IMMUNISATION
সর্বজনীন টিকাদান কর্মসূচি (UIP): জাতীয় টিকাদান সময়সূচী, VVM এবং কোল্ড চেইন ব্যবস্থার বিস্তারিত পর্যালোচনা
IMMUNISATION
জনস্বাস্থ্য (Public Health) এবং শিশু বেঁচে থাকার (Child Survival) মূল ভিত্তি হলো সময়মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগসমূহের বিরুদ্ধে টিকাদান। বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ শিশুর অকালমৃত্যু এবং স্থায়ী পঙ্গুত্ব রোধে টিকাদান কর্মসূচি এক অনন্য বিপ্লব এনেছে। এই নিবন্ধে আমরা ইমিউনাইজেশন ও ভ্যাক্সিনেশনের পার্থক্য, ইপিআই (EPI) এবং সর্বজনীন টিকাদান কর্মসূচি (UIP), জাতীয় টিকাদান সময়সূচী, ভ্যাকসিন ভায়াল মনিটর (VVM) এবং কোল্ড চেইন (Cold Chain) ব্যবস্থা সম্পর্কে সবিস্তারে আলোচনা করব।
১. ইমিউনাইজেশন এবং ভ্যাক্সিনেশন: সূক্ষ্ম পার্থক্য (Immunisation vs Vaccination)
সাধারণ মানুষ প্রায়শই ‘ইমিউনাইজেশন’ (Immunisation) এবং ‘ভ্যাক্সিনেশন’ (Vaccination) শব্দ দুটিকে সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানে এদের মধ্যে স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক পার্থক্য রয়েছে:
- ইমিউনাইজেশন (Immunisation): ইমিউনাইজেশন বা অনাক্রম্যতা অর্জন হলো এমন একটি জৈবনিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির শরীর নির্দিষ্ট কোনো সংক্রামক রোগের (Infectious Disease) বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে। এটি মূলত শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরির চূড়ান্ত ফলাফল।
- ভ্যাক্সিনেশন (Vaccination): ভ্যাক্সিনেশন বা টিকাদান হলো সেই অনাক্রম্যতা (Immunity) অর্জনের একটি নির্দিষ্ট মাধ্যম বা উপায়। অর্থাৎ, শরীরে ভ্যাকসিন (জীবাণুর নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল রূপ) প্রবেশ করানোর প্রক্রিয়াটিকে ভ্যাক্সিনেশন বলা হয়।
সুতরাং, ভ্যাক্সিনেশন হলো একটি ‘কার্যক্রম’ বা মাধ্যম, আর ইমিউনাইজেশন হলো তার ফলে অর্জিত ‘সুরক্ষা’ বা প্রতিরোধ ক্ষমতা।
২. ইপিআই (EPI) টার্গেটেড ৬টি প্রধান ঘাতক রোগ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা Expanded Programme on Immunization (EPI)-এর আওতায় ০ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের ৬টি প্রধান মারাত্মক সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। এই ৬টি ঘাতক ব্যাধি হলো:
১. যক্ষ্মা (Tuberculosis – TB)
মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস দ্বারা সৃষ্ট ফুসফুস ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মারাত্মক জটিল সংক্রমণ।
২. ডিফথেরিয়া (Diphtheria)
গলার উপরিভাগ ও শ্বাসনালীতে ছদ্মঝিল্লি তৈরি করে শ্বাসরোধকারী বিষাক্ত ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ।
৩. পারটুসিস (Pertussis)
এটি সাধারণ ভাষায় ‘হুপিং কাশি’ নামে পরিচিত। তীব্র ও দমবন্ধ করা কাশির কারণে শিশুদের পাঁজর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
৪. ধনুষ্টঙ্কার (Tetanus)
ক্লসট্রিডিয়াম টেটানি দ্বারা সৃষ্ট বিষাক্ত সংক্রমণ, যা পেশী শক্ত হয়ে যাওয়া ও খিঁচুনি সৃষ্টি করে।
৫. পোলিওমায়োলাইটিস (Poliomyelitis)
পোলিওভাইরাস জনিত সংক্রমণ, যা স্থায়ী শারীরিক পঙ্গুত্ব এবং প্যারালাইসিস ঘটায়।
৬. হাম (Measles)
শিশুমৃত্যুর এক নম্বর কারণ হিসেবে চিহ্নিত ভাইরাসবাহিত অতি সংক্রামক রোগ, যা নিউমোনিয়া ও অন্ধত্ব ডেকে আনে।
বিশেষ সংযোজন: সাম্প্রতিক সময়ে এই ৬টি প্রধান টিকার পাশাপাশি **হেপাটাইটিস বি (Hepatitis B)** ভ্যাকসিনকে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের জন্য জাতীয় কর্মসূচিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষেধক হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
৩. সর্বজনীন টিকাদান কর্মসূচি (Universal Immunisation Programme – UIP)
ভারতের জনস্বাস্থ্যের ইতিহাসে একটি মাইলফলক অধ্যায় হলো Universal Immunisation Programme (UIP)। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৮৫ সালের ১৯শে নভেম্বর (19th November, 1985) চালু করা হয়েছিল।
UIP-এর মূল লক্ষ্য ও কৌশলগত বৈশিষ্ট্য:
- ১০০% টিকাদান কভারেজ: ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে EPI নির্দিষ্ট মারাত্মক ব্যাধিগুলোর বিরুদ্ধে শতভাগ টিকাদানের আওতায় নিয়ে আসা।
- জনঅংশগ্রহণ (Community Participation): শুধুমাত্র স্বাস্থ্যকেন্দ্রভিত্তিক নয়, বরং গ্রামীণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে টিকাদানকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া।
- মেডিকেল কলেজের ভূমিকা: এই কর্মসূচির আওতায় মেডিকেল কলেজের ‘কম্যুনিটি মেডিসিন’ (Community Medicine) বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায়ে সম্পৃক্ত করে টিকাদান কর্মসূচি ও সার্বিক তদারকিকে শক্তিশালী করা হয়।
৪. জাতীয় টিকাদান সময়সূচী ও গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য নির্দেশিকা
শিশুর বেঁচে থাকা (Child Survival) এবং স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য সময়মতো সঠিক টিকা প্রদান করা জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুমৃত্যুর প্রায় ২০% থেকে ৩০% ঘটে থাকে প্রতিরোধযোগ্য এই ৬টি রোগের কারণে, যার মধ্যে **’হাম’ (Measles)** হলো শিশু মৃত্যুর প্রধান একক কারণ (Number One Killer)।
জাতীয় নির্দেশিকার গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলী (Guidelines):
- গর্ভবতী মায়েদের টিটি ইনজেকশন (T.T. for Pregnant Women): বর্তমান গর্ভাবস্থার ৩ বছর আগে যদি মা ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ প্রতিরোধ ক্ষমতা পেয়ে থাকেন, তবে কেবল ১টি ডোজ Inj. T.T (Tetanus Toxoid) প্রদানই যথেষ্ট।
- জন্ম মুহূর্তের টিকাদান (At Birth Immunization): হাসপাতালে বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রসূতি সেবার ক্ষেত্রে জন্মের সাথে সাথে ‘জিরো ডোজ’ ওপিভি (Zero OPV) দেওয়া বাধ্যতামূলক। গৃহস্থালি প্রসবের ক্ষেত্রে জন্মের ১ মাসের মধ্যে বিসিজি (BCG) প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
- বুস্টার ডোজ (Booster Doses): পূর্বে টিকাদান সম্পন্ন না হয়ে থাকলে শিশু বয়সে ওপিভি (OPV) এবং ডিপিটি (DPT)-এর ২টি বুস্টার ডোজ প্রদান করতে হয়।
- পালস পোলিও (Pulse Polio Drops): ৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি শিশুকে নিয়মিত জাতীয় পালস পোলিও টিকাদান দিনে ২ ফোঁটা ওপিভি (OPV) প্রদান করতে হবে।
- কৃমি মুক্তকরণ (Deworming): ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের নিয়মিত কৃমিনাশক ট্যাবলেট/সিরাপ প্রদান করা বাধ্যতামূলক (এর পাশাপাশি ভিটামিন-এ সিরাপও দিতে হবে)।
ভিটামিন-এ (Vitamin A) সুনির্দিষ্ট ডোজ গাইডলাইন:
ভিটামিন-এ শিশুর অনাক্রম্যতা বৃদ্ধি করে এবং অন্ধত্ব (Night Blindness) রোধ করে।
- হামের প্রতিষেধক (Measles Injection)-এর সাথেই ভিটামিন-এ-এর প্রথম ডোজ দেওয়া শুরু হয়।
- এরপর থেকে প্রতি ৬ মাস অন্তর নিয়মিতভাবে ভিটামিন-এ এর পরবর্তী ডোজসমূহ প্রদান করা হয়।
- ৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত একটি শিশু সর্বমোট ৯টি ভিটামিন-এ ডোজ (9 Total Doses) পাবে।
- ১ বছর বয়সের পর থেকে প্রতিটি ভিটামিন-এ ডোজের মাত্রা হবে ২ লাখ আন্তর্জাতিক ইউনিট (2 Lakh Units / 200,000 IU)। (উল্লেখ্য, ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজের পরিমাণ থাকে ১ লাখ ইউনিট)।
টিকা সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত রূপ সমূহের পূর্ণাঙ্গ অর্থ (Abbreviations):
| সংক্ষিপ্ত রূপ | পূর্ণাঙ্গ নাম (Full Form) | প্রতিরোধযোগ্য ব্যাধি |
|---|---|---|
| BCG | Bacillus Calmette–Guérin | যক্ষ্মা (Tuberculosis) |
| OPV | Oral Polio Vaccine | পোলিও (Poliomyelitis) |
| DPT | Diphtheria, Pertussis, Tetanus | ডিফথেরিয়া, পারটুসিস, ধনুষ্টঙ্কার |
| DT | Diphtheria, Tetanus | ডিফথেরিয়া ও ধনুষ্টঙ্কার |
| TT | Tetanus Toxoid | ধনুষ্টঙ্কার |
| MMR | Measles, Mumps, Rubella | হাম, মাম্পস ও রুবেলা |
| Hepa-B | Hepatitis B Vaccine | হেপাটাইটিস বি |
স্বাস্হ্যকর্মীদের জন্য দুটি অতি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম (Notes):
- ন্যূনতম ব্যবধান: একই টিকার পরপর দুটি ডোজের মধ্যে ন্যূনতম ব্যবধান ১ মাসের (৩০ দিন) কম হওয়া চলবে না।
- অনুমোদিত অবস্থা: মৃদু সর্দি, সামান্য কাশি বা মৃদু জ্বর (Minor cough, cold, mild fever) থাকলে টিকাদান স্থগিত করার প্রয়োজন নেই— এগুলো টিকাদানের ক্ষেত্রে বাধা বা কন্ট্রা-ইন্ডিকেশন (Contraindication) হিসেবে গণ্য হয় না।
৫. ভ্যাকসিন ভায়াল মনিটর (Vaccine Vial Monitor – VVM)
Vaccine Vial Monitor (VVM) হলো তাপমাত্রাসংবেদনশীল একটি বিশেষ সূচক বা লেবেল, যা প্রধানত ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন (OPV)-এর শিশির বা ভায়ালের ওপর লাগানো থাকে। অতিরিক্ত উত্তাপের সংস্পর্শে এলে এর ভেতরের চারকোণা ঘরের রঙ পরিবর্তিত হয়। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মীরা বুঝতে পারেন যে ভ্যাকসিনটি ব্যবহারের উপযোগী আছে নাকি তা কার্যকারিতা হারিয়েছে।
VVM চিত্র অনুধাবন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ সূচক:
১. প্রথম পর্যায় (নিরাপদ)
অবস্থা: ভেতরের বর্গক্ষেত্রটি (Inner square) বাইরের বৃত্তের (Outer circle) চেয়ে স্পষ্ট হালকা রঙের থাকে।
সিদ্ধান্ত: মেয়াদ উত্তীর্ণ না হলে **ভ্যাকসিন ব্যবহার করুন।**
২. দ্বিতীয় পর্যায় (ব্যবহারযোগ্য)
অবস্থা: বাইরের বৃত্তটি সামান্য গাঢ় হয়েছে, তবে ভেতরের বর্গক্ষেত্রটি এখনও বাইরের অংশ থেকে কিছুটা হলেও হালকা রয়েছে।
সিদ্ধান্ত: মেয়াদ উত্তীর্ণ না হলে **ভ্যাকসিন ব্যবহার করুন।**
৩. তৃতীয় পর্যায় (বাতিল)
অবস্থা: ভেতরের বর্গক্ষেত্রের রঙ বাইরের বৃত্তের রঙের সাথে হুবহু মিলে গেছে (Matches color)।
সিদ্ধান্ত: **ভ্যাকসিনটি বাতিল করুন (Discard Vaccine)।** ব্যবহার করবেন না।
৪. চতুর্থ পর্যায় (বাতিল)
অবস্থা: ভেতরের বর্গক্ষেত্রের রঙ বাইরের বৃত্তের রঙের চেয়েও বেশি গাঢ় হয়ে গেছে (Darker than outer circle)।
সিদ্ধান্ত: **ভ্যাকসিনটি সরাসরি ফেলে দিন (Discard Vaccine)।**
৬. কোল্ড চেইন ব্যবস্থা (The Cold Chain System)
কোল্ড চেইন (Cold Chain): ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী কারখানা (Manufacturer) থেকে শুরু করে শেষপর্যায়ে টিকাদান কেন্দ্র পর্যন্ত নির্দিষ্ট নির্ধারিত তাপমাত্রায় ভ্যাকসিন পরিবহন ও সংরক্ষণ করার সম্পূর্ণ ব্যবস্থার নাম কোল্ড চেইন।
ভ্যাকসিনের গুণমান ও কার্যকারিতা (Efficacy and Potency) বজায় রাখার জন্য কোল্ড চেইন অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত তাপমাত্রা বা তাপের সংস্পর্শে এলে ভ্যাকসিন তার ক্ষমতা বা পোটেন্সি হারিয়ে ফেলে। **মনে রাখবেন: একবার ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে গেলে কোনোভাবেই তা আর পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়।**
রেফ্রিজারেটরে টিকা সংরক্ষণের সুনির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও সাজানোর নিয়ম:
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বেশিরভাগ টিকা **২°C থেকে ৮°C (2 to 8°C)** তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যায়। তবে পোলিও টিকা তাপের প্রতি সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় এটিকে **-২০°C (-20°C)** তাপমাত্রায় হিমাঙ্কিত (Freeze) অবস্থায় রাখতে হয়।
আইস লাইনড রেফ্রিজারেটর (ILR)-এর তাক অনুযায়ী টিকা বন্টন:
- প্রথম কম্পার্টমেন্ট (Top Compartment – সবচেয়ে ঠান্ডা অংশ): পোলিও (OPV) এবং হাম (Measles) ভ্যাকসিন রাখা হয়।
- দ্বিতীয় কম্পার্টমেন্ট (Middle Compartment): বিসিজি (BCG) ভ্যাকসিন রাখা হয়।
- তৃতীয় কম্পার্টমেন্ট (Bottom Compartment): DPT, DT, TT, টাইফয়েড (Thyroid) এবং ডাইলুয়েন্ট (Diluents) দ্রবণ রাখা হয়।
⚠️ বিশেষ সতর্কবার্তা: DPT, DT এবং TT ভ্যাকসিন কোনো অবস্থাতেই বরফ জমতে বা হিমায়িত হতে (Never allowed to freeze) দেওয়া যাবে না। বরফ জমে গেলে এই টিকাগুলো সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।
কোল্ড চেইন সুরক্ষায় ব্যবহৃত প্রধান সরঞ্জামাবলী (Cold Chain Equipment):
ক) ওয়াক-ইন কোল্ড রুম (Walk-in Cold Rooms – WIC)
আঞ্চলিক বা রিজিওনাল লেভেলে (Regional level) অবস্থিত। এখানে একসাথে ৩ মাসের জন্য বিপুল পরিমাণ ভ্যাকসিন মজুত রাখা যায় এবং এখান থেকে ৪ থেকে ৫টি জেলায় ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়।
খ) ডিপ ফ্রিজার ও ILR (Large Capacity: 240/300/350 Ltrs)
সমস্ত জেলা হাসপাতাল এবং ডব্লিউআইসি (WIC) কেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ করা হয়। ডিপ ফ্রিজারগুলো মূলত বরফের প্যাকেট (Ice Packs) তৈরি করতে এবং হামের (Measles) ভ্যাকসিন জমাটবদ্ধ রাখতে ব্যবহৃত হয়।
গ) ছোট ডিপ ফ্রিজার ও ILR (Small Capacity: 140 Litres)
প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র (PHC), আরবান ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টার এবং পোস্ট-পার্টাম সেন্টারে ১ সেট করে প্রদান করা হয়। ডিপ ফ্রিজারে আইস প্যাক তৈরি হয়, যা কোল্ড বক্স (Cold Boxes) এবং ভ্যাকসিন ক্যারিয়ারে (Vaccine Carriers) রেখে ফিল্ড লেভেলে ভ্যাকসিন পরিবহনে ব্যবহৃত হয়।
উপসংহার
সর্বজনীন টিকাদান কর্মসূচি (UIP) কেবল একটি সরকারি পরিকল্পনা নয়, বরং এটি দেশের প্রতিটি শিশুর সুস্থভাবে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার রক্ষা করার একটি মহান প্রয়াস। স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স ও চিকিৎসকদের টিকাদানের সময়সূচী নির্দেশিকা নিখুঁতভাবে মেনে চলার পাশাপাশি কোল্ড চেইন ব্যবস্থার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ সুনিশ্চিত করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক টিকাদানের মাধ্যমেই কেবল আমরা একটি পঙ্গুত্বমুক্ত ও রোগমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পারি।
