযোগকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
ক) মৌখিক বা কথ্য যোগাযোগ (Oral Communication):
মুখের কথার মাধ্যমে যে যোগাযোগ হয়। এর কয়েকটি উদাহরণ হলো:
মুখোমুখি কথা বলা (Face-to-face conversation): যখন দুজন ব্যক্তি একে অপরের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলেন।
ফোনে কথা বলা (Talking on phone): দূরে থাকা কোনো ব্যক্তির সাথে মোবাইল বা টেলিফোনে আলাপ।
গ্রুপ ডিসকাশন (Group Discussion): ক্লাসে কোনো বিষয় নিয়ে বন্ধুদের সাথে আলোচনা করা।
জনসমক্ষে বক্তৃতা (Public Speaking): স্কুলের অ্যাসেম্বলিতে বা কোনো অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়া।
খ) লিখিত যোগাযোগ (Written Communication):
কাগজে লিখে বা টাইপ করে যখন তথ্য পাঠানো হয়। এর উদাহরণ:
চিঠি বা ইমেইল (Letters/Emails): অফিশিয়াল বা ব্যক্তিগত বার্তা পাঠানো।
SMS বা চ্যাট (Messaging): হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারে লিখে কথা বলা।
বই বা সংবাদপত্র (Books/Newspapers): ছাপানো অক্ষরের মাধ্যমে তথ্য গ্রহণ করা।
৩. মৌখিক যোগাযোগের সুবিধা (Advantages of Verbal Communication)
দ্রুত আদান-প্রদান: এটি খুব দ্রুত হয় এবং তৎক্ষণাৎ উত্তর পাওয়া যায়।
সহজবোধ্য: সরাসরি কথা বললে বক্তার মনের ভাব সহজে বোঝা যায়।
প্রতিক্রিয়া (Feedback): কথা বলার সাথে সাথেই শ্রোতা তার মতামত বা উত্তর দিতে পারেন।
পরিবর্তনযোগ্য: কথা বলার সময় শ্রোতার প্রতিক্রিয়া দেখে আপনি আপনার কথা বলার ধরন বা বিষয় পরিবর্তন করতে পারেন।
৪. মৌখিক যোগাযোগের অসুবিধা (Disadvantages)
যদি সঠিক শব্দ চয়ন না করা হয় বা ভাষা স্পষ্ট না হয়, তবে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে।
সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণে একই শব্দের অর্থ ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে আলাদা হতে পারে।
অনেক সময় রাগের মাথায় মুখে বলা কথা পরে ফিরিয়ে নেওয়া যায় না।
৫. মৌখিক যোগাযোগকে কার্যকর করার উপায় (Tips for Effective Verbal Communication)
নিজের কথা বলার দক্ষতাকে উন্নত করতে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলা উচিত:
প্রস্তুতি (Preparation): আপনি কী বলতে চান, তা আগে থেকে ভেবে নিন।
স্পষ্ট উচ্চারণ (Clear Pronunciation): কথা বলার সময় প্রতিটি শব্দ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করুন যাতে শ্রোতা সহজেই বুঝতে পারেন।
সংক্ষিপ্ত ও প্রাসঙ্গিক (Concise): অহেতুক কথা না বাড়িয়ে সংক্ষেপে মূল বিষয়টি বুঝিয়ে বলুন।
সতর্ক শব্দ চয়ন: এমন শব্দ ব্যবহার করুন যা শুনতে ভালো লাগে এবং যা কেউ ভুল বুঝবে না।
আত্মবিশ্বাস (Confidence): কথা বলার সময় চোখে চোখ রেখে (Eye contact) এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলুন।
ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কাজ (Activity):
তোমরা ২-৩ জনের একটি দল তৈরি করো। একজন একটি কাল্পনিক পরিস্থিতি (যেমন: দোকান থেকে বই কেনা বা শিক্ষককে ছুটির আবেদন জানানো) বেছে নাও এবং একে অপরের সাথে কথা বলার অভ্যাস করো। লক্ষ্য করো যে তোমরা শব্দগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করছ কি না।
মনে রেখো: সফল হওয়ার জন্য কেবল কথা বলাই যথেষ্ট নয়, সঠিক সময়ে সঠিক শব্দ ব্যবহার করাটাই হলো আসল দক্ষতা।
Unit 1 - Session 3: অবাচনিক যোগাযোগ (Non-Verbal Communication)
নবম শ্রেণির Employability Skills বইয়ের প্রথম অধ্যায়ের তৃতীয় পরিচ্ছেদ হলো ‘Non-Verbal Communication’ বা অবাচনিক যোগাযোগ। নিচে শিক্ষার্থীদের জন্য এর বিস্তারিত আলোচনা দেওয়া হলো:
Unit 1 – Session 3: অবাচনিক যোগাযোগ (Non-Verbal Communication)
১. অবাচনিক যোগাযোগ বা Non-Verbal Communication কী?
যখন আমরা কোনো শব্দ (Words) বা ভাষা ব্যবহার না করে কেবল শরীরের অঙ্গভঙ্গি, মুখভঙ্গি বা চিহ্নের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করি, তখন তাকে অবাচনিক যোগাযোগ বা ‘Non-Verbal Communication’ বলা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের দৈনন্দিন যোগাযোগের প্রায় ৫৫% হয় শরীরের অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে, ৩৮% কণ্ঠস্বরের ওঠানামার মাধ্যমে এবং মাত্র ৭% হয় শব্দের মাধ্যমে।
২. অবাচনিক যোগাযোগের গুরুত্ব
এটি আমাদের মৌখিক বার্তাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
যদি আমাদের কথা এবং শরীরের ভাষা এক না হয়, তবে শ্রোতা বিভ্রান্ত হতে পারেন।
এটি সঠিক আবেগ বা অনুভূতি প্রকাশ করতে সাহায্য করে (যেমন: মুখে ‘না’ বললেও মাথা নাড়ানো)।
৩. অবাচনিক যোগাযোগের বিভিন্ন ধরণ (Types of Non-Verbal Communication)
কার্যকর যোগাযোগের জন্য নিচের বিষয়গুলো লক্ষ্য করা জরুরি:
মুখভঙ্গি (Facial Expressions): আমাদের মুখ দেখেই বোঝা যায় আমরা খুশি, দুঃখী, রাগান্বিত নাকি ভয় পেয়েছি। কথা বলার সময় মুখে মৃদু হাসি রাখা ইতিবাচক যোগাযোগের লক্ষণ।
শরীরের ভঙ্গি (Posture): আপনি কীভাবে দাঁড়িয়ে আছেন বা বসে আছেন, তা আপনার আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে। সোজা হয়ে দাঁড়ানো আত্মবিশ্বাসের প্রতীক, অন্যদিকে কাঁধ ঝুঁকিয়ে রাখা ক্লান্ত বা বিমর্ষ হওয়ার লক্ষণ।
অঙ্গভঙ্গি (Gestures): হাত বা মাথার নাড়াচাড়া। যেমন—কাউকে ডাকার সময় হাত নাড়ানো বা কোনো কিছু বোঝাতে আঙুল দিয়ে নির্দেশ করা।
চোখে চোখ রাখা (Eye Contact): কথা বলার সময় বক্তার চোখের দিকে তাকালে বোঝা যায় যে আপনি তার কথা মন দিয়ে শুনছেন। তবে একনাগাড়ে তাকিয়ে থাকা আবার অস্বস্তিকর হতে পারে।
স্পর্শ (Touch): হ্যান্ডশেক করা বা কারোর পিঠ চাপড়ে দেওয়াও এক ধরণের যোগাযোগ, যা ভরসা বা বন্ধুত্ব প্রকাশ করে।
শারীরিক দূরত্ব (Space): কারোর সাথে কথা বলার সময় কতটা দূরত্ব বজায় রাখছেন, তা সম্পর্কের গভীরতা নির্ধারণ করে। অফিশিয়াল ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।
৪. অবাচনিক যোগাযোগকে আরও ভালো করার উপায়
যোগাযোগের সময় নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত:
সঠিক মুখভঙ্গি: পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে মুখে হাসি বা গাম্ভীর্য বজায় রাখুন।
খোলামেলা ভঙ্গি (Open Posture): কথা বলার সময় হাত আড়াআড়ি (Crossed arms) করে রাখবেন না, এটি রক্ষণাত্মক বা অনাগ্রহী হওয়ার সংকেত দেয়।
কণ্ঠস্বরের নিয়ন্ত্রণ: শব্দের পাশাপাশি গলার স্বর বা টোন (Tone) ঠিক রাখা জরুরি। খুব জোরে বা খুব আস্তে কথা বলবেন না।
৫. দৃশ্যমান যোগাযোগ (Visual Communication)
অবাচনিক যোগাযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দৃশ্যমান মাধ্যম। যেখানে ছবি, প্রতীক বা চিহ্নের মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হয়।
ট্রাফিক সিগন্যাল: লাল আলো মানে থামা, সবুজ মানে যাওয়া।
সাইন বোর্ড: যেমন—নো স্মোকিং (No Smoking) বা শৌচাগারের চিহ্ন।
ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনুশীলন (Check Your Progress):
১. আমরা যখন মাথা নেড়ে ‘হ্যাঁ’ বলি, সেটি কোন ধরণের যোগাযোগ? ২. কার্যকর যোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘আই কন্টাক্ট’ বা চোখে চোখ রাখা কেন প্রয়োজন? ৩. একটি উদাহরণ দাও যেখানে মৌখিক ও অবাচনিক যোগাযোগ একসাথে কাজ করে।
শিক্ষকের পরামর্শ: তোমরা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার অভ্যাস করো এবং লক্ষ্য করো তোমাদের হাত ও মুখের ভঙ্গি কেমন হচ্ছে। এটি তোমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে।
ইউনিটের পরবর্তী তিনটি সেশন (৪, ৫ ও ৬)
নবম শ্রেণির Employability Skills বইয়ের প্রথম ইউনিটের পরবর্তী তিনটি সেশন (৪, ৫ ও ৬) নিচে সহজ বাংলা ব্যাখ্যাসহ আলোচনা করা হলো:
Unit 1 – Session 4: লিখন দক্ষতা—পদ বা শব্দের শ্রেণিবিভাগ (Writing Skills: Parts of Speech)
লিখন দক্ষতা বা Writing Skills যেকোনো ভাষার যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইংরেজিতে লেখার সময় আমরা বিভিন্ন ধরণের শব্দ ব্যবহার করি, যেগুলোকে ‘Parts of Speech’ বলা হয়।
প্রধান আটটি Parts of Speech:
Noun (বিশেষ্য): কোনো ব্যক্তি, বস্তু, স্থান বা ধারণার নাম।
উদাহরণ: রাম (Ram), কলকাতা (Kolkata), বই (Book)।
Pronoun (সর্বনাম): বিশেষ্য বা নামের পরিবর্তে যে শব্দ বসে।
উদাহরণ: সে (He/She), আমি (I), তারা (They)।
Verb (ক্রিয়া): যে শব্দ দিয়ে কোনো কাজ করা বোঝায়।
উদাহরণ: পড়া (Read), দৌড়ানো (Run), খাওয়া (Eat)।
Adjective (বিশেষণ): যা বিশেষ্য বা সর্বনামের গুণ, দোষ বা অবস্থা বোঝায়।
উদাহরণ: লম্বা (Tall), সুন্দর (Beautiful), ভালো (Good)।
Adverb (ক্রিয়াবিশেষণ): যা ক্রিয়া বা বিশেষণের কাজ কীভাবে হচ্ছে তা বোঝায়।
উদাহরণ: দ্রুত (Quickly), খুব (Very), জোরে (Loudly)।
Preposition (পদান্বয়ী অব্যয়): যা নামপদের আগে বসে বাক্যের অন্য শব্দের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে।
উদাহরণ: উপরে (On), ভিতরে (In), কাছে (Near)।
Conjunction (সংযোজক অব্যয়): যা দুটি শব্দ বা বাক্যকে জোড়া দেয়।
উদাহরণ: এবং (And), কিন্তু (But), অথবা (Or)।
Interjection (আবেগসূচক অব্যয়): যা মনের আকস্মিক আবেগ বা অনুভূতি প্রকাশ করে।
উদাহরণ: সাবাস! (Bravo!), উফ! (Alas!)।
Unit 1 – Session 5: লিখন দক্ষতা—বাক্য (Writing Skills: Sentences)
একটি সম্পূর্ণ মনের ভাব প্রকাশের জন্য কতগুলো শব্দ সঠিক ক্রমে সাজালে তাকে বাক্য (Sentence) বলে।
১. বাক্যের প্রধান দুটি অংশ:
Subject (উদ্দেশ্য): বাক্যে যার সম্পর্কে কিছু বলা হয়।
Predicate (বিধেয়): উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়।
উদাহরণ: “The cat is sleeping.” (এখানে ‘The cat’ হলো Subject এবং ‘is sleeping’ হলো Predicate)।
২. বাক্যের ধরণ (Types of Sentences):
Assertive/Statement (বিবৃতিমূলক): সাধারণ তথ্য প্রদান করে। (উদা: I go to school.)
Interrogative (প্রশ্নবোধক): কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করা হয়। (উদা: Where are you going?)
Exclamatory (আবেগসূচক): গভীর অনুভূতি বা বিস্ময় প্রকাশ করে। (উদা: What a beautiful flower!)
Imperative (আদেশ/অনুরোধ): আদেশ, অনুরোধ বা উপদেশ বোঝায়। (উদা: Please open the door.)
Unit 1 – Session 6: উচ্চারণের প্রাথমিক ধারণা (Pronunciation Basics)
যোগাযোগের ক্ষেত্রে শুধু শব্দ জানলেই হয় না, তা সঠিকভাবে উচ্চারণ করাও শিখতে হয়। ভুল উচ্চারণ অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে।
১. উচ্চারণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আপনার কথা যাতে অন্যেরা সহজে বুঝতে পারে।
কথা বলার সময় আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
শ্রোতার সাথে সঠিক সংযোগ তৈরি হয়।
২. উচ্চারণের মূল উপাদান (Phonetics):
ইংরেজি বর্ণমালার ২৬টি বর্ণের মোট ৪৪টি শব্দ (Sounds) আছে। এর মধ্যে প্রধান দুটি হলো:
Vowels (স্বরবর্ণ): a, e, i, o, u. এই পাঁচটি বর্ণ স্বর তৈরি করতে সাহায্য করে।
Consonants (ব্যঞ্জনবর্ণ): স্বরবর্ণ ছাড়া বাকি ২১টি বর্ণ।
৩. সঠিক উচ্চারণের কিছু টিপস:
মন দিয়ে শোনা (Listening): ভালো ইংরেজি বক্তারা কীভাবে কথা বলছেন তা মন দিয়ে শুনুন।
ডিকশনারি ব্যবহার: কোনো শব্দের সঠিক উচ্চারণ জানতে স্মার্টফোনে ডিকশনারি অ্যাপের সাহায্য নিন।
আয়নার সামনে অভ্যাস: কথা বলার সময় আপনার মুখ ও জিভের নড়াচড়া লক্ষ্য করুন।
ধীরে কথা বলা: প্রথমে তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ও স্পষ্ট করে শব্দ উচ্চারণ করার চেষ্টা করুন।
শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ টিপস: লেখার সময় Punctuation (দাড়ি, কমা, জিজ্ঞাসাচিহ্ন) এবং উচ্চারণের সময় Syllable (শব্দের খণ্ড অংশ) এর দিকে নজর দিলে তোমাদের ইংরেজি ও বাংলা—উভয় ভাষাতেই দক্ষতা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
ইউনিটের শেষ চারটি সেশন (৭, ৮, ৯ ও ১০)
নবম শ্রেণির Employability Skills বইয়ের প্রথম ইউনিটের শেষ চারটি সেশন (৭, ৮, ৯ ও ১০) নিচে অত্যন্ত সহজভাবে এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ আলোচনা করা হলো:
Unit 1 – Session 7: অভিবাদন এবং পরিচয় (Greetings and Introduction)
কারোর সাথে দেখা হলে আমরা কীভাবে কথা শুরু করি, সেটাই হলো অভিবাদন বা Greetings। এটি সুসম্পর্ক তৈরির প্রথম ধাপ।
১. অভিবাদনের প্রকারভেদ:
Formal Greetings (আঞ্চলিক/প্রথাগত): শিক্ষক, বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি বা অপরিচিতদের সাথে কথা বলার সময় এটি ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণ: Good morning, Good afternoon, Good evening, How are you?
Informal Greetings (অনানুষ্ঠানিক): বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলার সময় এটি ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: Hi, Hello, Hey, What’s up?
২. নিজের পরিচয় দেওয়া (Introduction):
নতুন কারোর সাথে দেখা হলে আমরা কীভাবে নিজেদের পরিচয় দেব?
নিজের নাম বলা (I am Biswarup / My name is…)
আপনি কী করেন বা কোথায় পড়েন তা জানানো।
অন্যের নাম জিজ্ঞাসা করা (What is your name? / Nice to meet you.)
Unit 1 – Session 8: নিজের সম্পর্কে কথা বলা (Talking about Self)
নিজের সম্পর্কে গুছিয়ে বলতে পারা একটি বড় দক্ষতা। ইন্টারভিউ বা নতুন ক্লাসে এটি খুব কাজে লাগে।
নিজের সম্পর্কে বলার মূল বিষয়গুলো:
নাম ও বয়স: আপনার নাম এবং কত বছর বয়স।
বাসস্থান: আপনি কোথায় থাকেন (I live in Jangipara)।
শিক্ষা: আপনি কোন ক্লাসে বা কোন স্কুলে পড়েন।
পছন্দ-অপছন্দ (Likes/Dislikes): আপনার শখ বা কী করতে ভালো লাগে (I like reading books / I enjoy playing cricket)।
সামর্থ্য (Strengths): আপনি কোন কাজে দক্ষ (I am good at Mathematics)।
Unit 1 – Session 9: প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা—১ (Asking Questions I)
সঠিক তথ্য জানার জন্য প্রশ্ন করা অত্যন্ত জরুরি। এই সেশনে আমরা শিখব কীভাবে নির্দিষ্ট তথ্য জানতে প্রশ্ন করতে হয়।
১. ‘Wh’ প্রশ্ন (Wh- Questions):
ইংরেজি প্রশ্ন তৈরিতে ‘Wh’ শব্দগুলো গুরুত্বপূর্ণ:
Who (কে): ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে (Who is your teacher?)
Where (কোথায়): স্থান সম্পর্কে জানতে (Where is your home?)
When (কখন): সময় সম্পর্কে জানতে (When do you study?)
What (কী): বস্তু বা কাজ সম্পর্কে জানতে (What are you doing?)
Why (কেন): কারণ জানতে (Why are you late?)
Unit 1 – Session 10: প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা—২ (Asking Questions II)
এই সেশনে আমরা শিখব আরও গভীর ও সরাসরি প্রশ্ন করার ধরণ। প্রশ্ন মূলত দুই প্রকারের হয়:
১. ক্লোজ-এন্ডেড প্রশ্ন (Close-ended Questions):
যেসব প্রশ্নের উত্তর কেবল ‘হ্যাঁ’ (Yes) অথবা ‘না’ (No)-তে দেওয়া যায়।
উদাহরণ: Are you hungry? (তুমি কি ক্ষুধার্ত?), Can you swim? (তুমি কি সাঁতার কাটতে পারো?)
এগুলো সাধারণত ‘Do’, ‘Does’, ‘Is’, ‘Are’ দিয়ে শুরু হয়।
২. ওপেন-এন্ডেড প্রশ্ন (Open-ended Questions):
যেসব প্রশ্নের উত্তর বিস্তারিত দিতে হয়, শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিয়ে হয় না।
উদাহরণ: How was your day? (তোমার দিনটি কেমন ছিল?), What do you think about this? (এই বিষয়ে তুমি কী ভাবছো?)
প্রশ্ন করার সময় মনে রাখার বিষয়:
প্রশ্ন করার সময় কণ্ঠস্বরের শেষে একটু উঁচু গ্রাম বা ‘Rising Tone’ ব্যবহার করতে হয়।
প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?) ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।
শিক্ষার্থীদের জন্য সারসংক্ষেপ:
এই দশটি সেশন সম্পূর্ণ করার মাধ্যমে তোমরা শিখলে কীভাবে কথা বলতে হয়, কীভাবে লিখতে হয় এবং কীভাবে প্রশ্ন করে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। এই দক্ষতাগুলো তোমাদের আগামী দিনের ক্যারিয়ার বা কর্মসংস্থানে অনেক সাহায্য করবে।
অনুশীলনী: তোমরা একে অপরের সাথে ‘Wh’ প্রশ্ন ব্যবহার করে কথা বলার অভ্যাস করো। যেমন: “Where do you want to go for a trip?” বা “Who is your favorite player?”
