WBCS মেইন পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য question paper
ভারতের প্রাকৃতিক ভূগোল: হিমালয় পর্বতমালার উৎপত্তি, সমান্তরাল পর্বতশ্রেণী, গিরিপথ ও আঞ্চলিক বিভাজনের সম্পূর্ণ পর্যালোচনা
WBCS মেইন পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য question paper
পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (WBPSC) পরিচালিত WBCS Mains Examination-এর জেনারেল স্টাডিজ পেপার-৩ (ভারতের ভূগোল) অংশে ‘ভারতের প্রাকৃতিক ভূপ্রকৃতি’ (Physiography of India) সর্বাধিক নম্বর বহনকারী একটি অধ্যায়। এই অধ্যায়ের কেন্দ্রবিন্দু হলো হিমালয় পর্বতমালা (The Himalayan Mountain System)। উত্তরে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ থেকে পূর্বে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত এই সুবিশাল নবীন ভঙ্গিল পর্বতমালা কেবল ভারতের প্রতিরক্ষার দেওয়াল নয়, বরং সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের জলবায়ু, নদনদী ও অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। নিচে হিমালয়ের ভূতাত্ত্বিক উৎপত্তি, উচ্চতাভিত্তিক সমান্তরাল পর্বতশ্রেণী, প্রধান প্রধান শৃঙ্গ, হ্রদ, গিরিপথ এবং নদী উপত্যকাভিত্তিক আঞ্চলিক বিভাজনের নিখুঁত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো।
💡 WBCS Mains Exam Tip: হিমালয় সংক্রান্ত বর্ণনামূলক প্রশ্ন লেখার সময় প্রধান চ্যুতিরেখাগুলি (MCT, MBT, HFT), কারেওয়া মৃত্তিকার গুরুত্ব এবং স্যার সিডনি বুরার্ডের নদীভিত্তিক ৪টি আঞ্চলিক বিভাজন উল্লেখ করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
১. হিমালয় পর্বতমালার সাধারণ পরিচিতি ও উৎপত্তি (Origin & Dimensions)
হিমালয় শব্দের অর্থ ‘তুষারের আবাস’ (Abode of Snow)। এটি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ও উচ্চতম ভঙ্গিল পর্বতমালা (Young Fold Mountains)।
- বিস্তার ও দৈর্ঘ্য: পশ্চিমে সিন্ধু নদের বাঁক (নাঙ্গা পর্বত) থেকে পূর্বে ব্রহ্মপুত্র নদের বাঁক (নামচা বারওয়া) পর্যন্ত প্রায় ২,৪০০ কিমি দীর্ঘ অর্ধচন্দ্রাকারে বিস্তৃত।
- প্রস্থ: স্থানভেদে এর প্রস্থের ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়— পশ্চিমে কাশ্মীরে এর প্রস্থ প্রায় ৫০০ কিমি, কিন্তু পূর্বে অরুণাচল প্রদেশে তা সংকীর্ণ হয়ে প্রায় ১৫০–২০০ কিমি-তে দাঁড়ায়।
- ক্ষেত্রফল: হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল ভারতের প্রায় ৫ লাখ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থান করছে।
- ভূতাত্ত্বিক উৎপত্তি (Plate Tectonics): মেসোজোয়িক যুগে অঙ্গারাল্যান্ড (উত্তরে) এবং গন্ডোয়ানাল্যান্ডের (দক্ষিণে) মাঝে অবস্থিত অগভীর টেথিস সাগরের (Tethys Geosyncline) পলি রাশিতে টারশিয়ারি যুগে পাত সংস্থান প্রক্রিয়ার (ইন্দো-অস্ট্রেলীয় পাত ও ইউরেশীয় পাতের অবিরাম সংঘর্ষ) ফলে সংকোচন ও প্রবল পার্শ্বচাপের সৃষ্টি হয়। এর ফলেই টেথিসের পলি ভাঁজ খেয়ে টারশিয়ারি যুগের শেষভাগে হিমালয় পর্বতমালার জন্ম দেয়।
হিমালয়ের প্রধান ভূতাত্ত্বিক চ্যুতিরেখাসমূহ (Major Geotectonic Faults):
হিমালয়ের সমান্তরাল পর্বতশ্রেণীগুলি কতগুলি সুস্পষ্ট চ্যুতি বা ফাটল রেখা দ্বারা পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে, যা ভূগোলের পরীক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
| চ্যুতিরেখার নাম (Fault / Thrust Line) | বিভাজনকারী অবস্থান (Between Mountain Ranges) |
|---|---|
২. উচ্চতা ও সমান্তরাল পর্বতশ্রেণী অনুযায়ী হিমালয়ের বিভাজন (Longitudinal Divisions)
উত্তর থেকে দক্ষিণে সমান্তরালভাবে বিস্তৃত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে সমগ্র হিমালয় পর্বতমালাকে প্রধানত ৫টি সমান্তরাল স্তরে ভাগ করা যায়:
১. ট্রান্স হিমালয় বা তিব্বতীয় হিমালয় (Trans-Himalayas / Tibetan Himalaya)
হিমাদ্রির ঠিক উত্তরে অবস্থিত এই অঞ্চলটি হিমালয়ের সবচেয়ে প্রাচীন অংশ। এর বেশিরভাগ অংশ তিব্বতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় একে তিব্বতীয় হিমালয়ও বলা হয়। এর গড় প্রস্থ প্রায় ৪০ কিমি এবং গড় উচ্চতা প্রায় ৫,৭০০–৫,৮০০ মিটার। কারাকোরাম, লাদাখ, জাস্কর ও কৈলাস পর্বতশ্রেণী এর প্রধান অংশ।
- কারাকোরাম পর্বতশ্রেণী (Karakoram Range): এটিকে “Backbone of High Asia” (উচ্চ এশিয়ার মেরুদণ্ড) বলা হয়। ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ K2 বা গডউইন অস্টিন (Godwin Austen – ৮,৬১১ মিটার) এই পর্বতশ্রেণীতে অবস্থিত। ভারতের বৃহত্তম হিমবাহ সিয়াচেন (Siachen – ৭৬ কিমি), বলতোরো, বিয়াফো এবং হিসপার কারাকোরামে অবস্থিত।
- লাদাখ মালভূমি: কারাকোরাম ও লাদাখ পর্বতশ্রেণীর মধ্যবর্তী ৫,০০০ মিটার উঁচু লাদাখ মালভূমি হলো ভারতের সর্বোচ্চ মালভূমি (একটি শীতল মরুভূমি)।
- রাকাপোশি (Rakaposhi – ৭,৭৮৮ মিটার): লাদাখ পর্বতশ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত এই শৃঙ্গটি বিশ্বের সর্বাধিক খাড়া ঢালযুক্ত (Steepest Peak) পর্বতশৃঙ্গ।
ট্রান্স হিমালয়ের প্রধান প্রধান শৃঙ্গ ও হ্রদসমূহ:
| পর্বত শৃঙ্গ (Peak) | উচ্চতা (মিটার) | অবস্থান ও বিশেষ গুরুত্ব |
|---|---|---|
| হ্রদের নাম (Lake) | হ্রদের প্রকৃতি (Type) | ভৌগোলিক অবস্থান |
|---|---|---|
২. গ্রেটার হিমালয় বা হিমাদ্রি হিমালয় (The Greater Himalayas / Himadri)
ট্রান্স হিমালয়ের দক্ষিণে অবিচ্ছিন্ন প্রাচীরের মতো বিস্তৃত স্তরটি হলো হিমাদ্রি হিমালয়। এটি হিমালয়ের সর্বাপেক্ষা উঁচু অংশ, যার গড় উচ্চতা ৬,০০০–৬,১০০ মিটার। এটি পশ্চিমে জম্মু-কাশ্মীরের নাঙ্গা পর্বত (৮,১২৬ মি) থেকে পূর্বে অরুণাচলের নামচা বারওয়া (৭,৭৮২ মি) পর্যন্ত বিস্তৃত। সারা বছর বরফাবৃত থাকে বলে একে ‘হিমাদ্রি’ বলা হয়। পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গগুলি এই অংশে কেন্দ্রীভূত।
- মাউন্ট এভারেস্ট (Mount Everest – ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার): নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে অবস্থিত পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। নেপালি ভাষায় এর নাম ‘সাগরমাথা’ (Sagarmatha – আকাশের দেবী) এবং তিব্বতি ভাষায় একে ‘চোমোলাংমা’ (Chomolungma – বিশ্বের দেবীমাতা) বলা হয়।
- কাঞ্চনজঙ্ঘা (Kangchenjunga – ৮,৫৮৬ মিটার): ভারতের বর্তমান প্রশাসনিক সীমানার মধ্যে অবস্থিত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ (সিকিম ও নেপাল সীমান্তে অবস্থিত)। এটি পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ।
হিমাদ্রি হিমালয়ের অবস্থিত বিশ্বের শীর্ষ শৃঙ্গসমূহের তালিকা:
| পর্বতশৃঙ্গের নাম | উচ্চতা (মিটার) | বর্তমান ভৌগোলিক অবস্থান |
|---|---|---|
৩. লেসার হিমালয় বা হিমাচল হিমালয় (The Lesser Himalayas / Himachal)
হিমাদ্রির দক্ষিণে এবং শিবালিকের উত্তরে অবস্থিত স্তরটিকে মধ্য হিমালয় বা হিমাচল বলা হয়। এর গড় উচ্চতা ৩,৫০০ থেকে ৪,৫০০ মিটার এবং গড় প্রস্থ ৬০ থেকে ৮০ কিমি। এটি অসংখ্য বিচ্ছিন্ন সমান্তরাল পর্বতশ্রেণীর সমন্বয়ে গঠিত:
- প্রধান পর্বতশ্রেণীসমূহ: পীরপাঞ্জাল রেঞ্জ (Pir Panjal – দীর্ঘতম ও প্রধান রেঞ্জ, কাশ্মীর), ধৌলাধর রেঞ্জ (Dhauladhar – হিমাচল প্রদেশ), মুসৌরি ও নাগ টিব্বা (উত্তরাখণ্ড) এবং মহাভারত লেখ (Mahabharat Lekh – নেপাল)।
- উপত্যকা (Intermontane Valleys): হিমাদ্রি ও হিমাচল হিমালয়ের মাঝখানে বিখ্যাত কিছু উন্মুক্ত উপত্যকা রয়েছে, যেমন— কাশ্মীর উপত্যকা (ঝিলাম নদী অববাহিকা), কাঠমান্ডু উপত্যকা (নেপাল), এবং হিমাচল প্রদেশের কুল্লু, কাংড়া ও লাহুল-স্পিতি উপত্যকা।
- নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি (Alpine Grasslands): হিমাচল পর্বতের ঢালে মনোরম নাতিশীতোষ্ণ আলপাইন তৃণভূমি দেখা যায়। কাশ্মীরে এদের ‘মার্গ’ (যেমন গুলমার্গ, সোনমার্গ, তানমার্গ) এবং উত্তরাখণ্ডে ‘বুগিয়াল’ (Bugyal) ও ‘পায়ার’ (Payar) বলা হয়।
কাশ্মীর উপত্যকার ‘কারেওয়া’ সঞ্চয় (Karewa Formation):
প্লাইস্টোসিন যুগে কাশ্মীর উপত্যকা একটি বিশালাকার হ্রদ ছিল। পরবর্তীতে হ্রদ শুকিয়ে গিয়ে হিমবাহ ও হ্রদের পলি, কাদামাটি ও নুড়ি জমে যে পুরু ধাপযুক্ত প্রাচীন পললমৃত্তিকা স্তর গড়ে উঠেছে, তাকে কারেওয়া (Karewas) বলে। কারেওয়া মৃত্তিকা অত্যন্ত উর্বর এবং এটি বিশ্বখ্যাত জাফরান (Zafran / Saffron), আখরোট ও আপেল চাষের জন্য ভারতের শ্রেষ্ঠ অঞ্চল।
৪. শিবালিক বা বহিঃহিমালয় (Outer Himalayas / Shiwalik)
হিমালয়ের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত সবচেয়ে কনিষ্ঠ ও নিচু পর্বতশ্রেণীকে শিবালিক বলে। এর গড় উচ্চতা ৯০০ থেকে ১,২০০ মিটার এবং প্রস্থ প্রায় ১০ থেকে ৫০ কিমি। মূল হিমালয় থেকে নেমে আসা নদীবাহিত পলি ও নুড়িস্তর সংকুচিত হয়ে শিবালিক তৈরি হয়েছে।
- আঞ্চলিক নামসমূহ: জম্মু অঞ্চলে ‘জম্মু পাহাড়’, উত্তরাখণ্ডে ‘দুধওয়া ও ডান্ডোয়া রেঞ্জ’, নেপালে ‘চুরিয়া-মুরিয়া পাহাড়’ এবং অরুণাচল প্রদেশে ডাফলা (Dafla), মিরি (Miri), আবর (Abor) ও মিশমি (Mishmi) পাহাড় নামে পরিচিত।
- দুন ও দুয়ার্স (Duns & Duars): হিমাচল ও শিবালিকের মাঝে নদী গঠিত অনুদৈর্ঘ্য সমতল উপত্যকা গড়ে উঠেছে। পশ্চিম ও মধ্য ভাগে এদের ‘দুন’ (যেমন উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন, কোটলি দুন, পাটলির দুন) এবং পূর্ব ভারতে (পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে) এদের ‘দুয়ার্স’ (Duars) বলা হয়। দেরাদুন ভারতের বৃহত্তম দুন উপত্যকা (দৈর্ঘ্য ৩৫ কিমি, প্রস্থ ২৫ কিমি)।
৫. পূর্বাঞ্চল বা উত্তর-পূর্বের পার্বত্য অঞ্চল (Purvanchal / Eastern Hills)
অরুণাচল প্রদেশের ডিহাং গিরিখাত (Dihang Gorge) অতিক্রম করার পর হিমালয় পর্বতমালা আকস্মিকভাবে দক্ষিণ দিকে তীক্ষ্ণ বাঁক (Syntaxial Bend) নিয়ে ভারত-মায়ানমার সীমান্ত বরাবর প্রসারিত হয়েছে। এই অংশকে ‘পূর্বাঞ্চল’ বলা হয়।
- পাটকাই বুম (Patkai Bum): অরুণাচল প্রদেশ ও মায়ানমারের মধ্যবর্তী প্রাকৃতিক সীমান্ত গঠন করেছে। এর সর্বোচ্চ বিন্দু দাফা বুম (Dapha Bum – ৪,৫৭৮ মি)।
- নাগা পাহাড় (Naga Hills): ভারত-মায়ানমার সীমান্তে অবস্থিত। এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট সারামতি (Mount Saramati – ৩,৮২৬ মিটার), যা সমগ্র পূর্বাঞ্চলের উচ্চতম শৃঙ্গ।
- মিজো / লুসাই পাহাড় (Mizo / Lushai Hills): মিজোরামের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হলো ব্লু মাউন্টেন বা ফংপুই (Phawngpui / Blue Mountain – ২,১৫৭ মিটার)।
- মেঘালয় মালভূমি: গারো, খাসি, জয়ন্তীয়া পাহাড় হিমালয়ের অংশ নয়; এটি ভূতাত্ত্বিকভাবে দাক্ষিণাত্যের উপদ্বীপীয় মালভূমিরই একটি বিচ্ছিন্ন অংশ (Malda Gap দ্বারা পৃথক)।
৩. নদী উপত্যকা অনুযায়ী হিমালয়ের আঞ্চলিক বিভাগ (Sir Sidney Burrard’s Classification)
বিখ্যাত ভূতাত্ত্বিক স্যার সিডনি বুরার্ড (Sir Sidney Burrard) নদী উপত্যকাগুলির অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে পশ্চিম থেকে পূর্বে হিমালয় পর্বতমালাকে ৪টি প্রধান আঞ্চলিক ভাগে বিভক্ত করেছেন:
| আঞ্চলিক বিভাগ (Division) | নদী সীমানা (River Boundaries) | দৈর্ঘ্য (কিমি) | অন্তর্ভুক্ত রাজ্য ও প্রধান শৃঙ্গসমূহ |
|---|---|---|---|
৪. হিমালয়ের গুরুত্বপূর্ণ গিরিপথসমূহের তালিকা (Major Mountain Passes of the Himalayas)
হিমালয়ের দুর্গম পর্বতশ্রেণী অতিক্রম করার জন্য ব্যবহৃত প্রধান প্রধান গিরিপথগুলি (Mountain Passes) পরীক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
| গিরিপথের নাম (Pass) | অবস্থিত রাজ্য / কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল | সংযোগকারী অঞ্চল ও বিশেষ ভৌগোলিক গুরুত্ব |
|---|---|---|
৫. ভারতীয় জীবনে হিমালয়ের তাৎপর্য ও গুরুত্ব (Significance of the Himalayas)
- প্রাকৃতিক ও জলবায়ু প্রাচীর: শীতকালে মধ্য এশিয়া ও সাইবেরিয়া থেকে আসা হাড়কাঁপানো মারাত্মক শীতল শুষ্ক বাতাসকে আটকে দিয়ে ভারতকে চরম শৈত্যপ্রবাহ থেকে রক্ষা করে। অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুকে বাধা দিয়ে সমগ্র উত্তর ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- চিরপ্রবাহী নদনদীর উৎস: গঙ্গা, যমুনা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি উত্তর ভারতের প্রধান নদীগুলির উৎস হিমালয়ের বরফগলা হিমবাহ (যেমন গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী, চেমায়ুংদুং)।
- জলবিদ্যুৎ ও বনজ সম্পদ: তীব্র খরস্রোতা পাহাড়ি নদীগুলি ভারতের জলবিদ্যুৎ (Hydroelectricity) উৎপাদনের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। এছাড়া ওক, পাইন, দেবদারু, ফার ইত্যাদি নরম কাঠের বনভূমি ও ঔষধি উদ্ভিদের বিশাল ভাণ্ডার।
- পর্যটন ও জাতীয় নিরাপত্তা: গুলমার্গ, শিমলা, মানালি, মুসৌরি, নৈনিতাল, দার্জিলিং ইত্যাদি বিশ্বখ্যাত শৈলশহর এবং অমরনাথ, বদ্রীনাথ, কেদারনাথ, বৈষ্ণোদেবীর মতো বিখ্যাত তীর্থস্থান পর্যটন অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে। একই সাথে এটি প্রাকৃতিক সামরিক সীমারেখা হিসেবে দেশকে সুরক্ষা দেয়।
৬. সাধারণ জিজ্ঞাসা ও প্রশ্নোত্তর (Frequently Asked Questions – FAQs)
প্রশ্ন ১: হিমালয় পর্বতমালার উৎপত্তি কোন সাগর থেকে হয়েছে?
উত্তর: মেসোজোয়িক যুগের অগভীর ‘টেথিস সাগর’ (Tethys Geosyncline)-এর পলিরাশিতে ভারতীয় পাত ও ইউরেশীয় পাতের সংঘাতের ফলে টারশিয়ারি যুগে ভঙ্গিল পর্বত হিসেবে হিমালয় সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশ্ন ২: ভারতের বর্তমান প্রশাসনিক সীমানার মধ্যে অবস্থিত সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি?
উত্তর: সিকিম ও নেপাল সীমান্তে অবস্থিত কাঞ্চনজঙ্ঘা (৮,৫৮৬ মিটার)। (K2 ভৌগোলিকভাবে ভারতের সর্বোচ্চ হলেও তা পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত)।
প্রশ্ন ৩: কাশ্মীর উপত্যকার ‘কারেওয়া’ (Karewa) কী এবং এটি কোন ফসলের জন্য বিখ্যাত?
উত্তর: প্লাইস্টোসিন যুগে কাশ্মীর উপত্যকার প্রাচীন হ্রদের তলদেশে জমে থাকা পলি, কাদা ও নুড়ির ধাপযুক্ত সঞ্চয়কে কারেওয়া বলে। এটি জাফরান (Saffron) চাষের জন্য বিশ্ববিখ্যাত।
প্রশ্ন ৪: শতদ্রু নদী কোন গিরিপথের মধ্য দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে?
উত্তর: হিমাচল প্রদেশের ‘শিপকি লা’ (Shipki La) গিরিপথের মধ্য দিয়ে শতদ্রু নদী তিব্বত থেকে ভারতে প্রবেশ করেছে।
প্রশ্ন ৫: নদী উপত্যকা অনুযায়ী হিমালয়কে কয়টি আঞ্চলিক ভাগে ভাগ করা হয়?
উত্তর: স্যার সিডনি বুরার্ডের শ্রেণিভাগ অনুযায়ী ৪টি ভাগে ভাগ করা হয়— ১. পাঞ্জাব/কাশ্মীর হিমালয় (সিন্ধু থেকে শতদ্রু), ২. কুমায়ুন হিমালয় (শতদ্রু থেকে কালী), ৩. নেপাল হিমালয় (কালী থেকে তিস্তা), এবং ৪. আসাম হিমালয় (তিস্তা থেকে ব্রহ্মপুত্র)।
উপসংহার
WBCS Preliminary এবং Mains উভয় পরীক্ষার জন্যই হিমালয় পর্বতমালার প্রতিটি পর্বতশ্রেণী, প্রধান প্রধান শৃঙ্গ, উপত্যকা, হ্রদ ও গিরিপথ সংক্রান্ত খুঁটিনাটি তথ্য অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আয়ত্তে রাখা প্রয়োজন। উপরে আলোচিত পয়েন্ট ও তুলনামূলক টেবিলগুলি নিয়মিত রিভিশন দিলে পরীক্ষায় যেকোনো জটিল প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর দেওয়া সহজ হবে।
ভারতের ভূগোল ও সরকারি চাকরির অন্যান্য বিষয়ের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্টাডি নোটস পেতে আমাদের ওয়েবসাইট Educenters.in-এর সাথেই থাকুন। পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
