📚 Education for all Empowering students since May 2020
📍 জাঙ্গীপাড়া, Hooghly
Padma Shri Award Celebration history significance and 2022 awardees in Bengali

Padma Shri (পদ্মশ্রী)

পদ্মশ্রী (Padma Shri) পুরস্কার: ইতিহাস, তাৎপর্য, পদকের বৈশিষ্ট্য এবং ২০২৩–২০২৬ সালের বিশিষ্ট প্রাপকদের তালিকা

ভারতবর্ষের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসা, সমাজসেবা, ক্রীড়া এবং জনকল্যাণমূলক ক্ষেত্রে দেশ ও জাতির অগ্রগতিতে যাঁরা অসামান্য অবদান রেখেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভারত সরকার প্রতি বছর মর্যাদাপূর্ণ পদ্ম পুরস্কার (Padma Awards) প্রদান করে। এই অসামরিক সম্মাননা কাঠামোর চতুর্থ স্তরটি হলো পদ্মশ্রী (Padma Shri)। ১৯৫৪ সালে প্রবর্তিত এই সম্মাননা শুধুমাত্র খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বদেরই নয়, বরং সমাজের তৃণমূল স্তরে নিরবে কাজ করে যাওয়া বহু নিঃস্বার্থ প্রতিভাকেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দেয়। এই বিস্তারিত প্রতিবেদনে পদ্মশ্রী পুরস্কারের ইতিহাস, তাৎপর্য, নির্বাচনের নিয়মাবলী এবং সাম্প্রতিক বছরগুলির বিশিষ্ট প্রাপকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তুলে ধরা হলো।

💡 সাংবিধানিক তথ্য: ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮(১) অনুযায়ী পদ্ম সম্মাননা কোনো উপাধি (Titles) নয়; তাই প্রাপকগণ তাঁদের নামের পূর্বে বা পরে উপসর্গ বা অনুসর্গ হিসেবে ‘পদ্মশ্রী’ শব্দটি ব্যবহার করতে পারেন না (১৯৯৫ সালের সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক রায়)।


১. ভারতের বেসামরিক সম্মাননাসমূহের স্তরবিন্যাস (Civilian Awards Hierarchy)

ভারত সরকারের প্রদত্ত অসামরিক সম্মাননাগুলিকে মর্যাদাক্রম অনুসারে চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়:

১ম স্তর: ভারতরত্ন (Bharat Ratna)

দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। মানবসেবার যেকোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যতিক্রমী অবদানের জন্য প্রদান করা হয়।

২য় স্তর: পদ্মবিভূষণ (Padma Vibhushan)

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান। যেকোনো ক্ষেত্রে “ব্যতিক্রমী ও বিশিষ্ট সেবাকর্মের” (Exceptional and Distinguished Service) জন্য দেওয়া হয়।

৩য় স্তর: পদ্মভূষণ (Padma Bhushan)

তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান। যেকোনো ক্ষেত্রে “উচ্চপর্যায়ের বিশিষ্ট সেবাকর্মের” (Distinguished Service of High Order) জন্য প্রদত্ত হয়।

৪র্থ স্তর: পদ্মশ্রী (Padma Shri)

চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান। শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান, ক্রীড়া, সমাজসেবাসহ যেকোনো ক্ষেত্রে “বিশিষ্ট সেবাকর্মের” (Distinguished Service) জন্য প্রদান করা হয়।


২. পদ্মশ্রী পুরস্কারের ইতিহাস ও তাৎপর্য (History & Significance)

১৯৫৪ সালের ২রা জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পদ্ম পুরস্কারের সূচনা হয়। প্রথমদিকে এটি ‘পদ্মবিভূষণ তিসরা বর্গ’ (Class III) নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালের ৮ই জানুয়ারি এক রাষ্ট্রপতির সনদের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক নাম পরিবর্তন করে ‘পদ্মশ্রী’ রাখা হয়।

পদ্মশ্রী সম্মাননার বিশেষ তাৎপর্য:

  • সর্বজনীন স্বীকৃতি: জাতপাত, ধর্ম, পেশা বা লিঙ্গভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের যেকোনো গঠনমূলক ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ কাজের মূল্যায়ন করা হয়।
  • তৃণমূল প্রতিভার অন্বেষণ (People’s Padma): সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত সরকার ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদের মনোনয়নের সুযোগ দিয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ হস্তশিল্পী, জৈব চাষী, লোকসংগীত শিল্পী ও প্রান্তিক সমাজসেবকদের কাজ জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পাচ্ছে।
  • আন্তর্জাতিক মাত্রা: ভারতীয় নাগরিক ছাড়াও যেসব বিদেশি নাগরিক, অনাবাসী ভারতীয় (NRI) বা ভারতীয় বংশোদ্ভূত (PIO/OCI) ব্যক্তিত্ব ভারতের সংস্কৃতি, সাহিত্য ও উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন, তাঁদেরও এই সম্মানে ভূষিত করা হয়।
  • মরণোত্তর স্বীকৃতি: বিশেষ ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাম্প্রতিককালে প্রয়াত গুণীজনদের মরণোত্তর (Posthumously) পদ্মশ্রী প্রদান করা হয়।

৩. পদকের নকশা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া (Medal Design & Nomination)

পদ্মশ্রী পদকটি কলকাতার আলিপুর টাঁকশালে (Alipore Mint) ব্রোঞ্জের ওপর জ্যামিতিক প্যাটার্নে অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে তৈরি করা হয়:

পদকের গঠন ও নকশা

• পদকের সম্মুখভাগে একটি বৃত্তাকার জ্যামিতিক নকশার কেন্দ্রে একটি প্রস্ফুটিত পদ্মফুল (Lotus) খোদাই করা থাকে। পদ্মের ওপরে দেবনাগরী হরফে ‘পদ্ম’ (पद्म) এবং নিচে ‘শ্রী’ (श्री) লেখা থাকে।
• উল্টো পিঠে ভারতের জাতীয় প্রতীক ‘অশোক স্তম্ভ’ এবং নিচে মূলমন্ত্র ‘সত্যমেব জয়তে’ উৎকীর্ণ থাকে।
• পদকটিতে ঝুলিয়ে পরার জন্য গোলাপি রঙের রেশমি ফিতা (Lotus-pink ribbon) ব্যবহৃত হয়, যার ওপর তিনটি সরু সাদা রেখা থাকে।

নির্বাচন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া

• প্রতি বছর প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক গঠিত পদ্ম পুরস্কার কমিটি (Padma Awards Committee) সমস্ত মনোনয়ন যাচাই করে। এই কমিটির প্রধান থাকেন কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিব
• প্রতি বছর ১লা মে থেকে ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় পুরস্কার পোর্টালে মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়।
• প্রতি বছর ২৫শে জানুয়ারি (প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে) সরকারিভাবে নাম ঘোষণা করা হয় এবং রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি স্বহস্তে পদক ও সনদপত্র তুলে দেন।


৪. ২০২৩ সালের উল্লেখযোগ্য পদ্মশ্রী প্রাপকদের তালিকা (Recipients 2023)

২০২৩ সালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য মোট ৯১ জন ব্যক্তিত্বকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল। নিচে তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বিশিষ্ট প্রাপকের বিবরণ দেওয়া হলো:

প্রাপকের নাম (Recipient Name) কাজের ক্ষেত্র (Field) রাজ্য / দেশ (State / Country) বিশেষ অবদান ও পরিচিতি
এম. এম. কীরবাণী (M. M. Keeravani) শিল্পকলা (সঙ্গীত পরিচালনা) অন্ধ্রপ্রদেশ অস্কার ও গোল্ডেন গ্লোব বিজয়ী সুরকার (গান: ‘নাটু নাটু’ – RRR চলচ্চিত্র)।
আনন্দ কুমার (Anand Kumar) সাহিত্য ও শিক্ষা বিহার দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের আইআইটি প্রবেশিকার জন্য বিখ্যাত ‘সুপার ৩০’ (Super 30)-এর প্রতিষ্ঠাতা।
রতন চন্দ্র কর (Dr. Ratan Chandra Kar) চিকিৎসা আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ বিলুপ্তপ্রায় জারোয়া উপজাতিদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনরক্ষায় আজীবন অবদানের জন্য।
জোধাইয়া বাই বাইগা (Jodhaya Bai Baiga) শিল্পকলা (চিত্রকলা) মধ্যপ্রদেশ বাইগা আদিবাসী লোকচিত্রকলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরা প্রবীণ শিল্পী।
হেমন্ত চৌহান (Hemant Chauhan) শিল্পকলা (সংগীত) গুজরাট গুজরাটি ভজন ও লোকসংগীতের প্রখ্যাত গায়ক ও সুরকার।
হেমোপ্রভা চুতিয়া (Hemoprova Chutia) শিল্পকলা (বস্ত্রবয়ন) আসাম তাঁতে তুলো ও সিল্কের সুতো দিয়ে ভগবদগীতা ও গুণমালা গ্রন্থ বয়নকারী হস্তশিল্পী।
মগুনি চরণ কুঁয়ার (Maguni Charan Kuanr) শিল্পকলা (পুতুলনাচ) ওড়িশা ঐতিহ্যবাহী কাঠি পুতুলনাচ (Rod Puppetry) সংরক্ষণে আজীবন সাধক।
সুকমা আচার্য (Sukama Acharya) অন্যান্য (আধ্যাত্মিকতা) হরিয়ানা মহিলা শিক্ষার বিকাশ এবং গুরুকুল শিক্ষার আধুনিক প্রসারে সমাজসেবী।
রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা (মরণোত্তর) ব্যবসা ও শিল্প মহারাষ্ট্র ভারতের প্রখ্যাত বিনিয়োগকারী, স্টক ট্রেডার এবং আকাformat এয়ারলাইন্সের প্রতিষ্ঠাতা।
সুজাতা রামদোরায় (Sujatha Ramdorai) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কানাডা (NRI) বীজগাণিতিক সংখ্যাতত্ত্ব ও ইওয়াসাওয়া তত্ত্বে অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক গণিতবিদ।

৫. ২০২৪ সালের উল্লেখযোগ্য পদ্মশ্রী প্রাপকদের তালিকা (Recipients 2024)

২০২৪ সালে ভারত সরকার মোট ১১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করেছে। নিচে তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের তালিকা দেওয়া হলো:

প্রাপকের নাম (Recipient Name) কাজের ক্ষেত্র (Field) রাজ্য / দেশ (State / Country) বিশেষ অবদান ও পরিচিতি
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা (Rezwana Choudhury Bannya) শিল্পকলা (রবীন্দ্রসঙ্গীত) বাংলাদেশ (Foreigner) বাংলা সংস্কৃতি ও রবীন্দ্রসঙ্গীতের আন্তর্জাতিক প্রচারক ও প্রথিতযশা সংগীতশিল্পী।
রতন কাহার (Ratan Kahar) শিল্পকলা (লোকসংগীত) পশ্চিমবঙ্গ (বীরভূম) বিখ্যাত ভাদু ও লোকগান ‘বড়লোকের বিটি লো’-এর মূল স্রষ্টা ও বাউল শিল্পী।
রোহন বোপান্না (Rohan Bopanna) খেলাধুলা (টেনিস) কর্ণাটক সবচেয়ে প্রবীণ খেলোয়াড় হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ডাবলস গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী টেনিস তারকা।
জোশনা চিনাপ্পা (Joshna Chinappa) খেলাধুলা (স্কোয়াশ) তামিলনাড়ু এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত তারকা স্কোয়াশ খেলোয়াড়।
চামি মুর্মু (Chami Murmu) সমাজসেবা (পরিবেশ সংরক্ষণ) ঝাড়খণ্ড মহিলা স্বনির্ভরতা এবং ৩০ লক্ষেরও বেশি গাছ লাগিয়ে বনাঞ্চল গড়ে তোলা ‘লেডি টারজান’।
গৌরব খান্না (Gaurav Khanna) খেলাধুলা (প্যারা-ব্যাডমিন্টন কোচ) উত্তরপ্রদেশ ভারতীয় প্যারা-ব্যাডমিন্টন দলের প্রধান কোচ ও দ্রোণাচার্য পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রশিক্ষক।
হরবিন্দর সিং (Harvinder Singh) খেলাধুলা (প্যারা-তিরন্দাজি) দিল্লি / হরিয়ানা টোকিও প্যারালিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ ও এশিয়ান প্যারা গেমসে স্বর্ণপদকজয়ী তিরন্দাজ।
একলব্য শর্মা (Dr. Eklabya Sharma) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (বাস্তুবিদ্যা) পশ্চিমবঙ্গ হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে বিশিষ্ট পরিবেশবিজ্ঞানী।
কল্পনা মোরপারিয়া (Kalpana Morparia) ব্যবসা ও শিল্প মহারাষ্ট্র ভারতীয় ব্যাঙ্কিং ও আর্থিক খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রভাবশালী নারী কর্ণধার।
শশী সোনি (Shashi Soni) ব্যবসা ও শিল্প কর্ণাটক মহিলা ক্ষমতায়ন ও ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগ গড়ে তোলা সফল নারী উদ্যোক্তা।

৬. ২০২৬ সালের উল্লেখযোগ্য পদ্মশ্রী প্রাপকদের তালিকা (Recipients 2026)

২০২৬ সালের সাধারণতন্ত্র দিবসে ভারত সরকার কর্তৃক কলা, বিজ্ঞান, ক্রীড়া ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিভিন্ন কৃতি ব্যক্তিত্বকে পদ্মশ্রী সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। নিচে তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির তালিকা দেওয়া হলো:

প্রাপকের নাম (Recipient Name) কাজের ক্ষেত্র (Field) রাজ্য / দেশ (State / Country) বিশেষ অবদান ও পরিচিতি
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee) শিল্পকলা (চলচ্চিত্র অভিনয়) পশ্চিমবঙ্গ বাংলা বাণিজ্যিক ও সমান্তরাল চলচ্চিত্রে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অনন্য অবদানের জন্য।
রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) খেলাধুলা (ক্রিকেট) মহারাষ্ট্র আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও তারকা ওপেনার।
হরমনপ্রীত কৌর (Harmanpreet Kaur) খেলাধুলা (ক্রিকেট) পাঞ্জাব ভারতীয় মহিলা জাতীয় ক্রিকেট দলের সফল অধিনায়ক ও তারকা অলরাউন্ডার।
পণ্ডিত তরুণ ভট্টাচার্য (Pt. Tarun Bhattacharya) শিল্পকলা (শাস্ত্রীয় সংগীত – সন্তুর) পশ্চিমবঙ্গ মাইহার ঘরানার বিশ্ববিখ্যাত ভারতীয় সন্তুর বাদক ও উদ্ভাবক।
পণ্ডিত কুমার বসু (Pt. Kumar Bose) শিল্পকলা (শাস্ত্রীয় সংগীত – তবলা) পশ্চিমবঙ্গ বেনারস ঘরানার প্রথিতযশা তবলা বাদক ও সংগীতগুরু।
ড. মহেন্দ্রনাথ রায় (Dr. Mahendra Nath Roy) সাহিত্য ও শিক্ষা (রসায়ন বিজ্ঞান) পশ্চিমবঙ্গ উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক ও থার্মোডাইনামিক্স রসায়নবিদ।
ড. সরোজ মণ্ডল (Dr. Saroj Mandal) চিকিৎসা (হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ) পশ্চিমবঙ্গ পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট এবং সাধারণ মানুষের সুলভ চিকিৎসা সেবক।
বিদ্বুষী তৃপ্তি মুখার্জি (Tripti Mukherjee) শিল্পকলা (মেওয়াতি ঘরানা শাস্ত্রীয় সঙ্গীত) পশ্চিমবঙ্গ / USA পণ্ডিত যশরাজের প্রধান শিষ্যা ও আন্তর্জাতিক ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত প্রচারক।
সতীশ শাহ (মরণোত্তর) (Satish Shah) শিল্পকলা (অভিনয় ও কমেডি) মহারাষ্ট্র হিন্দি সিনেমা ও টেলিভিশন নাটকের কিংবদন্তি অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী।
ড. এ. ই. মুথুনায়াগম (Dr. A. E. Muthunayagam) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (মহাকাশ বিজ্ঞান) কেরল ইসরোর তরল প্রপালশন সিস্টেম সেন্টারের (LPSC) প্রতিষ্ঠাতা ও রকেট বিজ্ঞানী।
অনিল কুমার রাস্তোগি (Anil Kumar Rastogi) শিল্পকলা (থিয়েটার ও অভিনয়) উত্তরপ্রদেশ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে ভারতীয় নাটক ও চলচ্চিত্রের বিশিষ্ট অভিনেতা।
অশোক খাদে (Ashok Khade) ব্যবসা ও শিল্প মহারাষ্ট্র ডিআইসিসিআই-এর সফল দলিত শিল্পোদ্যোক্তা ও দাস অফশোর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কর্ণধার।
বলদেব সিং (Baldev Singh) খেলাধুলা (হকি কোচ) পাঞ্জাব / হরিয়ানা ভারতীয় মহিলা হকি দলের বহু আন্তর্জাতিক তারকা তৈরির দ্রোণাচার্য প্রশিক্ষক।

৭. সাধারণ জিজ্ঞাসা ও প্রশ্নোত্তর (Frequently Asked Questions – FAQs)

প্রশ্ন ১: পদ্মশ্রী পুরস্কারের সাথে কি কোনো নগদ অর্থ প্রদান করা হয়?
উত্তর: না, পদ্মশ্রী বা অন্য কোনো পদ্ম পুরস্কারের সাথে কোনো প্রকার নগদ অর্থ প্রদান করা হয় না। প্রাপককে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ও সিলমোহরযুক্ত একটি সনদপত্র (Sanad) এবং ব্রোঞ্জের পদক দেওয়া হয়।

প্রশ্ন ২: পদ্মশ্রী পুরস্কারের পদকটি কোথায় তৈরি করা হয়?
উত্তর: সমস্ত পদ্ম পুরস্কারের পদক ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার ঐতিহাসিক আলিপুর টাঁকশালে (Alipore Mint) তৈরি করা হয়।

প্রশ্ন ৩: এক বছরে সর্বোচ্চ কতজনকে পদ্ম পুরস্কার প্রদান করা যায়?
উত্তর: সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী এক বছরে মরণোত্তর এবং বিদেশি/এনআরআই প্রাপকদের বাদ দিয়ে মোট পদ্ম পুরস্কারের সংখ্যা ১২০ জনের বেশি হতে পারে না।

প্রশ্ন ৪: কোনো ব্যক্তি কি সরাসরি পদ্মভূষণ বা পদ্মবিভূষণ পেতে পারেন?
উত্তর: হ্যাঁ, বিশেষ ক্ষেত্রে সরাসরি উচ্চতর সম্মান দেওয়া যায়। তবে সাধারণত পদ্মশ্রী পাওয়ার পর অন্তত ৫ বছর অতিবাহিত না হলে উচ্চতর পদ্ম পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হয় না।

প্রশ্ন ৫: পদ্মশ্রী পুরস্কারের ঘোষণা প্রতি বছর কোন দিন করা হয়?
উত্তর: প্রতি বছর ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে অর্থাৎ ২৫শে জানুয়ারি সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কর্তৃক পদ্ম প্রাপকদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।


উপসংহার

পদ্মশ্রী পুরস্কার ভারতের সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক উৎকর্ষের প্রতীক। শিল্পকলার নিভৃত সাধক থেকে শুরু করে বিজ্ঞান ও চিকিৎসার আধুনিক আবিষ্কারক— সমাজের প্রতিটি প্রান্তের নিঃস্বার্থ সেবাকে সম্মান জানানোর মাধ্যমে এই পুরস্কার জাতির অগ্রযাত্রাকে উৎসাহিত করে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা যেমন WBCS, SSC CGL, Railways এবং রাজ্য পুলিশের পরীক্ষার কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ও স্ট্যাটিক জিকে অংশের জন্য পদ্মশ্রী প্রাপকদের নাম ও তাঁদের কাজের ক্ষেত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।

বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার ফ্রি অনলাইন স্টাডি মেটেরিয়াল ও মক টেস্ট পেতে নিয়মিত যুক্ত থাকুন আমাদের ওয়েবসাইট Educenters.in-এর সাথে। পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না!

Written by

Biswarup Santra
Author
Biswarup Santra
Writer , Editor , Devoloper,Teacher & Trainer (Telecom NSQF)

M.Tech in ECE, ToT Certified Trainer, Technical Guide Author & Developer. Biswarup Santra is a dedicated Teacher and Trainer for the Telecom NSQF. He holds an M.Tech degree in Electronics and Communication Engineering and has rich experience as the former Head of the Electronics and Telecommunication Engineering Department at Gobindapur Sephali Memorial Polytechnic College. Beyond his academic roles, he is a technical guide author, WordPress developer, and the creator of educational platforms for vocational and engineering students. He is deeply passionate about empowering students with modern technical skills.

Leave a Reply