ICT Skills (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দক্ষতা)
Unit 3: ICT Skills (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দক্ষতা)
Unit 3 ICT Skills
স্বাগতম, ভবিষ্যৎ ডিজিটাল লিডাররা!
তোমরা জানো যে আজকের যুগ হলো তথ্যের যুগ, প্রযুক্তির যুগ। শুধুমাত্র পড়াশোনা নয়, ভবিষ্যতে যেকোনো চাকরিতে বা ব্যবসায় সফল হতে গেলে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের প্রাথমিক জ্ঞান থাকা এখন অপরিহার্য। তোমাদের Employability Skills বইয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ‘Unit 3: ICT Skills’ বা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দক্ষতা।
Educenters.in-এর এই বিশেষ পাতায় আমরা এই সম্পূর্ণ ইউনিটের সমস্ত সেশন (Session 1 থেকে Session 12) অত্যন্ত সহজ বাংলা ভাষায় এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ আলোচনা করব। এখানে তোমরা শিখবে কম্পিউটার কীভাবে চালু ও বন্ধ করতে হয়, ফাইল-ফোল্ডার কীভাবে গুছিয়ে রাখতে হয়, এবং কীভাবে নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ই-মেইল পাঠানো ও গ্রহণ করা যায়।
চলো, এই ডিজিটাল জগত সম্পর্কে নতুন কিছু শিখে নিজেদের আগামী দিনের জন্য আরও দক্ষ করে তুলি! মন দিয়ে প্রতিটি সেশন পড়ো এবং স্কুলে বা বাড়িতে সুযোগ পেলে অবশ্যই হাতে-কলমে অনুশীলন করো।
ICT Skills (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দক্ষতা) syllabus
Employability Skills: Syllabus (Class IX)
বৃত্তিমূলক দক্ষতা: পাঠ্যসূচি (নবম শ্রেণি)
Unit 3: ICT Skills (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দক্ষতা)
Session 1: Introduction to ICT (আইসিটি-র পরিচিতি)
Session 2: ICT Tools: Smartphones and Tablets — I (আইসিটি সরঞ্জাম: স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট — ১)
Session 3: ICT Tools: Smartphones and Tablets — II (আইসিটি সরঞ্জাম: স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট — ২)
Session 4: Parts of Computer and Peripherals (কম্পিউটারের অংশ এবং পেরিফেরালস)
Session 5: Basic Computer Operations (কম্পিউটার পরিচালনার প্রাথমিক নিয়মাবলী)
Session 6: Performing Basic File Operations (ফাইলের প্রাথমিক কাজসমূহ সম্পাদন)
Session 7: Basics of Internet (ইন্টারনেটের প্রাথমিক ধারণা)
Session 8: Internet Browsing (ইন্টারনেট ব্রাউজিং)
Session 9: Introduction to e-mail (ই-মেইল পরিচিতি)
Session 10: Creating an e-mail Account (ই-মেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি করা)
Session 11: Writing an e-mail (ই-মেইল লেখা)
Session 12: Receiving and Replying to e-mails (ই-মেইল গ্রহণ এবং উত্তর দেওয়া)
Introduction to ICT (আইসিটি-র পরিচিতি)
হ্যালো আমার স্নেহের ছাত্র-ছাত্রীরা! কেমন আছো তোমরা সবাই? তোমাদের বন্ধু এবং শিক্ষক হিসেবে আজ আমি তোমাদের সাথে একটি খুব মজার এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় হলো তোমাদের Employability Skills বইয়ের Unit 3: ICT Skills (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দক্ষতা) – Session 1: Introduction to ICT (আইসিটি-র পরিচিতি)।
চলো, খুব সহজে এবং বিস্তারিতভাবে বিষয়টি বুঝে নিই!
১. ICT বা আইসিটি কী? (What is ICT?)
ICT-এর পুরো নাম হলোInformation and Communication Technology (ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি) বা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।
সহজ কথায় বলতে গেলে, যে প্রযুক্তির সাহায্যে আমরা বিভিন্ন তথ্য তৈরি করতে, সংরক্ষণ করতে, পরিচালনা করতে এবং একে অপরের সাথে আদান-প্রদান করতে পারি, তাকেই ICT বলা হয়।
এর মধ্যে মূলত কম্পিউটার, ইন্টারনেট, রেডিও, টেলিভিশন এবং টেলিফোন বা মোবাইল ফোন অন্তর্ভুক্ত থাকে।
২. তথ্য ও ডিজিটাল রূপ (Information and Digital Form)
আগে মানুষ খাতায় কলমে লিখে বা টাইপরাইটারে টাইপ করে তথ্য সংরক্ষণ করতো।
কিন্তু এখন আমরা যখন কোনো তথ্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসে (যেমন কম্পিউটারে বা মোবাইলে) জমা করে রাখি, তখন সেটাকে তথ্যের‘ডিজিটাল রূপ’ বা Digital form বলা হয়।
৩. আইসিটি টুলস বা সরঞ্জাম (ICT Tools)
আমাদের পরিচিত কিছু প্রধান ICT টুলস হলো: স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং ট্যাবলেট।
এই টুলস বা ডিভাইসগুলোর সাহায্যে আমরা যেকোনো সময় এবং যেকোনো জায়গা থেকে খুব সহজেই তথ্য ও রিসোর্স পেতে পারি।
৪. কর্মক্ষেত্রে আইসিটির ব্যবহার (ICT at Workplace)
আজকাল অফিস-আদালত থেকে শুরু করে সব জায়গাতেই ICT-র ব্যবহার অপরিহার্য।
অনলাইন ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে টাকা লেনদেন থেকে শুরু করে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই তৈরি বা গবেষণার কাজে আইসিটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
কর্মক্ষেত্রে বা অফিসে আমরা বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে ডকুমেন্ট তৈরি, হিসাব-নিকাশ, টেবিল বা গ্রাফ তৈরির কাজ করে থাকি।
এছাড়াও অনলাইনে জিনিসপত্র কেনাকাটা করা, ট্রেনের বা বাসের টিকিট বুক করা, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং এবং অনলাইনে পেমেন্ট করার জন্য আমরা বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন (App) ব্যবহার করি।
৫. বাড়িতে বা দৈনন্দিন জীবনে আইসিটির ব্যবহার (ICT at Home)
বাড়িতেও আমরা প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির সাথে যুক্ত:
আমরা বিনোদনের জন্য টেলিভিশন দেখি এবং একে অপরের সাথে কথা বলার জন্য ফোন ব্যবহার করি।
আজকাল ইন্টারনেট কানেকশন যুক্ত স্মার্টফোনের সাহায্যে আমরা ফেসবুক (Facebook), ইনস্টাগ্রাম (Instagram) বা টুইটারের (Twitter) মতো সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বন্ধু ও পরিবারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে পারি।
এছাড়াও, একে অপরের সাথে কথা বলতে, তথ্য আদান-প্রদান করতে, খবর বা ভিডিও দেখতে, গান শুনতে এবং গেম খেলতে আমরা কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকি।
৬. বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইসিটির প্রয়োগ (ICT in various Sectors)
আমাদের সমাজের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখন আইসিটির ব্যবহার রয়েছে। যেমন:
- কৃষি (Agriculture): কৃষিক্ষেত্রে নতুন গবেষণা এবং প্রশিক্ষণের জন্য।
- খুচরো ব্যবসা (Retail): এই ক্ষেত্রে কর্মীদের প্রশিক্ষণ বা ট্রেনিং দিতে।
- ব্যাঙ্কিং (Banking and Finance): ব্যাঙ্কিং, আর্থিক পরিষেবা এবং ইন্সুরেন্সের কাজে।
- স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা (Health Care): স্বাস্থ্য পরিষেবার বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক চিকিৎসায়।
শিক্ষকের ছোট্ট টিপস: বন্ধুরা, এখনকার ডিজিটাল যুগে সফল হতে গেলে এবং নিজেদের আপডেট রাখতে গেলে আইসিটি (ICT) স্কিল জানা খুব জরুরি। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে কম্পিউটার—সবকিছুই কিন্তু আইসিটির অংশ, যা আমাদের দৈনন্দিন কাজকে অনেক সহজ করে দেয়।
আশা করি আজকের এই ছোট্ট ক্লাসটি তোমাদের ভালো লেগেছে এবং বিষয়টি সহজভাবে বুঝতে পেরেছ। তোমাদের কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাকে নির্দ্বিধায় জিজ্ঞাসা করতে পারো! ভালো থেকো এবং মন দিয়ে পড়াশোনা করো।
Session 2: ICT Tools: Smartphones and Tablets — I (আইসিটি সরঞ্জাম: স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট — ১)
হ্যালো আমার প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা! আশা করি তোমরা সবাই খুব ভালো আছো এবং আগের ক্লাসটি খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছো। আজ আমরা তোমাদের Employability Skills বইয়ের Unit 3-এর Session 2: ICT Tools: Smartphones and Tablets — I (আইসিটি সরঞ্জাম: স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট — ১) নিয়ে আলোচনা করব।
আজকের দিনে স্মার্টফোন তো আমরা সবাই দেখেছি, তাই না? চলো, আজ এই যন্ত্রগুলো সম্পর্কে আরও কিছু মজার এবং শিক্ষণীয় তথ্য জেনে নিই!
Unit 3 – Session 2: আইসিটি সরঞ্জাম: স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট — ১
১. স্মার্টফোন কী? (What is a Smartphone?)
একটি সাধারণ মোবাইল ফোন দিয়ে আমরা শুধুমাত্র কল করতে বা মেসেজ পাঠাতে পারি। কিন্তু স্মার্টফোন (Smartphone) হলো এমন একটি মোবাইল ফোন, যা একটি ছোট কম্পিউটারের মতো কাজ করে।
স্মার্টফোনে আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারি, ছবি তুলতে পারি, ভিডিও দেখতে পারি, গেম খেলতে পারি এবং পড়াশোনার বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন (App) ব্যবহার করতে পারি।
এটি আকারে ছোট হওয়ায় খুব সহজেই পকেটে নিয়ে ঘোরা যায়।
২. ট্যাবলেট কী? (What is a Tablet?)
টাবলেট (Tablet) বা সংক্ষেপে যাকে আমরা ‘ট্যাব’ (Tab) বলি, সেটি স্মার্টফোনের চেয়ে আকারে একটু বড় কিন্তু ল্যাপটপের চেয়ে ছোট হয়।
ট্যাবলেটের স্ক্রিন বড় হওয়ার কারণে এটিতে বই পড়া, ছবি আঁকা বা ভিডিও দেখা খুব সুবিধাজনক।
ট্যাবলেটেও স্মার্টফোনের মতোই প্রায় সব কাজ করা যায়। কিছু কিছু ট্যাবলেটে সিম কার্ড (SIM card) লাগিয়ে ফোনও করা যায়।
৩. অপারেটিং সিস্টেম বা OS (Operating System)
স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট কীভাবে কাজ করবে, তা যে মূল প্রোগ্রামটি ঠিক করে, তাকে বলা হয় Operating System (OS) বা অপারেটিং সিস্টেম। এটি হলো যন্ত্রটির ‘মস্তিষ্ক’।
বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় কয়েকটি মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম হলো:
অ্যান্ড্রয়েড (Android): এটি গুগলের (Google) তৈরি। আমাদের চারপাশের বেশিরভাগ স্মার্টফোনেই এই অপারেটিং সিস্টেমটি থাকে।
আইওএস (Apple iOS): এটি অ্যাপল (Apple) কোম্পানির তৈরি এবং শুধুমাত্র আইফোন (iPhone) বা আইপ্যাডে (iPad) ব্যবহার করা হয়।
উইন্ডোজ (Windows Mobile): এটি মাইক্রোসফটের (Microsoft) তৈরি, তবে এখন এর ব্যবহার খুব কম।
৪. স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেটের সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ (Common Features)
যেকোনো স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটে সাধারণত নিচের অংশগুলো থাকে:
টাচ স্ক্রিন (Touch Screen): আমরা আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে বা সোয়াইপ (Swipe) করে যন্ত্রটি নিয়ন্ত্রণ করি।
ক্যামেরা (Camera): ছবি তোলা এবং ভিডিও কল করার জন্য সামনে ও পিছনে ক্যামেরা থাকে।
মাইক্রোফোন ও স্পিকার (Microphone & Speaker): কথা বলার জন্য মাইক্রোফোন এবং গান শোনা বা অন্যের কথা শোনার জন্য স্পিকার থাকে।
ব্যাটারি (Battery): যন্ত্রটিকে সচল রাখতে এর ভিতরে ব্যাটারি থাকে, যা চার্জ শেষ হলে কেবল (Cable) বা চার্জারের সাহায্যে আবার রিচার্জ করতে হয়।
৫. তারবিহীন যোগাযোগ বা ওয়্যারলেস কানেক্টিভিটি (Wireless Connectivity)
স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট তার (Wire) ছাড়াই অন্য যন্ত্র বা ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হতে পারে। এর প্রধান তিনটি মাধ্যম হলো:
ব্লুটুথ (Bluetooth): এটি দিয়ে খুব কাছাকাছি থাকা (প্রায় ৩০ ফুটের মধ্যে) দুটি যন্ত্রের মধ্যে ফাইল, ছবি বা গান আদান-প্রদান করা যায়।
ওয়াই-ফাই (Wi-Fi): এটি একটি তারবিহীন ইন্টারনেট সংযোগ। বাড়িতে, স্কুলে বা স্টেশনে থাকা Wi-Fi রাউটারের সাথে ফোন যুক্ত করে দ্রুতগতির ইন্টারনেট চালানো যায়।
মোবাইল নেটওয়ার্ক (Cellular Network): সিম কার্ডের (SIM Card) মাধ্যমে মোবাইল টাওয়ার থেকে যে ইন্টারনেট বা কলিং সংযোগ পাওয়া যায়, তাকে সেলুলার বা মোবাইল নেটওয়ার্ক বলে।
শিক্ষকের ছোট্ট টিপস:
বন্ধুরা, স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। পড়াশোনার ক্ষেত্রে এই যন্ত্রগুলো হলো জাদুর বাক্সের মতো। তবে মনে রাখবে, এই যন্ত্রগুলোর যেন সঠিক ব্যবহার হয়। সারাদিন গেম না খেলে, ইন্টারনেট থেকে নতুন নতুন জিনিস শেখার চেষ্টা করবে।
আশা করি আজকের ক্লাসটি তোমাদের ভালো লেগেছে! পরের সেশনে আমরা এই স্মার্টফোনের আরও কিছু কাজ ও ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করব। মন দিয়ে পড়াশোনা করো, সুস্থ থেকো!
Session 3: ICT Tools: Smartphones and Tablets — II (আইসিটি সরঞ্জাম: স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট — ২)
আইসিটি সরঞ্জাম: স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট — ২
Unit 3 - Session 3 | Employability Skills
হ্যালো বন্ধুরা! আবার তোমাদের স্বাগত। আগের সেশনে আমরা স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু ধারণা পেয়েছিলাম। আজ আমরা স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট সঠিকভাবে পরিচালনা করা শিখব!
১. স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের বাহ্যিক অংশসমূহ (Physical Parts)
একটি স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট হাতে নিলে আমরা মূলত কয়েকটি বাটন (Button) এবং পোর্ট দেখতে পাই। এগুলোর কাজ কী, চলো জেনে নিই:
- পাওয়ার বাটন (Power Button): এই বাটনটি চেপে আমরা ফোন চালু (Turn on) বা বন্ধ (Turn off) করি। এছাড়াও, ফোনের স্ক্রিন লক বা আনলক করতেও এটি ব্যবহৃত হয়।
- ভলিউম বাটন (Volume Buttons): ফোনের আওয়াজ বা শব্দ কমানো এবং বাড়ানোর জন্য এই বাটনগুলো ব্যবহার করা হয়।
- স্ক্রিন বা ডিসপ্লে (Screen/Display): এটি ফোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে আমরা সব কিছু দেখতে পাই। এটি একটি টাচ-স্ক্রিন, অর্থাৎ আঙুল ছুঁয়ে আমরা ফোনটিকে নির্দেশ দিতে পারি।
- ন্যাভিগেশন বাটন (Navigation Buttons): স্ক্রিনের একেবারে নিচে সাধারণত তিনটি বাটন থাকে—
Back: আগের পেজে ফিরে যাওয়ার জন্য।
Home: সরাসরি মূল স্ক্রিনে আসার জন্য।
Recent: সম্প্রতি ব্যবহৃত অ্যাপ দেখার জন্য। - চার্জিং পোর্ট ও অডিও জ্যাক: ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য চার্জিং পোর্ট এবং ইয়ারফোন লাগিয়ে গান বা ভিডিও শোনার জন্য অডিও জ্যাক থাকে।
২. টাচ স্ক্রিন ব্যবহারের বিভিন্ন ভঙ্গি (Touch Gestures)
যেহেতু স্মার্টফোনে কোনো মাউস বা কিবোর্ড থাকে না, তাই স্ক্রিনের ওপর আঙুল নেড়েই আমাদের সব কাজ করতে হয়। প্রধান জেসচারগুলো হলো:
ট্যাপ করা (Tap)
মাউসের 'ক্লিক'-এর মতো। কোনো অ্যাপ খুলতে বা অপশন নির্বাচন করতে একবার হালকা করে ছোঁয়া।
ডাবল ট্যাপ (Double Tap)
পরপর দু'বার দ্রুত ট্যাপ করা। ছবি বড় করতে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক দিতে ব্যবহৃত হয়।
দীর্ঘক্ষণ চেপে রাখা (Long Press)
আঙুল দিয়ে ২-৩ সেকেন্ড চেপে ধরে রাখা। ফাইল ডিলিট বা কপি করার মেনু বের করতে কাজে লাগে।
ড্র্যাগ করা (Drag)
কোনো আইকনের ওপর চেপে ধরে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া। অ্যাপের জায়গা পরিবর্তনে কাজে লাগে।
সোয়াইপ করা (Swipe)
স্ক্রিনের ওপর আঙুল দ্রুত ডানে, বামে, ওপরে বা নিচে টানা। পেজ স্ক্রল বা গ্যালারির ছবি পাল্টাতে ব্যবহৃত হয়।
পিঞ্চ এবং জুম (Pinch & Zoom)
দুটি আঙুল একসাথে স্ক্রিনে রেখে কাছে আনা বা দূরে সরানো। ছবি বা ম্যাপ ছোট-বড় করতে ব্যবহৃত হয়。
৩. অ্যাপ এবং আইকন (Apps and Icons)
অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপ (App)
স্মার্টফোনে যে ছোট ছোট প্রোগ্রামগুলো দিয়ে আমরা নির্দিষ্ট কাজ করি (যেমন— হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব, ক্যামেরা), তাদের অ্যাপ বা অ্যাপ্লিকেশন বলা হয়।
আইকন (Icon)
স্ক্রিনের ওপর প্রতিটি অ্যাপকে সহজে চেনার জন্য যে ছোট ছোট ছবি বা লোগো থাকে, সেগুলোকে আইকন বলে। এগুলোতে ট্যাপ করেই অ্যাপ চালু করা হয়।
শিক্ষকের ছোট্ট টিপস:
"শিক্ষার্থীরা, স্মার্টফোন ব্যবহার করা খুবই সহজ, তাই না? তবে মনে রাখবে, ফোনের টাচ স্ক্রিন খুব সংবেদনশীল হয়। তাই স্ক্রিনে খুব জোরে চাপ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, হালকাভাবে ছুঁলেই এটি কাজ করবে। আর হ্যাঁ, নিয়মিত স্ক্রিনটি পরিষ্কার নরম কাপড় দিয়ে মুছতে ভুলবে না! টাচ স্ক্রিনের এই নিয়মগুলো বাড়িতে প্র্যাকটিস করো। পরের ক্লাসে আমরা কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ নিয়ে আলোচনা করব। ভালো থেকো!"
Session 4: Parts of Computer and Peripherals (কম্পিউটারের অংশ এবং পেরিফেরালস)
হ্যালো আমার স্নেহের ছাত্র-ছাত্রীরা! কেমন আছো তোমরা? আশা করি আগের ক্লাসগুলো তোমরা খুব উপভোগ করেছ।
আজ আমরা তোমাদের Employability Skills বইয়ের Unit 3-এর Session 4: Parts of Computer and Peripherals (কম্পিউটারের অংশ এবং পেরিফেরালস) নিয়ে আলোচনা করব। তোমরা যারা কম্পিউটার দেখেছ বা ব্যবহার করেছ, তাদের জন্য আজকের ক্লাসটি খুব চেনা এবং মজার হতে চলেছে!
চলো, শুরু করা যাক!
Unit 3 – Session 4: কম্পিউটারের অংশ এবং পেরিফেরালস (Parts of Computer and Peripherals)
১. কম্পিউটার সিস্টেম কী? (What is a Computer System?)
একটি সম্পূর্ণ কম্পিউটার সিস্টেম মূলত দুটি জিনিস নিয়ে তৈরি:
হার্ডওয়্যার (Hardware): কম্পিউটারের যেসব যন্ত্রাংশ আমরা চোখে দেখতে পাই এবং হাত দিয়ে ছুঁতে পারি (যেমন— মনিটর, কিবোর্ড), তাদের হার্ডওয়্যার বলে।
সফটওয়্যার (Software): যে প্রোগ্রাম বা নির্দেশাবলীর মাধ্যমে হার্ডওয়্যারগুলো কাজ করে (যেমন— উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম বা পেইন্ট অ্যাপ), তাদের সফটওয়্যার বলে। সফটওয়্যারকে ছোঁয়া যায় না।
২. কম্পিউটারের প্রধান অংশসমূহ (Main Parts of a Computer)
মানুষের শরীর যেমন মাথা, হাত, চোখ দিয়ে তৈরি, তেমনি একটি ডেস্কটপ কম্পিউটারেরও কয়েকটি প্রধান অংশ থাকে। এগুলো ছাড়া কম্পিউটার কাজ করতে পারে না:
১. সিপিইউ বা সিস্টেম ইউনিট (CPU – Central Processing Unit): * একে কম্পিউটারের ‘মস্তিষ্ক’ বা Brain বলা হয়।
আমরা কম্পিউটারকে যে নির্দেশ দিই, তার যাবতীয় হিসেব-নিকেশ এবং কাজ এই বাক্সের ভেতরেই সম্পন্ন হয়।
এর ভেতরে একটি মূল সার্কিট বোর্ড থাকে, যাকে মাদারবোর্ড (Motherboard) বলে।
২. মনিটর (Monitor):
এটি দেখতে ঠিক একটি টেলিভিশনের মতো।
কম্পিউটারে আমরা যে লেখা টাইপ করি বা ছবি আঁকি, তা এই মনিটরের পর্দাতেই দেখা যায়। এটি একটি আউটপুট (Output) ডিভাইস।
৩. কিবোর্ড (Keyboard):
এটি দেখতে টাইপরাইটারের মতো, যাতে অনেকগুলো বোতাম বা ‘কী’ (Key) থাকে।
এর সাহায্যে আমরা কম্পিউটারে বিভিন্ন তথ্য, অক্ষর বা সংখ্যা টাইপ করে প্রবেশ করাই। এটি একটি ইনপুট (Input) ডিভাইস।
৪. মাউস (Mouse):
এটি একটি ছোট যন্ত্র, যা দেখতে অনেকটা ইঁদুরের মতো।
মনিটরের পর্দায় একটি ছোট তীরের মতো চিহ্ন (Pointer) সরাতে এবং কোনো ফাইল বা ফোল্ডার নির্বাচন (Select) করতে বা খুলতে মাউস ব্যবহার করা হয়। এটিও একটি ইনপুট ডিভাইস।
৩. পেরিফেরালস কী? (What are Peripherals?)
কম্পিউটারের প্রধান অংশগুলো (CPU, Monitor, Keyboard, Mouse) ছাড়া অন্যান্য যে সমস্ত যন্ত্রাংশ বাইরে থেকে তারের মাধ্যমে (Wired) বা তারবিহীন অবস্থায় (Wireless) কম্পিউটারের সাথে যুক্ত করে বিশেষ কোনো কাজ করা হয়, তাদের পেরিফেরালস (Peripherals) বা পেরিফেরাল ডিভাইস বলে।
৪. পেরিফেরালসের প্রকারভেদ (Types of Peripherals)
কাজের ওপর ভিত্তি করে পেরিফেরালসকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
ক) ইনপুট পেরিফেরালস (Input Peripherals):
যে যন্ত্রগুলোর মাধ্যমে আমরা কম্পিউটারের ভেতরে তথ্য পাঠাই।
স্ক্যানার (Scanner): বাইরের কোনো ছবি বা হাতের লেখা ডকুমেন্ট হুবহু কম্পিউটারের ভেতরে ডিজিটাল রূপ দিতে স্ক্যানার ব্যবহার করা হয়।
মাইক্রোফোন (Microphone): আমাদের কথা বা যেকোনো শব্দ রেকর্ড করে কম্পিউটারে পাঠানোর জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
ওয়েবক্যাম (Webcam): কম্পিউটারের মাধ্যমে ভিডিও কল করার জন্য এই ছোট ক্যামেরাটি ব্যবহার করা হয়।
খ) আউটপুট পেরিফেরালস (Output Peripherals):
কম্পিউটার কাজ করার পর যে যন্ত্রগুলোর মাধ্যমে আমাদের ফলাফল বা তথ্য ফেরত দেয়।
প্রিন্টার (Printer): কম্পিউটারে থাকা কোনো লেখা বা ছবিকে কাগজের ওপর ছাপানোর জন্য প্রিন্টার ব্যবহৃত হয়।
স্পিকার (Speaker): কম্পিউটারের ভেতরের যেকোনো শব্দ বা গান শোনার জন্য স্পিকার ব্যবহার করা হয়।
প্রজেক্টর (Projector): মনিটরের ছোট ছবি বা ভিডিওকে বড় পর্দায় (Screen) বা দেওয়ালে ফেলে সবাইকে দেখানোর জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।
গ) স্টোরেজ বা মেমরি পেরিফেরালস (Storage Peripherals):
যেখানে আমরা তথ্য বা ফাইল জমা করে রাখি।
পেন ড্রাইভ (Pen Drive) বা ফ্ল্যাশ ড্রাইভ: এটি খুব ছোট আকারের একটি যন্ত্র, যা দিয়ে খুব সহজেই এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে তথ্য (যেমন— সিনেমা, গান, ডকুমেন্ট) নেওয়া যায়।
এক্সটার্নাল হার্ড ডিস্ক (External Hard Disk): এতে প্রচুর পরিমাণে তথ্য জমা করে রাখা যায়।
শিক্ষকের ছোট্ট টিপস:
বন্ধুরা, তোমরা কি জানো এই পেরিফেরালসগুলো কম্পিউটারের সিপিইউ-এর সাথে কোথায় যুক্ত হয়? সিপিইউ বাক্সের পেছনে বা সামনে কিছু ছোট ছোট ছিদ্র বা পয়েন্ট থাকে, যেগুলোকে ‘পোর্ট’ (Port) বলা হয়। যেমন— পেন ড্রাইভ বা মাউস যুক্ত করার জন্য আমরা সাধারণত USB Port ব্যবহার করি।
আজকের ক্লাসটি কেমন লাগলো? তোমাদের বাড়িতে বা স্কুলের ল্যাবে কম্পিউটারের কোন কোন পেরিফেরালস তোমরা দেখেছ? পরবর্তী ক্লাসে আমরা শিখব কীভাবে একটি কম্পিউটার সঠিকভাবে চালু বা বন্ধ করতে হয় (Basic Computer Operations)। তুমি কি পরবর্তী সেশনের জন্য প্রস্তুত?
Session 5: Basic Computer Operations (কম্পিউটার পরিচালনার প্রাথমিক নিয়মাবলী)
হ্যালো আমার প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা! আশা করি তোমরা সবাই খুব ভালো আছো। আগের ক্লাসে আমরা কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আজ আমরা শিখব কীভাবে সেই কম্পিউটারকে সঠিক নিয়মে চালাতে হয়।
তোমাদের Employability Skills বইয়ের Unit 3-এর Session 5: Basic Computer Operations (কম্পিউটার পরিচালনার প্রাথমিক নিয়মাবলী) নিয়ে আজকের এই বিশেষ ক্লাস। চলো, খুব সহজে ধাপে ধাপে বিষয়টা শিখে নিই!
Unit 3 – Session 5: কম্পিউটার পরিচালনার প্রাথমিক নিয়মাবলী (Basic Computer Operations)
কম্পিউটার একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র, তাই একে ইচ্ছেমতো প্লাগ খুলে বন্ধ করা বা চালানো যায় না। এর একটি নির্দিষ্ট নিয়ম আছে।
১. কম্পিউটার কীভাবে চালু করতে হয়? (How to Start a Computer?)
একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার চালু করার জন্য আমাদের কয়েকটি ধাপ পরপর মেনে চলতে হয়:
মেইন সুইচ (Main Power Switch): প্রথমেই দেওয়ালের মেইন সুইচটি ‘অন’ (On) করতে হবে।
ইউপিএস (UPS): এরপর UPS-এর পাওয়ার বাটনটি চাপতে হবে। (UPS হলো এমন একটি যন্ত্র যা কারেন্ট চলে গেলেও কিছুক্ষণ কম্পিউটারকে চালু রাখে)।
সিপিইউ (CPU): এবার CPU বা সিস্টেম ইউনিটের পাওয়ার বাটনটি (Power Button) চাপতে হবে।
মনিটর (Monitor): সবশেষে মনিটরের পাওয়ার বাটনটি অন করতে হবে।
২. বুটিং প্রক্রিয়া (What is Booting?)
CPU-এর পাওয়ার বাটন চাপার পর কম্পিউটার সাথে সাথে চালু হয়ে যায় না। এটি কিছুক্ষণ সময় নেয়। এই সময়ে কম্পিউটার তার ভেতরের সমস্ত যন্ত্রাংশ (যেমন— র্যাম, কিবোর্ড, মাউস) ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করে। এই প্রাথমিক পরীক্ষাকে বলা হয় POST (Power On Self Test)। এরপর কম্পিউটার তার প্রধান সফটওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেমকে (Operating System) মেমরিতে লোড করে। এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে কম্পিউটারের ভাষায় ‘বুটিং’ (Booting) বলা হয়।
৩. লগ-ইন করা (Logging In)
কম্পিউটার চালু হওয়ার পর পর্দায় যে প্রথম জিনিসটি আসে, তা হলো লগ-ইন স্ক্রিন।
আমাদের মোবাইল ফোনে যেমন পাসওয়ার্ড দেওয়া থাকে, কম্পিউটারেও সেরকম লক করা থাকতে পারে।
কম্পিউটারে প্রবেশ করার জন্য আমাদের নির্দিষ্ট Username (ইউজারনেম) এবং Password (পাসওয়ার্ড) টাইপ করে ‘Enter’ বাটন চাপতে হয়। এতে অন্য কেউ আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য দেখতে পারে না।
৪. ডেস্কটপ এবং এর বিভিন্ন অংশ (The Desktop and its Components)
লগ-ইন করার পর মনিটরের পর্দায় যে প্রথম স্ক্রিনটি আমরা দেখতে পাই, তাকে ডেস্কটপ (Desktop) বলা হয়। একটি ডেস্কটপে মূলত তিনটি জিনিস থাকে:
আইকন (Icons): ডেস্কটপের ওপর ছোট ছোট যে ছবিগুলো দেখা যায়, তাদের আইকন বলে। এগুলো মূলত বিভিন্ন ফাইল, ফোল্ডার বা সফটওয়্যারের (যেমন— Recycle Bin, My Computer) শর্টকাট। এগুলোতে ডাবল-ক্লিক করে আমরা সরাসরি ওই প্রোগ্রামটি খুলতে পারি।
টাস্কবার (Taskbar): ডেস্কটপের একদম নিচের দিকে যে লম্বা লাইন বা বারটি থাকে, তাকে টাস্কবার বলে। আমরা যে প্রোগ্রামগুলো খুলে কাজ করি, সেগুলো এই টাস্কবারে জমা হয়। এর ডানদিকে সময় এবং তারিখ (Date & Time) দেখানো হয়।
স্টার্ট বাটন (Start Button): টাস্কবারের একেবারে বাঁ-দিকে এই বাটনটি থাকে। এখানে ক্লিক করলে একটি তালিকা বা মেনু (Start Menu) খুলে যায়, যেখান থেকে আমরা কম্পিউটারের যেকোনো সফটওয়্যার খুঁজে বের করতে পারি।
৫. কম্পিউটার কীভাবে বন্ধ করতে হয়? (How to Shut Down?)
কাজ শেষ হওয়ার পর টিভি বা ফ্যানের মতো সরাসরি মেইন সুইচ বন্ধ করে কম্পিউটার নেভানো উচিত নয়। এতে কম্পিউটারের সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যার নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সঠিক নিয়ম হলো:
প্রথমে মাউস দিয়ে টাস্কবারের বাঁ-দিকে Start (স্টার্ট) বাটনে ক্লিক করতে হবে।
এরপর Power (পাওয়ার) অপশনে ক্লিক করতে হবে।
সবশেষে Shut down (শাট ডাউন) অপশনে ক্লিক করতে হবে।
কিছুক্ষণ পর মনিটরের পর্দা কালো হয়ে গেলে মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে।
শিক্ষকের ছোট্ট টিপস:
বন্ধুরা, আজ তোমরা শিখলে কম্পিউটার চালানো আর বন্ধ করার সঠিক নিয়ম। সব সময় মনে রাখবে, তাড়াহুড়ো করে কখনোই কম্পিউটারের সরাসরি প্লাগ খুলে দেবে না। আর কাজ শেষ হওয়ার পর অবশ্যই ‘Shut Down’ করবে, যাতে কম্পিউটার বিশ্রাম পায়।
আজকের ক্লাস এখানেই শেষ করছি। পরের সেশনে আমরা কম্পিউটারে কীভাবে ফাইল ও ফোল্ডার তৈরি করতে হয় (Performing Basic File Operations), তা শিখব। তোমরা কি এর জন্য তৈরি? বাড়িতে বা স্কুলে সুযোগ পেলে অবশ্যই এই নিয়মগুলো একবার প্র্যাকটিস করে নেবে! ভালো থেকো সবাই।
Session 6: Performing Basic File Operations (ফাইলের প্রাথমিক কাজসমূহ সম্পাদন)
হ্যালো আমার স্নেহের ছাত্র-ছাত্রীরা! কেমন আছো সবাই? আগের ক্লাসে আমরা শিখেছিলাম কীভাবে কম্পিউটার সঠিক নিয়মে চালু ও বন্ধ করতে হয়। আজ আমরা কম্পিউটারের ভেতরের একটি খুব মজার এবং ভীষণ দরকারি বিষয় শিখব।
তোমাদের Employability Skills বইয়ের Unit 3-এর Session 6: Performing Basic File Operations (ফাইলের প্রাথমিক কাজসমূহ সম্পাদন) নিয়ে আজ আমরা আলোচনা করব। কম্পিউটারে কাজ করার পর সেই কাজগুলো কীভাবে গুছিয়ে রাখতে হয়, আজ আমরা সেটাই শিখব। চলো শুরু করি!
Unit 3 – Session 6: ফাইলের প্রাথমিক কাজসমূহ সম্পাদন (Performing Basic File Operations)
কম্পিউটারে আমরা যাই করি না কেন—হোক তা কোনো ছবি আঁকা, কোনো গল্প লেখা বা কোনো গান ডাউনলোড করা—সব কিছুই সেভ (Save) করে রাখতে হয়। এই সেভ করে রাখার জন্য আমাদের ‘ফাইল’ এবং ‘ফোল্ডার’ সম্পর্কে জানতে হবে।
১. ফাইল এবং ফোল্ডার কী? (What are Files and Folders?)
ফাইল (File): কম্পিউটারে আমরা কোনো তথ্য বা ডেটা সংরক্ষণ করলে তা একটি ‘ফাইল’ হিসেবে জমা হয়। একটি ফাইল হতে পারে তোমার লেখা কোনো প্যারাগ্রাফ, একটি সুন্দর ছবি, অথবা একটি অডিও গান। প্রতিটি ফাইলের একটি নির্দিষ্ট নাম থাকে, যাতে আমরা পরে সহজেই তা খুঁজে পাই।
ফোল্ডার (Folder): ফোল্ডার হলো একটি ডিজিটাল বাক্স বা ড্রয়ারের মতো। তোমার স্কুলের ব্যাগে (যাকে ফোল্ডার ভাবতে পারো) যেমন তুমি আলাদা আলাদা বিষয়ের খাতা ও বই (যাদের ফাইল ভাবতে পারো) গুছিয়ে রাখো, তেমনি কম্পিউটারের ফোল্ডারের ভেতরে আমরা অনেকগুলো ফাইল বা ছোট ফোল্ডার একসাথে সাজিয়ে রাখতে পারি।
২. কম্পিউটারে ফাইলের বিভিন্ন কাজ (Basic File Operations)
কম্পিউটারে ফাইল বা ফোল্ডার নিয়ে মূলত কয়েকটি সাধারণ কাজ করা হয়। চলো ধাপে ধাপে সেগুলো শিখে নিই:
ক) নতুন ফোল্ডার তৈরি করা (Creating a New Folder):
ডেস্কটপে বা কম্পিউটারের যেকোনো জায়গায় নতুন ফোল্ডার তৈরি করতে এই ধাপগুলো মেনে চলো: ১. মাউসের ডান দিকের বোতামে ক্লিক করো (Right-click)। ২. একটি তালিকা বা মেনু আসবে, সেখান থেকে ‘New’ অপশনে মাউস নিয়ে যাও। ৩. এবার পাশের মেনু থেকে ‘Folder’-এ ক্লিক করো (Left-click)। ৪. স্ক্রিনে ‘New Folder’ নামে একটি ফোল্ডার চলে আসবে। এবার কিবোর্ড থেকে নিজের পছন্দমতো একটি নাম (যেমন: My Photos) টাইপ করে ‘Enter’ বোতাম চাপো। ব্যস, তোমার ফোল্ডার তৈরি!
খ) নতুন ফাইল তৈরি করা (Creating a New File):
ধরো তুমি একটি নোটপ্যাড (Notepad) ফাইল তৈরি করতে চাও: ১. ফাঁকা জায়গায় Right-click করো। ২. ‘New’ অপশনে গিয়ে ‘Text Document’-এ ক্লিক করো। ৩. ফাইলের একটি নাম দিয়ে ‘Enter’ চাপো। এবার ফাইলটিতে ডাবল ক্লিক করে তুমি তোমার লেখা শুরু করতে পারো।
গ) ফাইল বা ফোল্ডারের নাম পরিবর্তন করা (Renaming):
যদি তুমি আগে তৈরি করা কোনো ফাইলের নাম বদলাতে চাও: ১. যে ফাইলের নাম বদলাতে চাও, তার ওপর একবার মাউস দিয়ে ক্লিক করে সেটি সিলেক্ট করো। ২. এবার Right-click করে মেনু থেকে ‘Rename’ অপশনে ক্লিক করো। ৩. ফাইলের নতুন নামটি লিখে ‘Enter’ চাপো।
ঘ) ফাইল মুছে ফেলা বা ডিলিট করা (Deleting):
অপ্রয়োজনীয় কোনো ফাইল মুছতে চাইলে: ১. ফাইলটির ওপর Right-click করো। ২. মেনু থেকে ‘Delete’ অপশনে ক্লিক করো। (মনে রাখবে: ডিলিট করা ফাইলগুলো একেবারে হারিয়ে যায় না, এগুলো কম্পিউটারের Recycle Bin বা ডাস্টবিনে গিয়ে জমা হয়। ভুল করে ডিলিট হয়ে গেলে সেখান থেকে আবার ফিরিয়ে আনা বা ‘Restore’ করা যায়।)
ঙ) ফাইল কপি (Copy) বা মুভ (Move) করা:
কপি (Copy): একটি ফাইলের হুবহু আরেকটি নকল তৈরি করতে চাইলে, ফাইলের ওপর Right-click করে ‘Copy’-তে ক্লিক করতে হয়। তারপর যেখানে রাখতে চাও সেখানে গিয়ে Right-click করে ‘Paste’ করতে হয়।
কাট বা মুভ (Cut/Move): ফাইলটিকে এক জায়গা থেকে সরিয়ে একেবারে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে চাইলে ‘Cut’ করে নতুন জায়গায় গিয়ে ‘Paste’ করতে হয়।
শিক্ষকের ছোট্ট টিপস:
বন্ধুরা, কম্পিউটারে সবকিছু গুছিয়ে রাখাটা একটা বড় দক্ষতা! তোমার পড়াশোনার নোটস, ছবি আর গেমের জন্য আলাদা আলাদা ফোল্ডার বানিয়ে রাখবে। এতে দরকারের সময় যেকোনো জিনিস খুব সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়।
আজকের ক্লাসটি কেমন লাগলো? তোমরা কি পরবর্তী সেশন অর্থাৎ “ইন্টারনেটের প্রাথমিক ধারণা (Basics of Internet)” সম্পর্কে জানতে প্রস্তুত?
Session 7: Basics of Internet (ইন্টারনেটের প্রাথমিক ধারণা)
হ্যালো আমার প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা! আশা করি তোমরা সবাই খুব ভালো আছো। আগের ক্লাসে আমরা কম্পিউটারের ফাইল এবং ফোল্ডার নিয়ে কাজ করা শিখেছিলাম। আজ আমরা এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব, যা ছাড়া আজকের দুনিয়া অচল।
আজকের ক্লাসে তোমাদের বন্ধু এবং শিক্ষক হিসেবে আমি তোমাদের Employability Skills বইয়ের Unit 3-এর Session 7: Basics of Internet (ইন্টারনেটের প্রাথমিক ধারণা) সম্পর্কে বিস্তারিত জানাব। তোমরা সবাই ইন্টারনেট ব্যবহার করো, কিন্তু চলো আজ এর পেছনের মূল বিষয়গুলো বইয়ের আলোকে সহজভাবে বুঝে নিই।
Unit 3 – Session 7: ইন্টারনেটের প্রাথমিক ধারণা (Basics of Internet)
১. ইন্টারনেট কী? (What is the Internet?)
আমাদের বই অনুযায়ী, ইন্টারনেট হলো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি কম্পিউটার এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক বা সংযোগ।
একে সংক্ষেপে ‘নেট’ (Net) বলা হয়।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে একটি কম্পিউটার বিশ্বের অন্য যেকোনো প্রান্তের কম্পিউটারের সাথে যুক্ত হতে পারে এবং তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।
বোঝার সহজ উপায়: তোমরা যেমন মাকড়সার জাল দেখেছ, ইন্টারনেট হলো ঠিক তেমনই তথ্যের একটি বিশাল জগত, যা সারা বিশ্বের মানুষকে একে অপরের সাথে জুড়ে রেখেছে।
২. ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বা WWW (World Wide Web)
অনেকে ইন্টারনেট এবং WWW-কে এক মনে করে, কিন্তু বই অনুযায়ী এই দুটির মধ্যে পার্থক্য আছে।
ইন্টারনেট হলো ভৌত পরিকাঠামো (রাস্তাঘাট বা তারের সংযোগ)।
অন্যদিকে, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW) হলো তথ্যের একটি বিশাল ভাণ্ডার যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে অ্যাক্সেস করা যায়।
WWW-তে কোটি কোটি ওয়েব পেজ থাকে, যেখানে লেখা, ছবি, অডিও এবং ভিডিও জমা থাকে।
৩. ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয় ধারণা ও শব্দাবলী (Important Terms)
বইয়ে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দের ব্যাখ্যা দেওয়া আছে, যা তোমাদের জানা খুব জরুরি:
ওয়েব পেজ (Web Page): ইন্টারনেটে থাকা প্রতিটি ইলেকট্রনিক ডকুমেন্টকে ওয়েব পেজ বলা হয়। এটি একটি ডিজিটাল বইয়ের পাতার মতো, যেখানে তথ্য থাকে।
ওয়েবসাইট (Website): ইন্টারনেটে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো ওয়েব পেজের সমষ্টিকে ওয়েবসাইট বলে। যেমন—
google.comবা তোমাদের প্রিয়educenters.inএকটি ওয়েবসাইট।ওয়েব ব্রাউজার (Web Browser): ইন্টারনেটের ওয়েবসাইটগুলো দেখার জন্য আমরা কম্পিউটারে বা মোবাইলে যে সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করি, তাকে ওয়েব ব্রাউজার বলে।
উদাহরণ: Google Chrome, Mozilla Firefox, Microsoft Edge, Apple Safari.
ইউআরএল বা URL (Uniform Resource Locator): প্রতিটি ওয়েবসাইটের একটি নির্দিষ্ট এবং অনন্য ঠিকানা থাকে, যাকে URL বলা হয়। যেমন—
https://www.google.comএকটি URL.আইপি অ্যাড্রেস (IP Address): ইন্টারনেটে যুক্ত প্রতিটি কম্পিউটারের একটি নির্দিষ্ট সাংখ্যিক ঠিকানা থাকে, যাকে ইন্টারনেট প্রোটোকল বা IP Address বলে। যেমন—
192.168.1.1।লিঙ্ক বা হাইপারলিঙ্ক (Link/Hyperlink): একটি ওয়েব পেজে নীল রঙের লেখা বা ছবির ওপর ক্লিক করলে আমরা যখন অন্য একটি ওয়েব পেজে চলে যাই, তাকে লিঙ্ক বলে।
৪. কীভাবে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হবেন? (How to Connect?)
ইন্টারনেট সংযোগ পেতে হলে আমাদের তিনটি জিনিস প্রয়োজন:
ডিভাইস: কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন।
কানেকশন মাধ্যম: টেলিফোন লাইন বা তারবিহীন (Wireless) মাধ্যম।
আইএসপি (ISP): Internet Service Provider বা আইএসপি হলো এমন কিছু কোম্পানি, যারা টাকার বিনিময়ে আমাদের ইন্টারনেট সংযোগ দেয়। যেমন— BSNL, Jio, Airtel ইত্যাদি।
আমরা সাধারণত ব্রডব্যান্ড (Broadband) বা মোবাইলের সিম কার্ড (SIM Card) ব্যবহার করে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হই।
৫. ইন্টারনেটের ব্যবহার (Uses of Internet)
বই অনুযায়ী ইন্টারনেটের প্রধান কিছু ব্যবহার হলো:
যোগাযোগ: ই-মেইল (Email), চ্যাটিং বা ভিডিও কলের মাধ্যমে কথা বলা।
তথ্য খোঁজা: যেকোনো বিষয়ের তথ্য খুব সহজেই গুগল (Google) বা অন্য সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজে পাওয়া যায়।
শিক্ষা: অনলাইন ক্লাস করা, ভিডিও দেখে নতুন কিছু শেখা বা ডিজিটাল বই পড়া।
বিনোদন: সিনেমা দেখা, গান শোনা বা গেম খেলা।
অনলাইন পরিষেবা: ট্রেনের টিকিট বুকিং, কেনাকাটা (E-commerce) বা ব্যাঙ্কিংয়ের কাজ করা।
শিক্ষকের ছোট্ট টিপস:
বন্ধুরা, ইন্টারনেট হলো তথ্যের একটি মহাসমুদ্র। এটি পড়াশোনার জন্য যেমন খুব উপকারী, তেমনই ভুল ব্যবহারে ক্ষতিও হতে পারে। তাই সব সময় মনে রাখবে:
ইন্টারনেটে অপরিচিত কারোর সাথে ব্যক্তিগত তথ্য (যেমন— ফোন নম্বর, পাসওয়ার্ড) শেয়ার করবে না।
পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ছাড়া অহেতুক সময় নষ্ট করবে না।
আজকের ক্লাসটি কেমন লাগলো? তোমরা কি পরবর্তী সেশন অর্থাৎ “ইন্টারনেট ব্রাউজিং (Internet Browsing)” সম্পর্কে জানতে প্রস্তুত? বাড়িতে বা স্কুলে সুযোগ পেলে অবশ্যই কোনো ব্রাউজার ওপেন করে এই শব্দগুলো মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করো! ভালো থেকো সবাই।
অভিনন্দন! তোমরা সফলভাবে Unit 3 সম্পূর্ণ করলে।
আশা করি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির এই প্রাথমিক ধারণাগুলো তোমরা খুব সহজভাবেই বুঝতে পেরেছ। তবে মনে রাখবে, আইসিটি বা কম্পিউটার স্কিল শুধুমাত্র পড়লে হয় না, এটি নিয়মিত প্র্যাকটিস বা অনুশীলনের বিষয়। বিদ্যালয়ে বা বাড়িতে যখনই সুযোগ পাবে, কম্পিউটারের এই কাজগুলো হাতে-কলমে করে দেখার চেষ্টা করো। ভুল করতে ভয় পেয়ো না, ভুল থেকেই নতুন কিছু শেখা যায়।
যদি তোমাদের কোনো সেশন বুঝতে অসুবিধা হয় বা কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে নিচে কমেন্ট করে নির্দ্বিধায় আমাদের জানাতে পারো। আমরা তোমাদের সাহায্য করতে সবসময় প্রস্তুত।
পরবর্তী ধাপ: তোমরা যদি আগের ইউনিট (Self-Management Skills) পড়তে চাও, তবে [এখানে ক্লিক করো]। আর যদি পরের ইউনিটে (Entrepreneurship Skills) প্রবেশ করতে চাও, তবে [এখানে ক্লিক করো]।
Educenters.in-এর সাথে যুক্ত থাকো এবং নিজেদের দক্ষতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাও। শুভকামনা তোমাদের জন্য!