📚 Education for all Empowering students since May 2020
📍 জাঙ্গীপাড়া, Hooghly
পদ্মবিভূষণ ও পদ্ম পুরস্কার (Padma Vibhushan & Padma Awards)

পদ্মবিভূষণ (PADMA VIBHUSHAN)

পদ্মবিভূষণ ও পদ্ম পুরস্কার: ইতিহাস, যোগ্যতার মানদণ্ড, পদকের গঠন এবং প্রাপকদের সম্পূর্ণ পর্যালোচনা

পদ্মবিভূষণ (PADMA VIBHUSHAN)

গণপ্রজাতন্ত্রী ভারতের বেসামরিক সম্মাননা ব্যবস্থার (Civilian Awards System) ইতিহাসে ‘পদ্ম পুরস্কার’ (Padma Awards) এক অনন্য মর্যাদাপূর্ণ স্থান অধিকার করে রয়েছে। ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘ভারতরত্ন’-এর পরেই দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে ‘পদ্মবিভূষণ’ (Padma Vibhushan)। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, পেশা, পদমর্যাদা বা লিঙ্গের ভেদাভেদ ছাড়াই যেকোনো ক্ষেত্রে জাতির উদ্দেশ্যে “অনুপম ও ব্যতিক্রমী সেবাকর্মের” (Exceptional and Distinguished Service) স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতি বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে এই সম্মাননা ঘোষণা করা হয়। এই বিস্তারিত আর্টিকেলে পদ্মবিভূষণ সহ পদ্ম পুরস্কারসমূহের ঐতিহাসিক বিবর্তন, পদকের নকশা, নির্বাচনের নিয়মাবলী, প্রথম প্রাপক এবং বিশিষ্ট বাঙালি ব্যক্তিত্বদের অবদান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করা হলো।

💡 পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ভারতের বেসামরিক পুরস্কারগুলি কোনো উপাধি (Titles) নয়; তাই সংবিধানের ১৮(১) নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রাপকগণ এই সম্মানকে নিজের নামের পূর্বে বা পরে উপসর্গ/অনুসর্গ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন না (বালাজি রাঘবন বনাম ভারত সরকার মামলা, ১৯৯৫)।


১. পদ্ম পুরস্কারের ক্রমবিন্যাস ও শ্রেণিবিভাগ (Hierarchy of Civilian Awards)

ভারতের বেসামরিক সম্মাননাগুলিকে মর্যাদাক্রম অনুসারে চারটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে:

১ম স্তর: ভারতরত্ন (Bharat Ratna)

দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। মানব কল্যাণের যেকোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যতিক্রমী অবদানের জন্য প্রদান করা হয়।

২য় স্তর: পদ্মবিভূষণ (Padma Vibhushan)

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। “ব্যতিক্রমী ও বিশিষ্ট সেবাকর্মের” (Exceptional and Distinguished Service) জন্য ভূষিত করা হয়।

৩য় স্তর: পদ্মভূষণ (Padma Bhushan)

তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। যেকোনো ক্ষেত্রে “উচ্চপর্যায়ের বিশিষ্ট সেবাকর্মের” (Distinguished Service of High Order) জন্য প্রদত্ত হয়।

৪র্থ স্তর: পদ্মশ্রী (Padma Shri)

চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। যেকোনো ক্ষেত্রে “বিশিষ্ট সেবাকর্মের” (Distinguished Service) স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়।


২. পদ্ম পুরস্কারের ঐতিহাসিক পটভূমি ও বিবর্তন (Historical Evolution)

স্বাধীন ভারতে ১৯৫৪ সালের ২রা জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দুটি বেসামরিক পুরস্কার প্রবর্তিত হয়— ভারতরত্ন এবং পদ্মবিভূষণ।

১৯৫৪ বনাম ১৯৫৫ সালের সংস্কার:

১৯৫৪ সালে যখন পদ্মবিভূষণ প্রবর্তিত হয়েছিল, তখন এটিকে ৩টি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছিল:

  • পহলা বর্গ (Pahela Varg / Class I)
  • দুসরা বর্গ (Dusra Varg / Class II)
  • তিসরা বর্গ (Tisra Varg / Class III)

পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালের ৮ই জানুয়ারি এক রাষ্ট্রপতির সনদের মাধ্যমে এই তিনটি বর্গকে যথাক্রমে পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ এবং পদ্মশ্রী হিসেবে পুনর্বিন্যাস ও স্বতন্ত্র নামকরণ করা হয়।

পুরস্কার প্রদান স্থগিতের সময়কাল (Suspensions):

১৯৫৪ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে পদ্ম পুরস্কার প্রদান করা হলেও ইতিহাসে দুটি ক্ষেত্রে সাময়িক বিরতি ঘটেছিল:

  1. ১৯৭৭ থেকে ১৯৮০: মোরারজি দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন জনতা পার্টি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সমস্ত বেসামরিক পুরস্কার প্রদান স্থগিত করে দেয়। ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে এই সম্মাননা পুনঃপ্রবর্তন করেন।
  2. ১৯৯২ থেকে ১৯৯৭: কেরালা ও মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে এই পুরস্কারগুলির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হওয়ায় ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সম্মাননা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল। ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে এই পুরস্কারগুলি সংবিধানসম্মত এবং এরপর ১৯৯৮ সাল থেকে পুনরায় নিয়মিত বিতরণ শুরু হয়।

৩. যোগ্যতার মানদণ্ড, নিয়মাবলী ও সীমাবদ্ধতা (Eligibility & Rules)

পদ্মবিভূষণ ও অন্যান্য পদ্ম পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক নির্দেশিকা অনুসরণ করা হয়:

  • কর্মক্ষেত্র: কলা, সাহিত্য, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, ক্রীড়া, চিকিৎসা, সমাজসেবা, জননীতি ও প্রশাসন, শিল্প ও বাণিজ্য ইত্যাদি যেকোনো গঠনমূলক ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
  • সরকারি কর্মচারীদের সীমাবদ্ধতা: সরকারি কর্মচারী, চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী ব্যতীত অন্যান্য সরকারি চাকুরিজীবী এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার (PSU) কর্মচারীরা তাঁদের কার্যকালের মেয়াদে এই পুরস্কারের জন্য যোগ্য বিবেচিত হন না।
  • মরণোত্তর পুরস্কারের বিধান (Posthumous Rules): ১৯৫৪ সালের মূল বিধিতে মরণোত্তর পুরস্কারের কোনো নিয়ম ছিল না। ১৯৫৫ সালের সংশোধনে বিশেষ ক্ষেত্রে মরণোত্তর সম্মাননার অনুমতি দেওয়া হয়। সাধারণত অত্যন্ত সাম্প্রতিককালে প্রয়াত ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রে এটি বিবেচিত হয়। প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. বিক্রম সারাভাই (Dr. Vikram Sarabhai) ১৯৭২ সালে বিজ্ঞান ক্ষেত্রে প্রথম মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ প্রাপক হন।
  • বার্ষিক সর্বোচ্চ সীমা: এক বছরে মোট পদ্ম পুরস্কারের সংখ্যা (পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী মিলিয়ে) ১২০টির বেশি হতে পারবে না। তবে মরণোত্তর এবং বিদেশি/অনাবাসী ভারতীয়দের (NRI/PIO/OCI) ক্ষেত্রে প্রদত্ত পুরস্কার এই ১২০-এর সীমার অন্তর্ভুক্ত নয়।
  • উচ্চতর স্তরে উন্নীতকরণ: কোনো ব্যক্তি পদ্মশ্রী বা পদ্মভূষণ পাওয়ার পর অন্তত ৫ বছর অতিবাহিত না হলে তাঁকে উচ্চতর স্তরের পদ্ম সম্মাননা (যেমন পদ্মবিভূষণ) প্রদান করা যায় না (অত্যন্ত বিরল ব্যতিক্রম বাদে)।

৪. পদকের নকশা ও গঠনগত বৈশিষ্ট্য (Medal Design & Decoration)

পদ্মবিভূষণ পদকটি কলকাতার আলিপুর টাঁকশালে (Alipore Mint) অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ব্রোঞ্জ ও মূল্যবান ধাতুর সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়:

সম্মুখভাগ (Obverse Face)

• পদকটির মূল কাঠামো বৃত্তাকার জ্যামিতিক নকশাযুক্ত, যার ব্যাস ৪.৪ সেমি এবং পুরুত্ব ৩.২ মিমি।
• এর কেন্দ্রে একটি প্রস্ফুটিত পদ্মফুল (Lotus Flower) উৎকীর্ণ থাকে।
• পদ্মফুলের ওপরের অংশে দেবনাগরী হরফে ‘পদ্ম’ (पद्म) এবং নিচের অংশে ‘বিভূষণ’ (विभूषण) শব্দটি খোদাই করা থাকে।

পশ্চাৎভাগ ও ফিতা (Reverse Face & Ribbon)

• পদকের উল্টো পিঠে ভারতের জাতীয় প্রতীক ‘অশোকের সিংহচতুর্মুখ স্তম্ভশীর্ষ’ (State Emblem of India) এবং তার নিচে জাতীয় মূলমন্ত্র ‘সত্যমেব জয়তে’ (सत्यमेव जयते) দেবনাগরীতে উৎকীর্ণ থাকে।
• পদকটি ঝুলিয়ে পরার জন্য ৩২ মিমি চওড়া গোলাপি রঙের রেশমি ফিতা (Lotus-pink ribbon) ব্যবহৃত হয়, যার মাঝখানে সাদা ডোরাকাটা রেখা থাকে।


৫. পদ্ম পুরস্কার কমিটি ও নির্বাচন প্রক্রিয়া (Selection Committee & Nomination)

পদ্ম পুরস্কারের মনোনয়ন ও চূড়ান্ত নির্বাচন অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা হয়:

  1. পদ্ম পুরস্কার কমিটি: ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রতি বছর পদ্ম সম্মাননা বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেন। এই কমিটির প্রধান হন কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিব (Cabinet Secretary)। এছাড়া স্বরাষ্ট্র সচিব, রাষ্ট্রপতির সচিব এবং ৪ থেকে ৬ জন বিশিষ্ট নাগরিক এর সদস্য হিসেবে থাকেন।
  2. গণমনোনয়ন (People’s Padma): প্রতি বছর ১লা মে থেকে ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় পুরস্কার পোর্টালের (awards.gov.in) মাধ্যমে দেশের যেকোনো সাধারণ নাগরিক বা স্বনামধন্য ব্যক্তি নিজের বা অন্য যেকোনো যোগ্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে পারেন।
  3. চূড়ান্ত অনুমোদন: বাছাই কমিটির সুপারিশকৃত তালিকাটি প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয় এবং রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত স্বাক্ষরের পর প্রতি বছর ২৫শে জানুয়ারি (প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে) সরকারিভাবে প্রাপকদের নাম ঘোষণা করা হয়।
  4. পুরস্কার বিতরণী: সাধারণত মার্চ বা এপ্রিল মাসে নতুন দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনের দরবার হলে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভারতের রাষ্ট্রপতি স্বহস্তে প্রাপকদের পদক ও সনদপত্র (Sanad) তুলে দেন।

৬. ১৯৫৪ সালের প্রথম পদ্মবিভূষণ প্রাপকগণের ঐতিহাসিক তালিকা (First Recipients of 1954)

১৯৫৪ সালে প্রবর্তনের প্রথম বর্ষে মোট ৬ জন খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বকে তৎকালীন ‘পদ্মবিভূষণ (পহলা বর্গ)’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছিল:

  • সত্যেন্দ্রনাথ বসু (Satyendra Nath Bose)
  • বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (পদার্থবিজ্ঞান)
  • পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)
  • বোস-আইনস্টাইন সংখ্যাতত্ত্বের (Bose-Einstein Statistics) প্রবক্তা ও বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী।
  • নন্দলাল বসু (Nandalal Bose)
  • কলা ও চিত্রকলা (Arts)
  • পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)
  • ভারতীয় আধুনিক চিত্রকলার পথিকৃৎ এবং মূল ভারতীয় সংবিধানের অলঙ্করণকারী শিল্পী।
  • ড. জাকির হোসেন (Dr. Zakir Husain)
  • জনসেবা ও শিক্ষা (Public Affairs)
  • অন্ধ্রপ্রদেশ / দিল্লি
  • ভারতের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ এবং পরবর্তীতে ভারতের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি (১৯৬৭–১৯৬৯)।
  • বালাসাহেব গঙ্গাধর খের (B. G. Kher)
  • জনসেবা (Public Affairs)
  • মহারাষ্ট্র (Maharashtra)
  • বোম্বাই রাজ্যের প্রথম প্রধানমন্ত্রী/মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রথম সরকারি ভাষা কমিশনের সভাপতি।
  • ভি. কে. কৃষ্ণ মেনন (V. K. Krishna Menon)
  • জনসেবা ও কূটনীতি (Public Affairs)
  • কেরল (Kerala)
  • ভারতের প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদ।
  • জিগমে দর্জি ওয়াংচুক (Jigme Dorji Wangchuck)
  • জনসেবা (Public Affairs)
  • ভুটান (Bhutan)
  • ভুটানের তৃতীয় ড্রুক গিয়ালপো (মহারাজা) – প্রথম বিদেশি পদ্মবিভূষণ প্রাপক।
  • প্রাপকের নাম (Recipient Name) কর্মক্ষেত্র (Field) রাজ্য / দেশ (State / Country) বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব

    ৭. পদ্মবিভূষণ সম্মানপ্রাপ্ত বিশিষ্ট বাঙালি ব্যক্তিবর্গ (Prominent Bengali Recipients)

    বিজ্ঞান, শিল্পকলা, সাহিত্য, চিকিৎসা এবং ভারতীয় সংস্কৃতিতে যুগান্তকারী অবদানের জন্য বহু বাঙালি মনীষী পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন:

  • সত্যজিৎ রায় (Satyajit Ray)
  • শিল্পকলা (চলচ্চিত্র পরিচালনা)
  • ১৯৭৬
  • বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও অস্কারজয়ী পরিচালক (পরবর্তীতে ভারতরত্ন পান)।
  • উদয় শঙ্কর (Uday Shankar)
  • শিল্পকলা (নৃত্যকলা)
  • ১৯৭১
  • ভারতীয় ধ্রুপদী ও আধুনিক ফিউশন নৃত্যের পথিকৃৎ।
  • প্রশান্ত চন্দ্র মহালানবিশ (P. C. Mahalanobis)
  • সাহিত্য ও শিক্ষা (পরিসংখ্যান)
  • ১৯৬৮
  • ভারতীয় পরিসংখ্যানের জনক ও ২য় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার রূপকার।
  • রবি শঙ্কর (Pandit Ravi Shankar)
  • শিল্পকলা (শাস্ত্রীয় সংগীত – সেতার)
  • ১৯৮১
  • আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সেতার বাদক ও সুরকার (পরবর্তীতে ভারতরত্ন পান)।
  • ড. মেঘনাদ সাহা (Meghnad Saha)
  • বিজ্ঞান (জ্যোতির্বিজ্ঞান)
  • —
  • থার্মাল আয়োনাইজেশন সমীকরণ প্রবক্তা বিশিষ্ট বিজ্ঞানী।
  • আচার্য যদুনাথ সরকার (Jadunath Sarkar)
  • সাহিত্য ও শিক্ষা (ইতিহাস)
  • —
  • মোগল সাম্রাজ্যের ইতিহাসের প্রামাণ্য ইতিহাসবিদ।
  • প্রণব মুখোপাধ্যায় (Pranab Mukherjee)
  • জনসেবা (Public Affairs)
  • ২০০৮
  • ভারতের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ও ১৩তম রাষ্ট্রপতি (পরবর্তীতে ভারতরত্ন পান)।
  • সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (Soumitra Chatterjee)
  • শিল্পকলা (চলচ্চিত্র অভিনয়)
  • ২০১২ (পদ্মভূষণ ২০০৪)
  • বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ও দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার প্রাপক।
  • মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)
  • শিল্পকলা (অভিনয় ও সমাজসেবা)
  • ২০২৪ (পদ্মভূষণ)
  • তিনবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ও দাদাসাহেব ফালকে জয়ী অভিনেতা।
  • প্রাপকের নাম ক্ষেত্র (Field) পুরস্কারের সাল স্মরণীয় অবদান

    ৮. ভারতের চারটি প্রধান বেসামরিক পুরস্কারের তুলনামূলক সারণী (Comparison Table)

  • ভারতরত্ন
  • ১ম (সর্বোচ্চ)
  • ১৯৫৪
  • সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যতিক্রমী সেবা বা অবদান
  • সাদা রঙের ফিতা (White Ribbon)
  • পদ্মবিভূষণ
  • ২য় সর্বোচ্চ
  • ১৯৫৪
  • ব্যতিক্রমী ও বিশিষ্ট সেবাকর্ম (Exceptional Service)
  • গোলাপি ফিতা মাঝে সাদা দাগযুক্ত
  • পদ্মভূষণ
  • ৩য় সর্বোচ্চ
  • ১৯৫৪
  • উচ্চপর্যায়ের বিশিষ্ট সেবাকর্ম (High Order Service)
  • গোলাপি ফিতা মাঝে দুটি ডোরাকাটা রেখাযুক্ত
  • পদ্মশ্রী
  • ৪র্থ সর্বোচ্চ
  • ১৯৫৪
  • যেকোনো ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদান (Distinguished Service)
  • গোলাপি ফিতা মাঝে তিনটি সরু রেখাযুক্ত
  • পুরস্কারের নাম পদমর্যাদা ক্রম প্রবর্তনের বছর মূল নীতি ও মূলভাব (Criteria) পদকের ফিতা (Ribbon Color)

    ৯. সাধারণ জিজ্ঞাসা ও প্রশ্নোত্তর (Frequently Asked Questions – FAQs)

    প্রশ্ন ১: পদ্মবিভূষণ পুরস্কারের সাথে কি কোনো আর্থিক অনুদান বা অর্থ দেওয়া হয়?
    উত্তর: না, পদ্মবিভূষণ বা যেকোনো পদ্ম পুরস্কারের সাথে কোনো নগদ অর্থ বা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয় না। প্রাপককে রাষ্ট্রপতির সিলমোহরযুক্ত একটি সনদপত্র (Sanad) এবং একটি ব্রোঞ্জের পদক প্রদান করা হয়।

    প্রশ্ন ২: প্রথম কোন বিদেশি নাগরিককে পদ্মবিভূষণ সম্মাননা প্রদান করা হয়?
    উত্তর: ভুটানের তৃতীয় মহারাজা জিগমে দর্জি ওয়াংচুক (Jigme Dorji Wangchuck) ১৯৫৪ সালে প্রথম বিদেশি ব্যক্তিত্ব হিসেবে পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত হন।

    প্রশ্ন ৩: প্রথম মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ প্রাপক কে ছিলেন?
    উত্তর: ভারতের মহাকাশ গবেষণার জনক ড. বিক্রম সারাভাই (Dr. Vikram Sarabhai) ১৯৭২ সালে প্রথম মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ সম্মাননা লাভ করেন।

    প্রশ্ন ৪: বছরে সর্বোচ্চ কতজনকে পদ্ম পুরস্কার প্রদান করা যায়?
    উত্তর: এক বছরে মরণোত্তর এবং বিদেশি/এনআরআই প্রাপকদের বাদ দিয়ে মোট পদ্ম পুরস্কার প্রাপকের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১২০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়।

    প্রশ্ন ৫: পদ্ম পুরস্কার কমিটি কার নেতৃত্বে গঠিত হয়?
    উত্তর: ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রতি বছর পদ্ম পুরস্কার বাছাই কমিটি গঠন করেন এবং এই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিব (Cabinet Secretary)।


    উপসংহার

    পদ্মবিভূষণ ও পদ্ম পুরস্কারসমূহ ভারতীয় সমাজের নিঃস্বার্থ সাধনা, বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষ এবং সাংস্কৃতিক প্রতিভাকে সম্মান জানানোর সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক মাধ্যম। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সাধারণ তৃণমূল স্তরের সমাজসেবক, লোকশিল্পী ও গ্রামীণ উদ্ভাবকদের ‘পিপলস পদ্ম’ (People’s Padma) উদ্যোগের মাধ্যমে সম্মানিত করার ফলে এই পুরস্কারগুলির মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি চাকরির পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞান (GK) অংশের জন্য পদ্মবিভূষণের ইতিহাস, সাংবিধানিক ধারা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রাপকদের তথ্য আত্মস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরি।

    ভারতের শাসনব্যবস্থা, ইতিহাস ও সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞানের আরও গুরুত্বপূর্ণ নোটস পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট Educenters.in। নিবন্ধটি আপনার প্রস্তুতিতে সহায়ক মনে হলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না!

    Written by

    Author
    Indrani Santra
    Editor

    Bachelor of Arts also Got Health Education certification, Multiple madal in sports, house wife Indrani Santra is the holder of Bachelor of Arts Degree also Got Health Education certification, Multiple madal in sports, house wife

    Leave a Reply