Jnanpith Award: History, Criteria, Bengali Winners & Full List
জ্ঞানপীঠ পুরস্কার (Jnanpith Award): ইতিহাস, পুরস্কারের বৈশিষ্ট্য, বাঙালি প্রাপক ও বিজয়ীদের সম্পূর্ণ তালিকা
Jnanpith Award: History, Criteria, Bengali Winners & Full List
ভারতীয় সাহিত্যের জগতে সর্বোচ্চ এবং সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা হলো জ্ঞানপীঠ পুরস্কার (Jnanpith Award)। ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফসিলে (Eighth Schedule) অন্তর্ভুক্ত ২২টি স্বীকৃত ভাষা এবং ইংরেজি ভাষায় রচিত সাহিত্যের ক্ষেত্রে অসামান্য ও কালজয়ী অবদানের জন্য প্রতি বছর ভারতীয় লেখকদের এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। ভারতীয় সংস্কৃতির উৎকর্ষতা এবং মাতৃভাষার সাহিত্যকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে জ্ঞানপীঠ পুরস্কারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ডব্লিউবিসিএস (WBCS), ইউপিএসসি (UPSC), রেলওয়ে, এসএসসি (SSC) ও অন্যান্য রাজ্য সরকারি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জেনারেল নলেজ (Static GK) অংশের জন্য জ্ঞানপীঠ পুরস্কারের ইতিহাস, নিয়মাবলী এবং প্রাপকদের তালিকা জানা অত্যন্ত জরুরি। নিচে এই পুরস্কার সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
💡 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: ‘জ্ঞানপীঠ’ শব্দটি দুটি সংস্কৃত শব্দ— ‘জ্ঞান’ (Jñāna) এবং ‘পীঠ’ (Pīṭha)-এর সমন্বয়ে গঠিত, যার আক্ষরিক অর্থ হলো “জ্ঞানের আসন” (Seat of Knowledge)।
১. জ্ঞানপীঠ পুরস্কারের ঐতিহাসিক পটভূমি (History & Foundation)
ভারতীয় সাহিত্যের বিকাশ ও প্রতিভাকে জাতীয় স্বীকৃতি প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৯৪৪ সালে প্রখ্যাত শিল্পপতি ও সমাজসেবক সাহু শান্তি প্রসাদ জৈন (Sahu Shanti Prasad Jain) এবং তাঁর পত্নী রমা জৈন (Rama Jain) যৌথভাবে ‘ভারতীয় জ্ঞানপীঠ’ (Bharatiya Jnanpith) নামক একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সাংস্কৃতিক ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন।
- প্রবর্তন ও সূচনা: ১৯৬১ সালের ২২শে মে সাহু শান্তি প্রসাদ জৈনের ৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই পুরস্কারটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও ভাষাতাত্ত্বিক ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে ১৯৬১ সালের নভেম্বরে এক বৈঠকে পুরস্কারের প্রাথমিক রূপরেখা চূড়ান্ত হয়।
- প্রথম পুরস্কার প্রদান (1965): আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম জ্ঞানপীঠ পুরস্কার প্রদান করা হয় ১৯৬৫ সালে। বিশিষ্ট মালয়ালম কবি ও সাহিত্যিক জি. শঙ্করা কুরুপ (G. Sankara Kurup) তাঁর কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ ‘ওদাক্কুঝল’ (Odakkuzhal – বাঁশের বাঁশি)-এর জন্য প্রথম জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন।
২. পুরস্কারের স্মারক ও উপাদানসমূহ (Components of the Award)
জ্ঞানপীঠ পুরস্কার বিজয়ীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তিনটি মূল উপাদান প্রদান করা হয়:
১. নগদ অর্থমূল্য (Cash Prize)
বর্তমানে পুরস্কারের আর্থিক মূল্য হলো ১১ লক্ষ টাকা (₹11 Lakh)। (উল্লেখ্য, ১৯৬৫ সালে এটি ছিল ১ লক্ষ টাকা, ১৯৮১ সালে ১.৫ লক্ষ, ১৯৮৬ সালে ৫ লক্ষ এবং ২০০৫ সালে বাড়িয়ে ৭ লক্ষ ও ২০১১ সালে ১১ লক্ষ টাকা করা হয়)।
২. বাগদেবীর ব্রোঞ্জমূর্তি (Vagdevi Bronze Replica)
বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর (মা বাগদেবী) একটি ব্রোঞ্জ প্রতিমূর্তি প্রদান করা হয়। এই মূর্তিটি মধ্যপ্রদেশের ধার অঞ্চলে অবস্থিত প্রাচীন পারমার রাজা ভোজের ভোজশালা মন্দিরের (১০৩৪ খ্রিস্টাব্দ) ঐতিহাসিক মূর্তির হুবহু প্রতিরূপ।
৩. মানপত্র ও শাল (Citation Plaque & Shawl)
প্রাপকের সাহিত্যকীর্তির ভূয়সী প্রশংসা সম্বলিত একটি আনুষ্ঠানিকভাবে উৎকীর্ণ ব্রোঞ্জ প্রশস্তিফলক (Citation Plaque) এবং ঐতিহ্যবাহী শাল প্রদান করা হয়।
৩. যোগ্যতার মানদণ্ড ও নির্বাচনের নিয়মাবলী (Eligibility & Rules)
জ্ঞানপীঠ পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে ভারতীয় জ্ঞানপীঠ ট্রাস্ট সুনির্দিষ্ট কিছু কঠোর নিয়মাবলী অনুসরণ করে:
- নাগরিকত্ব: পুরস্কার প্রাপককে অবশ্যই ভারতের নাগরিক (Citizen of India) হতে হবে। কোনো বিদেশি লেখক এই পুরস্কারের জন্য যোগ্য নন।
- স্বীকৃত ভাষা: ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফসিলে উল্লেখিত ২২টি ভাষা এবং ইংরেজি ভাষায় রচিত সাহিত্যের জন্য এটি প্রদান করা হয় (২০১৮ সালে অমিতাভ ঘোষ প্রথম ইংরেজি ভাষার সাহিত্যিক হিসেবে জ্ঞানপীঠ পান)।
- মরণোত্তর নিষিদ্ধ (No Posthumous Award): জ্ঞানপীঠ পুরস্কার কোনো অবস্থাতেই মরণোত্তর (Posthumously) প্রদান করা হয় না। প্রাপককে জীবিত অবস্থায় মনোনীত হতে হয়।
- ১৯৮২ সালের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম পরিবর্তন: ১৯৬৫ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত লেখকদের কোনো একটি নির্দিষ্ট বই বা একক সৃষ্টির (Single Literary Work) জন্য জ্ঞানপীঠ দেওয়া হতো। কিন্তু ১৯৮২ সাল থেকে এই নিয়ম পরিবর্তন করে ভারতীয় সাহিত্যে সামগ্রিক আজীবন অবদানের (Lifetime Contribution to Indian Literature) স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার প্রদানের নিয়ম চালু হয়।
- পুনরাবৃত্তি নিষিদ্ধ: কোনো একক লেখক তাঁর জীবদ্দশায় কেবল একবারই এই পুরস্কার পেতে পারেন। কোনো বিশেষ ভাষায় একবার জ্ঞানপীঠ দেওয়া হলে পরবর্তী কয়েক বছর সেই ভাষাটিকে সাধারণত বিবেচনা করা হয় না।
মনোনয়ন ও নির্বাচন পদ্ধতি (Selection Process):
প্রতিটি ভাষার জন্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমালোচক ও অধ্যাপকদের নিয়ে গঠিত একটি ‘ভাষা উপদেষ্টা সমিতি’ (Language Advisory Committee) প্রাথমিক পর্যালোচনা করে। এরপর ৭ থেকে ১১ জন প্রথিতযশা সাহিত্যিক ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত কেন্দ্রীয় ‘নির্বাচন পরিষদ’ (Selection Board / Jnanpith Selection Committee) সমস্ত ভাষার মনোনয়ন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।
৪. জ্ঞানপীঠ পুরস্কারে বাংলা সাহিত্যের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় (Bengali Laureates)
বাংলা সাহিত্য ভারতীয় সাহিত্য জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র। আজ পর্যন্ত মোট ৬ জন বিশিষ্ট বাঙালি সাহিত্যিক জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করে বাংলা ভাষাকে গৌরবান্বিত করেছেন। নিচে তাঁদের বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলো:
| সাল | বাঙালি প্রাপকের নাম | স্বীকৃত সাহিত্যকর্ম / অবদান | বিশেষ তথ্য ও গুরুত্ব |
|---|---|---|---|
| ১৯৬৬ | তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (Tarasankar Bandyopadhyay) | ‘গণদেবতা’ (Ganadevata – উপন্যাস) | বাংলা ভাষার প্রথম জ্ঞানপীঠ প্রাপক (সামগ্রিকভাবে ২য় জ্ঞানপীঠ)। রাঢ় বাংলার সমাজ ও মানুষের জীবন্ত রূপকার। |
| ১৯৭১ | বিষ্ণু দে (Bishnu Dey) | ‘স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ’ (Smriti Satta Bhabishyat – কাব্যগ্রন্থ) | আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম স্তম্ভ। মার্কসবাদী ভাবধারা ও আধুনিক রূপকল্পের মেলবন্ধনকারী। |
| ১৯৭৬ | আশাপূর্ণা দেবী (Ashapoorna Devi) | ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ (Pratham Pratishruti – উপন্যাস) | সমগ্র ভারতের প্রথম মহিলা জ্ঞানপীঠ বিজয়ী। তাঁর বিখ্যাত ত্রয়ী উপন্যাসের প্রথম পর্বের জন্য এই সম্মান পান। |
| ১৯৯১ | সুভাষ মুখোপাধ্যায় (Subhash Mukhopadhyay) | বাংলা সাহিত্যে আজীবন সামগ্রিক অবদান (পদাতিক কবি) | গণমানুষের কবি হিসেবে খ্যাত ‘পদাতিক’ সুভাষ মুখোপাধ্যায় আধুনিক বাংলা কবিতাকে নতুন মাত্রা দেন। |
| ১৯৯৬ | মহাশ্বেতা দেবী (Mahasweta Devi) | বাংলা সাহিত্যে আজীবন সামগ্রিক অবদান (হাজার চুরাশির মা) | আদিবাসী ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার আপসহীন কথাসাহিত্যিক ও সমাজকর্মী। |
| ২০১৬ | শঙ্খ ঘোষ (Sankha Ghosh) | বাংলা সাহিত্য ও কবিতায় আজীবন সামগ্রিক অবদান | প্রখ্যাত কবি, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্র-গবেষক। আধুনিক সমাজচেতনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিবেক। |
৫. জ্ঞানপীঠ বিজয়ী ভারতীয় বিদুষী নারী সাহিত্যিকগণ (Female Recipients)
জ্ঞানপীঠ পুরস্কারের সুদীর্ঘ ইতিহাসে ভারতীয় নারী সাহিত্যিকদের অবদান অত্যন্ত উজ্জ্বল। আজ পর্যন্ত মোট ৮ জন বিদুষী নারী এই সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মানে ভূষিত হয়েছেন:
- আশাপূর্ণা দেবী (১৯৭৬ – বাংলা): ভারতের প্রথম মহিলা জ্ঞানপীঠ প্রাপক (উপন্যাস: প্রথম প্রতিশ্রুতি)।
- অমৃতা প্রীতম (১৯৮১ – পাঞ্জাবি): প্রখ্যাত পাঞ্জাবি কবি ও কথাসাহিত্যিক (কাব্যগ্রন্থ: কাগজ তে ক্যানভাস)।
- মহাদেবী বর্মা (১৯৮২ – হিন্দি): ছায়াবাদী যুগের শ্রেষ্ঠ হিন্দি কবি (কাব্যগ্রন্থ: যামা)।
- কুরাতুলআইন হায়দার (১৯৮৯ – উর্দু): উর্দু কথাসাহিত্যের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ (উপন্যাস: আগ কা দরিয়া)।
- মহাশ্বেতা দেবী (১৯৯৬ – বাংলা): বাংলা সাহিত্যের প্রথিতযশা সমাজমনস্ক ঔপন্যাসিক।
- ইন্দিরা গোস্বামী / মামনি রয়সম গোস্বামী (২০০০ – অসমীয়া): রামায়ণী গবেষক ও বিশিষ্ট অসমীয়া সাহিত্যিক।
- প্রতিভা রায় (২০১১ – ওড়িয়া): বিখ্যাত ওড়িয়া ঔপন্যাসিক (উপন্যাস: যাজ্ঞসেনী)।
- কৃষ্ণা সোবতি (২০১৭ – হিন্দি): আধুনিক হিন্দি কথাসাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম লেখিকা (উপন্যাস: জিন্দেগিনামা)।
৬. ভাষাভিত্তিক জ্ঞানপীঠ পুরস্কারের বণ্টন (Language-wise Analysis)
জ্ঞানপীঠ পুরস্কার প্রদানে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার প্রাচুর্য লক্ষণীয়। সর্বাধিক সংখ্যক জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেছে হিন্দি ভাষা (১১ বার) এবং এর ঠিক পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কন্নড় ভাষা (৮ বার)। বাংলা ভাষা যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে (৬ বার)।
| ভাষার নাম (Language) | পুরস্কার জয়ের সংখ্যা | উল্লেখযোগ্য প্রাপকগণ |
|---|---|---|
| হিন্দি (Hindi) | ১১ বার | সুমিত্রানন্দন পন্থ (১ম হিন্দি), রামধারী সিং দিনকর, অজ্ঞেয়, মহাদেবী বর্মা, নির্মল বর্মা, অমর কান্ত, কৃষ্ণা সোবতি। |
| কন্নড় (Kannada) | ৮ বার | কুভেম্পু (কে. ভি. পুট্টাপ্পা), ডি. আর. বেন্দ্রে, শিবরাম কারান্ত, মাস্তি ভেঙ্কটেশ আয়েঙ্গার, ভি. কে. গোকাক, ইউ. আর. অনন্তমূর্তি, গিরিশ কারনাড, চন্দ্রশেখর কাম্বার। |
| বাংলা (Bengali) | ৬ বার | তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বিষ্ণু দে, আশাপূর্ণা দেবী, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, মহাশ্বেতা দেবী, শঙ্খ ঘোষ। |
| মালয়ালম (Malayalam) | ৬ বার | জি. শঙ্করা কুরুপ, এস. কে. পোট্টেক্কাট, এম. টি. বাসুদেবন নায়ার, ও. এন. ভি. কুরূপ, অক্কিতম অচ্যুথান নাম্বুথিরি। |
| গুজরাটি (Gujarati) | ৪ বার | উমাশঙ্কর যোশী, পান্নালাল প্যাটেল, রাজেন্দ্র শাহ, রঘুবীর চৌধুরী। |
| উর্দু (Urdu) | ৫ বার | ফিরাক গোরখপুরী, আলি সরদার জাফরি, কুররাতুলআইন হায়দার, শাহরিয়ার, গুলজার (২০২৩)। |
| ওড়িয়া (Odia) | ৪ বার | গোপীনাথ মহান্তি, সচ্চিদানন্দ রাউতরায়, সীতাকান্ত মহাপাত্র, প্রতিভা রায়। |
| অসমীয়া (Assamese) | ৩ বার | বীরেন্দ্র কুমার ভট্টাচার্য, ইন্দিরা গোস্বামী, নীলমণি ফুকন। |
| সংস্কৃত (Sanskrit) | ২ বার | সত্যব্রত শাস্ত্রী (২০০৬), জগদ্গুরু রামভদ্রাচার্য (২০২৩)। |
| ইংরেজি (English) | ১ বার | অমিতাভ ঘোষ (২০১৮ – প্রথম ও একমাত্র ইংরেজি প্রাপক)। |
৭. সাম্প্রতিক জ্ঞানপীঠ পুরস্কার বিজয়ীদের সম্পূর্ণ তালিকা (Recent Winners List)
নিচে বিগত বছরগুলির জ্ঞানপীঠ পুরস্কার প্রাপকদের সাল, নাম, ভাষা ও তাঁদের সাহিত্যিক অবদানের পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হলো:
| বছর (Year) | জ্ঞানপীঠ সংস্করণ | প্রাপকের নাম (Laureate Name) | ভাষা (Language) | সাহিত্যিক অবদান / বিশেষ তথ্য |
|---|---|---|---|---|
| ২০২৩ | ৫৮তম (যৌথ) | গুলজার (Sampooran Singh Kalra / Gulzar) জগদ্গুরু রামভদ্রাচার্য (Jagadguru Rambhadracharya) |
উর্দু (Urdu) সংস্কৃত (Sanskrit) |
উর্দু কবিতা ও ভারতীয় সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য প্রখ্যাত গীতিকার ও কবি গুলজার এবং সংস্কৃত শাস্ত্র, বহুভাষাবিদ পণ্ডিত ও তুলসীপীঠের প্রতিষ্ঠাতা রামভদ্রাচার্যকে যৌথভাবে সম্মানিত করা হয়। |
| ২০২১-২২ | ৫৭তম | দামোদর মাওজো (Damodar Mauzo) | কোঙ্কণী (Konkani) | গোয়ার বিখ্যাত ছোটগল্পকার ও ঔপন্যাসিক। কোঙ্কণী সাহিত্যে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে জ্ঞানপীঠ পান (উপন্যাস: কার্মেলিন)। |
| ২০২০-২১ | ৫৬তম | নীলমণি ফুকন (Nilmani Phookan Jr.) | অসমীয়া (Assamese) | অসমীয়া কবিতার প্রবাদপ্রতিম আধুনিক প্রতীকবাদী কবি। |
| ২০১৯ | ৫৫তম | অক্কিতম অচ্যুথান নাম্বুথিরি (Akkitham Achuthan Namboothiri) | মালয়ালম (Malayalam) | আধুনিক মালয়ালম কবিতার ঋষিতুল্য ব্যক্তিত্ব ও সমাজসংস্কারক কবি। |
| ২০১৮ | ৫৪তম | অমিতাভ ঘোষ (Amitav Ghosh) | ইংরেজি (English) | জ্ঞানপীঠের ইতিহাসে প্রথম ইংরেজি ভাষার লেখক হিসেবে পুরস্কৃত হন (বিখ্যাত সৃষ্টি: দ্য শ্যাডো লাইনস, আইবিস ট্রিলজি)। |
| ২০১৭ | ৫৩তম | কৃষ্ণা সোবতি (Krishna Sobti) | হিন্দি (Hindi) | আধুনিক হিন্দি কথাসাহিত্য ও নারী স্বাধীনতার বিশিষ্ট লেখিকা (উপন্যাস: মিতরো মরজানি, জিন্দেগিনামা)। |
| ২০১৬ | ৫২তম | শঙ্খ ঘোষ (Sankha Ghosh) | বাংলা (Bengali) | বাংলা কবিতা, সমালোচনামূলক প্রবন্ধ ও রবীন্দ্র-গবেষণায় আজীবন অসামান্য অবদান। |
| ২০১৫ | ৫১তম | রঘুবীর চৌধুরী (Raghuveer Chaudhari) | গুজরাটি (Gujarati) | গুজরাটি আধুনিক কথাসাহিত্যের অন্যতম প্রধান ঔপন্যাসিক ও কবি (উপন্যাস: অমৃতা)। |
| ২০১৪ | ৫০তম | ভালচন্দ্র নেমাডে (Bhalchandra Nemade) | মারাঠি (Marathi) | মারাঠি সাহিত্যের প্রভাবশালী ঔপন্যাসিক ও তাত্ত্বিক (উপন্যাস: কোসলা, হিন্দু)। |
| ২০১৩ | ৪৯তম | কেদারনাথ সিং (Kedarnath Singh) | হিন্দি (Hindi) | নতুন হিন্দি কবিতা ধারার অগ্রণী কবি ও প্রাবন্ধিক (কাব্যগ্রন্থ: অকাল মে সারস)। |
| ২০১২ | ৪৮তম | রাভুরি ভরদ্বাজ (Ravuri Bharadhwaja) | তেলুগু (Telugu) | তেলুগু সাহিত্যের প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ও শিশুসাহিত্যিক (উপন্যাস: পাকুডু রাল্লু)। |
| ২০১১ | ৪৭তম | প্রতিভা রায় (Pratibha Ray) | ওড়িয়া (Odia) | সমকালীন ওড়িয়া উপন্যাসের বিশিষ্ট লেখিকা (উপন্যাস: যাজ্ঞসেনী, শিলাপদ্ম)। |
৮. জ্ঞানপীঠ ও অন্যান্য প্রধান সাহিত্য পুরস্কারের তুলনা (Comparison with Other Awards)
| পুরস্কারের নাম | প্রবর্তক সংস্থা | প্রবর্তনের সাল | নগদ অর্থমূল্য | পুরস্কারের ভিত্তি (Criteria) |
|---|---|---|---|---|
| জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ভারতীয় জ্ঞানপীঠ ট্রাস্ট (বেসরকারি) | ১৯৬১ (প্রদান ১৯৬৫) | ১১ লক্ষ টাকা | আজীবন সামগ্রিক সাহিত্যিক অবদান (২২টি তফশিলি ভাষা + ইংরেজি) |
| সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার | সাহিত্য আকাদেমি (ভারত সরকার) | ১৯৫৪ (প্রদান ১৯৫৫) | ১ লক্ষ টাকা | বিগত ৫ বছরে প্রকাশিত সেরা মৌলিক গ্রন্থ (২৪টি ভাষা: ২২টি + ইংরেজি ও রাজস্থানি) |
| সরস্বতী সম্মান | কে. কে. বিড়লা ফাউন্ডেশন (বেসরকারি) | ১৯৯১ | ১৫ লক্ষ টাকা | বিগত ১০ বছরে প্রকাশিত ভারতীয় লেখকের অসামান্য গদ্য বা পদ্য (২২টি তফশিলি ভাষা) |
| ব্যাস সম্মান | কে. কে. বিড়লা ফাউন্ডেশন | ১৯৯১ | ৪ লক্ষ টাকা | বিগত ১০ বছরে প্রকাশিত হিন্দি ভাষার সেরা সাহিত্যকর্ম |
৯. সাধারণ জিজ্ঞাসা ও প্রশ্নোত্তর (Frequently Asked Questions – FAQs)
প্রশ্ন ১: ভারতের প্রথম জ্ঞানপীঠ পুরস্কার প্রাপক কে ছিলেন?
উত্তর: ১৯৬৫ সালে প্রথম জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন বিখ্যাত মালয়ালম কবি জি. শঙ্করা কুরুপ (G. Sankara Kurup) তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘ওদাক্কুঝল’-এর জন্য।
প্রশ্ন ২: প্রথম মহিলা হিসেবে কে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার জয় করেছিলেন?
উত্তর: বাঙালি ঔপন্যাসিক আশাপূর্ণা দেবী (Ashapoorna Devi) ১৯৭৬ সালে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’-র জন্য প্রথম মহিলা হিসেবে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন।
প্রশ্ন ৩: বাংলা ভাষায় সর্বপ্রথম কে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পান?
উত্তর: ১৯৬৬ সালে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অমর উপন্যাস ‘গণদেবতা’-র জন্য বাংলা সাহিত্যের প্রথম জ্ঞানপীঠ পুরস্কার প্রাপক হন।
প্রশ্ন ৪: জ্ঞানপীঠ পুরস্কারে বিজয়ীকে কত টাকা অর্থমূল্য প্রদান করা হয়?
উত্তর: বর্তমানে জ্ঞানপীঠ পুরস্কারের আর্থিক মূল্য হলো ১১ লক্ষ টাকা (₹11,00,000), সঙ্গে একটি ব্রোঞ্জের সরস্বতী (বাগদেবী) মূর্তি ও প্রশস্তিফলক।
প্রশ্ন ৫: ইংরেজি ভাষার একমাত্র কোন লেখক জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পেয়েছেন?
উত্তর: ২০১৮ সালে বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক অমিতাভ ঘোষ (Amitav Ghosh) প্রথম ও একমাত্র ইংরেজি ভাষার সাহিত্যিক হিসেবে ৫৪তম জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন।
উপসংহার
জ্ঞানপীঠ পুরস্কার কেবল একটি সাহিত্যিক সম্মাননা নয়, বরং এটি ভারতের বহুভাষিক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন ও সৃজনশীল প্রতিভার সর্বোচ্চ স্মারক। ১৯৬৫ সালে শুরু হয়ে আজ পর্যন্ত ভারতীয় সাহিত্যের বহু প্রবাদপ্রতিম সাহিত্যিক এই সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে শঙ্খ ঘোষ, আশাপূর্ণা দেবী থেকে মহাশ্বেতা দেবী— বাংলা সাহিত্যের এই মহারথীদের গৌরবগাথা ভারতীয় সাহিত্যে চিরভাস্বর। বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে জ্ঞানপীঠ পুরস্কারের ইতিহাস ও তালিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।
ভারতীয় সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্টাডি মেটেরিয়াল পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট Educenters.in। পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
