📚 Education for all Empowering students since May 2020
📍 জাঙ্গীপাড়া, Hooghly
📢 Latest:
অধ্যায় ২৬: রাশিবিজ্ঞান (Statistics) — কষে দেখি 26.1 থেকে 26.4 (সম্পূর্ণ সমাধান)গণিতের সমস্ত প্রয়োজনীয় সূত্র ও প্রতীক (Class 1 to 12) | Complete Math Cheat Sheetদশম শ্রেণি গণিত অধ্যায় ১৮ সদৃশতা সম্পূর্ণ সমাধানডেটা কমিউনিকেশন ও ফাইবার অপটিক যোগাযোগ : সহজ ও টেকনিক্যাল গাইডঅপটিক্যাল কমিউনিকেশন টেকনোলজি : ব্রডব্যান্ড ও ফাইবার অপটিক প্রযুক্তির সহজ পাঠঅধ্যায় ২৬: রাশিবিজ্ঞান (Statistics) — কষে দেখি 26.1 থেকে 26.4 (সম্পূর্ণ সমাধান)গণিতের সমস্ত প্রয়োজনীয় সূত্র ও প্রতীক (Class 1 to 12) | Complete Math Cheat Sheetদশম শ্রেণি গণিত অধ্যায় ১৮ সদৃশতা সম্পূর্ণ সমাধানডেটা কমিউনিকেশন ও ফাইবার অপটিক যোগাযোগ : সহজ ও টেকনিক্যাল গাইডঅপটিক্যাল কমিউনিকেশন টেকনোলজি : ব্রডব্যান্ড ও ফাইবার অপটিক প্রযুক্তির সহজ পাঠ
Constitution of India at a Glance structure and fundamental duties in Bengali

ভারতীয় সংবিধান একনজরে: কাঠামো, বৈশিষ্ট্য ও মৌলিক কর্তব্য (Article 51A)

 CONSTIUTION OF INDIA  AT GLANCE


ভারতীয় সংবিধান একনজরে: কাঠামো, বৈশিষ্ট্য এবং মৌলিক কর্তব্যের বিস্তারিত রূপরেখা

ভারতীয় সংবিধান একনজরে: কাঠামো, বৈশিষ্ট্য ও মৌলিক কর্তব্য (Article 51A)

ভারতবর্ষের সংবিধান বিশ্বের বৃহত্তম এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ লিখিত সংবিধান। এটি শুধুমাত্র রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়মাবলী নয়, বরং এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যের রক্ষাকবচ। ডঃ বি আর আম্বেদকর, যিনি সংবিধানের প্রধান স্থপতি, তাঁর নেতৃত্বে গণপরিষদ অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই মহৎ দলিলটি প্রস্তুত করেছিলেন। ১৯৪৯ সালের ২৬শে নভেম্বর এই সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয় এবং ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হয়।

আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা ভারতীয় সংবিধানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, এর কাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এবং বিশেষ করে মৌলিক কর্তব্য (Fundamental Duties) সম্পর্কে একনজরে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই তথ্যগুলো যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং স্কুল-কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান (Polity) বিষয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতীয় সংবিধানের কাঠামো ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (Structure and Historical Background)

ভারতের সংবিধান প্রণেতারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবিধান থেকে সেরা অংশগুলো নিয়ে ভারতীয় প্রেক্ষাপটে সাজিয়েছেন। এই সংবিধান তৈরির জন্য গণপরিষদ প্রায় ৩ বছর সময় নিয়েছিল। সংবিধানের শুরুতেই একটি প্রস্তাবনা (Preamble) রয়েছে, যা সংবিধানের আত্মা হিসেবে পরিচিত এবং এটি সংবিধানের আদর্শ, লক্ষ্য ও দর্শনকে তুলে ধরে।

মূল সংবিধানে ৩৯৫টি ধারা, ২২টি অংশ (Parts) এবং ৮টি তফশিল (Schedules) ছিল। তবে সময়ের সাথে বিভিন্ন সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমানে এর কাঠামোটি নিম্নরূপ (আপডেটেড তথ্য অনুযায়ী):

  • মোট ধারা: ৪৭০টিরও বেশি।

  • মোট অংশ (Parts): ২৫টি।

  • মোট তফশিল (Schedules): ১২টি।

সংবিধানের এই বিশাল কাঠামোর কারণে অনেক সময় এটিকে ‘আইনজীবীদের স্বর্গ’ (Lawyers’ Paradise) বলা হয়।

ভারতীয় সংবিধানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা ও সংশোধনী (Key Articles and Amendments)

  • ধারা ১: ভারত হলো রাজ্যগুলোর একটি ইউনিয়ন।

  • ধারা ১২-৩৫: মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) সম্পর্কিত।

  • ধারা ৩৬-৫১: নির্দেশমূলক নীতি (Directive Principles of State Policy) সম্পর্কিত।

  • ধারা ৫২-৬২: ভারতের রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত।

  • ধারা ৩২৪: নির্বাচন কমিশন সম্পর্কিত।

  • ধারা ৩৬৮: সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি সম্পর্কিত।

  • ৪২তম সংবিধান সংশোধনী (১৯৭৬): এই সংশোধনীটিকে ‘মিনি সংবিধান’ (Mini Constitution) বলা হয়, কারণ এর মাধ্যমে সংবিধানে অনেক বড় ধরণের পরিবর্তন আনা হয়েছিল (মৌলিক কর্তব্যও এই সংশোধনীর মাধ্যমেই যুক্ত করা হয়)।

মৌলিক কর্তব্য: একনজরে (Fundamental Duties at a Glance)

ভারতীয় সংবিধানের পার্ট IV-A এবং ধারা 51A-তে নাগরিকদের মৌলিক কর্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৭৬ সালে ৪২তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে প্রথম ১০টি কর্তব্য যুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০২ সালে ৮6তম সংশোধনীর মাধ্যমে আরও একটি কর্তব্য যুক্ত করা হয়। বর্তমানে মোট ১১টি মৌলিক কর্তব্য রয়েছে:

(ক) সংবিধান মেনে চলা এবং জাতীয় পতাক ও জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা।

(খ) স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান আদর্শগুলোকে হৃদয়ে পোষণ করা ও অনুসরণ করা।

(গ) ভারতের সার্বভৌমত্ব, একতা ও সংহতি রক্ষা করা।

(ঘ) দেশ রক্ষা করা এবং প্রয়োজনে জাতীয় সেবায় আত্মনিয়োগ করা।

(ঙ) ধর্ম, ভাষা ও অঞ্চল নির্বিশেষে সকল মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা এবং নারীজাতির অমর্যাদাকর প্রথা ত্যাগ করা।

(চ) আমাদের মিশ্র সংস্কৃতির গৌরবময় ঐতিহ্যকে মূল্যবান মনে করা ও সংরক্ষণ করা।

(ছ) বনভূমি, হ্রদ, নদী ও বন্যপ্রাণীসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন করা এবং সকল জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা।

(জ) বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, মানবতাবাদ এবং অনুসন্ধিৎসু মানসিকতা গড়ে তোলা।

(ঝ) সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা এবং হিংসা বর্জন করা।

(ঞ) ব্যক্তিগত ও যৌথ কার্যাবলীর সকল ক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধনের চেষ্টা করা যাতে দেশ ক্রমাগত উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে।

(ট) ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া (এটি পিতামাতা বা অভিভাবকদের কর্তব্য)। এটি ২০০২ সালের ৮6তম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে।


উপসংহার ও প্রস্তুতির টিপস

ভারতীয় সংবিধান সম্পর্কে জ্ঞান থাকা শুধুমাত্র পরীক্ষার জন্য নয়, বরং একজন সুনাগরিক হওয়ার জন্যও অপরিহার্য। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা (যেমন- WBCS, Railway, SSC) এবং জেনারেল নলেজের (GK) জন্য এই পয়েন্টগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত রিভিশন দিলে এবং আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য পোস্টগুলো পড়লে আপনার প্রস্তুতি আরও ভালো হবে।

ভারতের সংবিধান এবং পলিটি বিষয়ক আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য আমাদের এই পোস্টগুলো দেখতে পারেন:

পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং জেনারেল নলেজের জন্য নিয়মিত ফলো করুন Educenters.in

 CONSTIUTION OF INDIA  AT GLANCE


ভারতীয় সংবিধান একনজরে: কাঠামো, বৈশিষ্ট্য এবং মৌলিক কর্তব্যের বিস্তারিত রূপরেখা

ভারতীয় সংবিধান একনজরে: কাঠামো, বৈশিষ্ট্য ও মৌলিক কর্তব্য (Article 51A)

ভারতবর্ষের সংবিধান বিশ্বের বৃহত্তম এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ লিখিত সংবিধান। এটি শুধুমাত্র রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়মাবলী নয়, বরং এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যের রক্ষাকবচ। ডঃ বি আর আম্বেদকর, যিনি সংবিধানের প্রধান স্থপতি, তাঁর নেতৃত্বে গণপরিষদ অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই মহৎ দলিলটি প্রস্তুত করেছিলেন। ১৯৪৯ সালের ২৬শে নভেম্বর এই সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয় এবং ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হয়।

আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা ভারতীয় সংবিধানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, এর কাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এবং বিশেষ করে মৌলিক কর্তব্য (Fundamental Duties) সম্পর্কে একনজরে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই তথ্যগুলো যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং স্কুল-কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান (Polity) বিষয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতীয় সংবিধানের কাঠামো ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (Structure and Historical Background)

ভারতের সংবিধান প্রণেতারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবিধান থেকে সেরা অংশগুলো নিয়ে ভারতীয় প্রেক্ষাপটে সাজিয়েছেন। এই সংবিধান তৈরির জন্য গণপরিষদ প্রায় ৩ বছর সময় নিয়েছিল। সংবিধানের শুরুতেই একটি প্রস্তাবনা (Preamble) রয়েছে, যা সংবিধানের আত্মা হিসেবে পরিচিত এবং এটি সংবিধানের আদর্শ, লক্ষ্য ও দর্শনকে তুলে ধরে।

মূল সংবিধানে ৩৯৫টি ধারা, ২২টি অংশ (Parts) এবং ৮টি তফশিল (Schedules) ছিল। তবে সময়ের সাথে বিভিন্ন সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমানে এর কাঠামোটি নিম্নরূপ (আপডেটেড তথ্য অনুযায়ী):

  • মোট ধারা: ৪৭০টিরও বেশি।

  • মোট অংশ (Parts): ২৫টি।

  • মোট তফশিল (Schedules): ১২টি।

সংবিধানের এই বিশাল কাঠামোর কারণে অনেক সময় এটিকে ‘আইনজীবীদের স্বর্গ’ (Lawyers’ Paradise) বলা হয়।

ভারতীয় সংবিধানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা ও সংশোধনী (Key Articles and Amendments)

  • ধারা ১: ভারত হলো রাজ্যগুলোর একটি ইউনিয়ন।

  • ধারা ১২-৩৫: মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) সম্পর্কিত।

  • ধারা ৩৬-৫১: নির্দেশমূলক নীতি (Directive Principles of State Policy) সম্পর্কিত।

  • ধারা ৫২-৬২: ভারতের রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত।

  • ধারা ৩২৪: নির্বাচন কমিশন সম্পর্কিত।

  • ধারা ৩৬৮: সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি সম্পর্কিত।

  • ৪২তম সংবিধান সংশোধনী (১৯৭৬): এই সংশোধনীটিকে ‘মিনি সংবিধান’ (Mini Constitution) বলা হয়, কারণ এর মাধ্যমে সংবিধানে অনেক বড় ধরণের পরিবর্তন আনা হয়েছিল (মৌলিক কর্তব্যও এই সংশোধনীর মাধ্যমেই যুক্ত করা হয়)।

মৌলিক কর্তব্য: একনজরে (Fundamental Duties at a Glance)

ভারতীয় সংবিধানের পার্ট IV-A এবং ধারা 51A-তে নাগরিকদের মৌলিক কর্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৭৬ সালে ৪২তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে প্রথম ১০টি কর্তব্য যুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০২ সালে ৮6তম সংশোধনীর মাধ্যমে আরও একটি কর্তব্য যুক্ত করা হয়। বর্তমানে মোট ১১টি মৌলিক কর্তব্য রয়েছে:

(ক) সংবিধান মেনে চলা এবং জাতীয় পতাক ও জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা।

(খ) স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান আদর্শগুলোকে হৃদয়ে পোষণ করা ও অনুসরণ করা।

(গ) ভারতের সার্বভৌমত্ব, একতা ও সংহতি রক্ষা করা।

(ঘ) দেশ রক্ষা করা এবং প্রয়োজনে জাতীয় সেবায় আত্মনিয়োগ করা।

(ঙ) ধর্ম, ভাষা ও অঞ্চল নির্বিশেষে সকল মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা এবং নারীজাতির অমর্যাদাকর প্রথা ত্যাগ করা।

(চ) আমাদের মিশ্র সংস্কৃতির গৌরবময় ঐতিহ্যকে মূল্যবান মনে করা ও সংরক্ষণ করা।

(ছ) বনভূমি, হ্রদ, নদী ও বন্যপ্রাণীসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন করা এবং সকল জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা।

(জ) বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, মানবতাবাদ এবং অনুসন্ধিৎসু মানসিকতা গড়ে তোলা।

(ঝ) সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা এবং হিংসা বর্জন করা।

(ঞ) ব্যক্তিগত ও যৌথ কার্যাবলীর সকল ক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধনের চেষ্টা করা যাতে দেশ ক্রমাগত উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে।

(ট) ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া (এটি পিতামাতা বা অভিভাবকদের কর্তব্য)। এটি ২০০২ সালের ৮6তম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে।


উপসংহার ও প্রস্তুতির টিপস

ভারতীয় সংবিধান সম্পর্কে জ্ঞান থাকা শুধুমাত্র পরীক্ষার জন্য নয়, বরং একজন সুনাগরিক হওয়ার জন্যও অপরিহার্য। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা (যেমন- WBCS, Railway, SSC) এবং জেনারেল নলেজের (GK) জন্য এই পয়েন্টগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত রিভিশন দিলে এবং আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য পোস্টগুলো পড়লে আপনার প্রস্তুতি আরও ভালো হবে।

ভারতের সংবিধান এবং পলিটি বিষয়ক আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য আমাদের এই পোস্টগুলো দেখতে পারেন:

পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং জেনারেল নলেজের জন্য নিয়মিত ফলো করুন Educenters.in

 CONSTIUTION OF INDIA  AT GLANCE


ভারতীয় সংবিধান একনজরে: কাঠামো, বৈশিষ্ট্য এবং মৌলিক কর্তব্যের বিস্তারিত রূপরেখা

ভারতীয় সংবিধান একনজরে: কাঠামো, বৈশিষ্ট্য ও মৌলিক কর্তব্য (Article 51A)

ভারতবর্ষের সংবিধান বিশ্বের বৃহত্তম এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ লিখিত সংবিধান। এটি শুধুমাত্র রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়মাবলী নয়, বরং এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যের রক্ষাকবচ। ডঃ বি আর আম্বেদকর, যিনি সংবিধানের প্রধান স্থপতি, তাঁর নেতৃত্বে গণপরিষদ অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই মহৎ দলিলটি প্রস্তুত করেছিলেন। ১৯৪৯ সালের ২৬শে নভেম্বর এই সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয় এবং ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হয়।

আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা ভারতীয় সংবিধানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, এর কাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এবং বিশেষ করে মৌলিক কর্তব্য (Fundamental Duties) সম্পর্কে একনজরে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই তথ্যগুলো যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং স্কুল-কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান (Polity) বিষয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতীয় সংবিধানের কাঠামো ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (Structure and Historical Background)

ভারতের সংবিধান প্রণেতারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবিধান থেকে সেরা অংশগুলো নিয়ে ভারতীয় প্রেক্ষাপটে সাজিয়েছেন। এই সংবিধান তৈরির জন্য গণপরিষদ প্রায় ৩ বছর সময় নিয়েছিল। সংবিধানের শুরুতেই একটি প্রস্তাবনা (Preamble) রয়েছে, যা সংবিধানের আত্মা হিসেবে পরিচিত এবং এটি সংবিধানের আদর্শ, লক্ষ্য ও দর্শনকে তুলে ধরে।

মূল সংবিধানে ৩৯৫টি ধারা, ২২টি অংশ (Parts) এবং ৮টি তফশিল (Schedules) ছিল। তবে সময়ের সাথে বিভিন্ন সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমানে এর কাঠামোটি নিম্নরূপ (আপডেটেড তথ্য অনুযায়ী):

  • মোট ধারা: ৪৭০টিরও বেশি।

  • মোট অংশ (Parts): ২৫টি।

  • মোট তফশিল (Schedules): ১২টি।

সংবিধানের এই বিশাল কাঠামোর কারণে অনেক সময় এটিকে ‘আইনজীবীদের স্বর্গ’ (Lawyers’ Paradise) বলা হয়।

ভারতীয় সংবিধানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা ও সংশোধনী (Key Articles and Amendments)

  • ধারা ১: ভারত হলো রাজ্যগুলোর একটি ইউনিয়ন।

  • ধারা ১২-৩৫: মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) সম্পর্কিত।

  • ধারা ৩৬-৫১: নির্দেশমূলক নীতি (Directive Principles of State Policy) সম্পর্কিত।

  • ধারা ৫২-৬২: ভারতের রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত।

  • ধারা ৩২৪: নির্বাচন কমিশন সম্পর্কিত।

  • ধারা ৩৬৮: সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি সম্পর্কিত।

  • ৪২তম সংবিধান সংশোধনী (১৯৭৬): এই সংশোধনীটিকে ‘মিনি সংবিধান’ (Mini Constitution) বলা হয়, কারণ এর মাধ্যমে সংবিধানে অনেক বড় ধরণের পরিবর্তন আনা হয়েছিল (মৌলিক কর্তব্যও এই সংশোধনীর মাধ্যমেই যুক্ত করা হয়)।

মৌলিক কর্তব্য: একনজরে (Fundamental Duties at a Glance)

ভারতীয় সংবিধানের পার্ট IV-A এবং ধারা 51A-তে নাগরিকদের মৌলিক কর্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৭৬ সালে ৪২তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে প্রথম ১০টি কর্তব্য যুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০২ সালে ৮6তম সংশোধনীর মাধ্যমে আরও একটি কর্তব্য যুক্ত করা হয়। বর্তমানে মোট ১১টি মৌলিক কর্তব্য রয়েছে:

(ক) সংবিধান মেনে চলা এবং জাতীয় পতাক ও জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা।

(খ) স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান আদর্শগুলোকে হৃদয়ে পোষণ করা ও অনুসরণ করা।

(গ) ভারতের সার্বভৌমত্ব, একতা ও সংহতি রক্ষা করা।

(ঘ) দেশ রক্ষা করা এবং প্রয়োজনে জাতীয় সেবায় আত্মনিয়োগ করা।

(ঙ) ধর্ম, ভাষা ও অঞ্চল নির্বিশেষে সকল মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা এবং নারীজাতির অমর্যাদাকর প্রথা ত্যাগ করা।

(চ) আমাদের মিশ্র সংস্কৃতির গৌরবময় ঐতিহ্যকে মূল্যবান মনে করা ও সংরক্ষণ করা।

(ছ) বনভূমি, হ্রদ, নদী ও বন্যপ্রাণীসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন করা এবং সকল জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা।

(জ) বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, মানবতাবাদ এবং অনুসন্ধিৎসু মানসিকতা গড়ে তোলা।

(ঝ) সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা এবং হিংসা বর্জন করা।

(ঞ) ব্যক্তিগত ও যৌথ কার্যাবলীর সকল ক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধনের চেষ্টা করা যাতে দেশ ক্রমাগত উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে।

(ট) ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া (এটি পিতামাতা বা অভিভাবকদের কর্তব্য)। এটি ২০০২ সালের ৮6তম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে।


উপসংহার ও প্রস্তুতির টিপস

ভারতীয় সংবিধান সম্পর্কে জ্ঞান থাকা শুধুমাত্র পরীক্ষার জন্য নয়, বরং একজন সুনাগরিক হওয়ার জন্যও অপরিহার্য। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা (যেমন- WBCS, Railway, SSC) এবং জেনারেল নলেজের (GK) জন্য এই পয়েন্টগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত রিভিশন দিলে এবং আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য পোস্টগুলো পড়লে আপনার প্রস্তুতি আরও ভালো হবে।

ভারতের সংবিধান এবং পলিটি বিষয়ক আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য আমাদের এই পোস্টগুলো দেখতে পারেন:

পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং জেনারেল নলেজের জন্য নিয়মিত ফলো করুন Educenters.in

Written by

Biswarup Santra
Author
Biswarup Santra
Writer , Editor , Devoloper,Teacher & Trainer (Telecom NSQF)

M.Tech in ECE, ToT Certified Trainer, Technical Guide Author & Developer. Biswarup Santra is a dedicated Teacher and Trainer for the Telecom NSQF. He holds an M.Tech degree in Electronics and Communication Engineering and has rich experience as the former Head of the Electronics and Telecommunication Engineering Department at Gobindapur Sephali Memorial Polytechnic College. Beyond his academic roles, he is a technical guide author, WordPress developer, and the creator of educational platforms for vocational and engineering students. He is deeply passionate about empowering students with modern technical skills.

Leave a Reply