📚 Education for all Empowering students since May 2020
📍 জাঙ্গীপাড়া, Hooghly
Elementary Microbiology: ব্যাকটেরিয়ার আকার, গ্রাম স্টেইন এবং গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট (Updated Guide)

ELEMENTARY MICROBIOLOGY

ELEMENTARY MICROBIOLOGY

Microbiology & prasitology


Elementary Microbiology: ব্যাকটেরিয়ার আকার, গ্রাম স্টেইন এবং গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট (Updated Guide)

মাইক্রোবায়োলজি (Microbiology) বা অণুজীববিজ্ঞান হলো বিজ্ঞানের সেই শাখা যেখানে আমরা খালি চোখে দেখা যায় না এমন সব ক্ষুদ্র অণুজীব (যেমন- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক এবং প্যারাসাইট) নিয়ে আলোচনা করি। মেডিকেল, নার্সিং এবং ফার্মাকোলজির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক মাইক্রোবায়োলজির ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে রোগ নির্ণয় এবং প্রতিরোধের ক্ষেত্রে মাইক্রোবায়োলজির জ্ঞান ছাড়া কোনোভাবেই অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়। এই আর্টিকেলে আমরা ব্যাকটেরিয়ার আকার, গ্রাম স্টেইন পদ্ধতি এবং টাইফয়েড ও সিফিলিসের মতো রোগ নির্ণয়ের গুরুত্বপূর্ণ টেস্টগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

১. ব্যাকটেরিয়ার আকার ও আকৃতি (Size and Shape of Bacteria)

ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত ক্ষুদ্র এককোষী জীব। এদের আকার সাধারণত মাইক্রোমিটার (µm) এককে মাপা হয়। একটি সাধারণ ব্যাকটেরিয়ার আকার ০.২ থেকে ২.০ মাইক্রোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। আকৃতি অনুযায়ী ব্যাকটেরিয়াকে মূলত তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:

  • কক্কাস (Cocci): গোলাকার বা ডিম্বাকার ব্যাকটেরিয়া। এরা একা বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। (উদাহরণ: Staphylococcus, Streptococcus)

  • ব্যাসিলাস (Bacilli): দণ্ডাকার বা রডের মতো আকৃতির ব্যাকটেরিয়া। (উদাহরণ: Escherichia coli, Bacillus anthracis)

  • স্পাইরিলাম (Spirilla): প্যাঁচানো বা সর্পিল আকৃতির ব্যাকটেরিয়া। (উদাহরণ: Treponema pallidum, Vibrio cholerae)

২. গ্রাম স্টেইন পদ্ধতি (Gram Stain Technique)

মাইক্রোবায়োলজিতে গ্রাম স্টেইন (Gram Stain) হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি রঞ্জক পদ্ধতি। ১৮৮৪ সালে ডেনিশ বিজ্ঞানী হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান গ্রাম (Hans Christian Gram) এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীরের (Cell Wall) বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এর মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়াকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:

  • গ্রাম-পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া (Gram-Positive): এদের কোষপ্রাচীরে পেপটিডোগ্লাইক্যান (Peptidoglycan) এর পুরু স্তর থাকে। এরা ক্রিস্টাল ভায়োলেট (Crystal Violet) রঙ ধরে রাখে এবং মাইক্রোস্কোপের নিচে বেগুনি (Purple) রঙের দেখায়।

  • গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া (Gram-Negative): এদের কোষপ্রাচীরে পেপটিডোগ্লাইক্যান এর স্তর পাতলা থাকে। এরা মূল রঙ ধরে রাখতে পারে না এবং কাউন্টার স্টেইন (Safranin) গ্রহণ করে মাইক্রোস্কোপের নিচে গোলাপি বা লাল (Pink/Red) রঙের দেখায়।

৩. গুরুত্বপূর্ণ ক্লিনিক্যাল টেস্ট (Important Clinical Tests)

রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ল্যাব টেস্টের ভূমিকা অপরিসীম। নিচে দুটি বহুল ব্যবহৃত টেস্ট নিয়ে আলোচনা করা হলো:

ক. উইডাল টেস্ট (Widal Test)

উইডাল টেস্ট হলো টাইফয়েড জ্বর (Typhoid Fever) নির্ণয়ের একটি সেরোলজিক্যাল পরীক্ষা।

  • কারণ: টাইফয়েড মূলত Salmonella typhi নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়।

  • কীভাবে কাজ করে: রোগীর রক্তে এই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি (O এবং H অ্যান্টিজেন) শনাক্ত করার মাধ্যমে এই টেস্ট করা হয়। এটি একটি অ্যাগ্লুটিনেশন (Agglutination) টেস্ট।

খ. ওয়াসারম্যান টেস্ট (Wassermann Test)

ওয়াসারম্যান টেস্ট হলো সিফিলিস (Syphilis) নামক যৌনবাহিত রোগ সনাক্তকরণের একটি অন্যতম পুরনো পদ্ধতি।

  • কারণ: সিফিলিস রোগটি Treponema pallidum নামক স্পাইরাল ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়।

  • পদ্ধতি: এটি একটি কমপ্লিমেন্ট ফিক্সেশন টেস্ট (Complement Fixation Test)। রোগীর রক্তে থাকা সিফিলিসের অ্যান্টিবডি শনাক্ত করতে এটি ব্যবহৃত হতো। (বর্তমানে এর পরিবর্তে VDRL বা RPR টেস্ট বেশি ব্যবহৃত হয়)।

৪. অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সেনসিটিভিটি টেস্টিং (AST)

বর্তমান সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। তাই কোনো ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হলে চিকিৎসকরা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সেনসিটিভিটি টেস্ট (AST) করতে দেন। এই টেস্টের মাধ্যমে ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা হয় যে, রোগীর শরীরে আক্রমণকারী নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াটিকে ধ্বংস করার জন্য কোন অ্যান্টিবায়োটিকটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে। এর ফলে রোগীকে সঠিক ও কার্যকরী চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব হয়।

৫. ব্যাকটেরিয়ার কিছু উপকারী দিক (Beneficial Aspects of Bacteria)

সাধারণত ব্যাকটেরিয়া বললেই আমরা শুধু রোগব্যাধির কথা ভাবি, তবে সব ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর নয়। আমাদের পরিবেশ এবং মানবদেহের জন্য অনেক ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত উপকারী ভূমিকা পালন করে:

  • খাদ্য শিল্পে: ল্যাকটোব্যাসিলাস (Lactobacillus) নামক ব্যাকটেরিয়া দুধ থেকে দই তৈরিতে সাহায্য করে।

  • মানবদেহে: আমাদের অন্ত্রে (Gut) থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো খাবার হজম করতে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন (যেমন- ভিটামিন কে) সংশ্লেষণে সাহায্য করে।

  • পরিবেশ রক্ষায়: পরিবেশের মৃত প্রাণী ও উদ্ভিদ পচিয়ে মাটিতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান ফিরিয়ে দিতে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য।


সাধারণ জিজ্ঞাস্য (FAQs)

১. গ্রাম-পজিটিভ এবং গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী? প্রধান পার্থক্য হলো এদের কোষপ্রাচীরে। গ্রাম-পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর পুরু হয় এবং এরা বেগুনি রঙ ধারণ করে। অন্যদিকে গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর পাতলা হয় এবং এরা লাল বা গোলাপি রঙ ধারণ করে।

২. উইডাল টেস্ট কেন করা হয়? শরীরে টাইফয়েড বা এন্টেরিক ফিভার সৃষ্টিকারী Salmonella ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি এবং এর বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি শনাক্ত করার জন্য রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে উইডাল টেস্ট করা হয়।

৩. সিফিলিস রোগ কোন ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়? সিফিলিস রোগটি Treponema pallidum নামক স্পাইরাল বা প্যাঁচানো আকৃতির ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে।

৪. অ্যান্টিবায়োটিক কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে? অ্যান্টিবায়োটিক হলো এমন এক ধরনের ওষুধ যা শরীর আক্রমণকারী ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে বা তাদের বৃদ্ধি রোধ করে। তবে মনে রাখতে হবে, অ্যান্টিবায়োটিক শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, ভাইরাসের (যেমন- সর্দি বা ফ্লু) বিরুদ্ধে এটি অকার্যকর।

Leave a Reply