📚 Education for all Empowering students since May 2020
📍 জাঙ্গীপাড়া, Hooghly
রাজ্যের রাজ্যপাল : নিয়োগ, ক্ষমতা ও সম্পূর্ণ তালিকা (২০২৬)

Governor of state

EDUCENTERS.IN • ভারতীয় সংবিধান

রাজ্যের রাজ্যপাল

(Governor of State)

যোগ্যতা, নিয়োগ, ক্ষমতা ও আপডেট তালিকা ২০২৬

✔ অনুচ্ছেদ ১৫৩–১৬২ ✔ ১০টি প্রধান ক্ষমতা ✔ রাজ্যপাল vs রাষ্ট্রপতি

রাজ্যের রাজ্যপাল (Governor of State): ভারতীয় সংবিধানের ষষ্ঠ অংশে (Part VI) ১৫৩ থেকে ১৬২ নম্বর অনুচ্ছেদে রাজ্যের শাসনবিভাগ এবং রাজ্যপালের পদমর্যাদা সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। রাজ্যপাল হলেন একটি রাজ্যের সাংবিধানিক বা নামসর্বস্ব প্রধান (De Jure Head), যেখানে প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রকৃত কেন্দ্রবিন্দু হলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রীপরিষদ (De Facto Head)। এই নিবন্ধে আমরা রাজ্যের রাজ্যপালের নিয়োগ, যোগ্যতা, মেয়াদ, বিভিন্ন ক্ষমতা এবং ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্যপালদের তালিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।


১. রাজ্যের রাজ্যপালের সাংবিধানিক অবস্থান

সংবিধানের **১৫৩ নম্বর অনুচ্ছেদ** অনুযায়ী, ভারতের প্রতিটি রাজ্যে একজন রাজ্যপাল থাকবেন। তবে ১৯৫৬ সালের ৭ম সংবিধান সংশোধনী আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা করা হয় যে, এক ব্যক্তি একই সঙ্গে দুই বা ততধিক রাজ্যের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

রাজ্যের রাজ্যপাল দ্বৈত ভূমিকা পালন করেন:

  • রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান: তিনি রাজ্যের সমস্ত শাসন সংক্রান্ত কার্যের আনুষ্ঠানিক প্রধান।
  • কেন্দ্রের প্রতিনিধি: তিনি রাষ্ট্রপতি তথা কেন্দ্র সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্যে কাজ করেন, যা ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে শক্তিশালী করে।

২. যোগ্যতা এবং নিয়োগ পদ্ধতি (Qualifications & Appointment)

সংবিধানের **১৫৫ নম্বর অনুচ্ছেদ** অনুযায়ী, রাজ্যের রাজ্যপাল কোনো জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন না। তাঁকে সরাসরি ভারতের রাষ্ট্রপতি নিজের স্বাক্ষর ও সিলমোহরযুক্ত পরোয়ানাবলে নিয়োগ করেন।

নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা (১৫৭ ও ১৫৮ নম্বর অনুচ্ছেদ):

  1. ভারতীয় নাগরিকত্ব: প্রার্থীকে অবশ্যই ভারতের নাগরিক হতে হবে।
  2. বয়সের সীমা: প্রার্থীর বয়স অন্তত **৩৫ বছর** হতে হবে।
  3. অন্যান্য পদে বাধা: তিনি সংসদ বা রাজ্য আইনসভার কোনো কক্ষের সদস্য হতে পারবেন না। যদি কোনো সদস্য রাজ্যপাল পদে নিযুক্ত হন, তবে দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে তাঁর পূর্ববর্তী আসনটি খালি বলে গণ্য হবে।
  4. লাভজনক পদ: তিনি কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের অধীনে কোনো লাভজনক পদে (Office of Profit) বহাল থাকতে পারবেন না।

নোট: সরকারি কমিশন (Sarkaria Commission) সুপারিশ করেছিল যে, রাজ্যপাল নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্বকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

৩. কার্যকাল ও পদচ্যুতি (Tenure & Removal)

সংবিধানের **১৫৬ নম্বর অনুচ্ছেদ** অনুযায়ী, রাজ্যপালের সাধারণ কার্যকাল **৫ বছর**। তবে এই মেয়াদ সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির (Pleasure of the President) ওপর নির্ভর করে।

  • রাষ্ট্রপতি চাইলে যেকোনো সময় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাজ্যপালকে পদচ্যুত করতে পারেন।
  • রাজ্যপাল নিজের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিয়ে যেকোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন।
  • সংবিধানে রাজ্যপালকে ইমপিচ (Impeach) বা অপসারণ করার কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা পদ্ধতির উল্লেখ নেই।
  • নতুন রাজ্যপাল দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত বর্তমান রাজ্যপাল পদে বহাল থাকেন।

৪. রাজ্যের রাজ্যপালের প্রধান ১০টি ক্ষমতা ও কার্যাবলী

রাজ্যের রাজ্যপালের সমস্ত ক্ষমতাকে শাসনসংক্রান্ত, আইনসংক্রান্ত, অর্থসংক্রান্ত ও বিচারসংক্রান্ত—এই প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:

ক. শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতা (Executive Powers)

১. মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীপরিষদ নিয়োগ: রাজ্যপাল বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ দেন।

২. গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী নিয়োগ: তিনি রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (Advocate General), রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (SPSC) চেয়ারম্যান ও সদস্য এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ করেন।

৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ: রাজ্যপাল রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য (Chancellor) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং উপাচার্যদের (Vice-Chancellors) নিয়োগ করেন।

খ. আইন সংক্রান্ত ক্ষমতা (Legislative Powers)

৪. আইনসভার অধিবেশন আহবান: তিনি রাজ্য আইনসভার অধিবেশন আহ্বান করেন, স্থগিত রাখেন এবং প্রয়োজনবোধে বিধানসভা ভেঙে দিতে পারেন।

৫. বিলে সম্মতি প্রদান (Article 200): রাজ্য আইনসভায় পাশ হওয়া যেকোনো বিল আইন হতে হলে রাজ্যপালের সম্মতি অপরিহার্য। তিনি বিলে সম্মতি দিতে পারেন, সম্মতি আটকে রাখতে পারেন, অথবা পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠাতে পারেন (অর্থ বিল ব্যতিরেকে)। এছাড়া তিনি কোনো বিলকে রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য সংরক্ষিত রাখতে পারেন।

৬. অধ্যাদেশ বা অর্ডিন্যান্স জারি (Article 213): আইনসভার অধিবেশন বন্ধ থাকাকালীন জরুরি প্রয়োজনে রাজ্যপাল অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। তবে আইনসভা পুনরায় চালু হওয়ার ৬ সপ্তাহের মধ্যে এটি অনুমোদন করাতে হয়।

৭. সদস্য মনোনয়ন: যেসব রাজ্যে বিধান পরিষদ (Legislative Council) রয়েছে, সেখানে তিনি মোট সদস্যসংখ্যার ১/৬ অংশ সদস্যকে সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্প ও সমাজসেবা ক্ষেত্র থেকে মনোনীত করতে পারেন।

গ. অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা (Financial Powers)

৮. অর্থ বিল ও বাজেট উপস্থাপন: রাজ্যপালের পূর্বানুমতি ছাড়া বিধানসভায় কোনো অর্থ বিল (Money Bill) আনা যায় না। তিনি নিশ্চিত করেন যে রাজ্যের বার্ষিক আর্থিক বিবরণী (বাজেট) বিধানসভায় পেশ করা হচ্ছে।

৯. জরুরি তহবিল পরিচালনা: রাজ্যের আকস্মিক ব্যয় তহবিল (Contingency Fund of the State) রাজ্যপালের নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ঘ. বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা (Judicial Powers)

১০. ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা (Article 161): রাজ্যের আইন এক্তিয়ারভুক্ত অপরাধের ক্ষেত্রে রাজ্যপাল অপরাধীর দণ্ড হ্রাস, স্থগিত বা ক্ষমা করতে পারেন। তবে তিনি মৃত্যুদণ্ড ক্ষমা করতে পারেন না (মৃত্যুদণ্ড ক্ষমার ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্রপতির রয়েছে)। জেলা বিচারপতিদের নিয়োগও রাজ্যপালের মাধ্যমে হয়।

৫. রাজ্যপালের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (Discretionary Powers)

যদিও সাধারণ ক্ষেত্রে রাজ্যপালকে মন্ত্রীপরিষদের পরামর্শ মেনে চলতে হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে তিনি নিজস্ব বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করতে পারেন (Article 163):

  • ত্রিশঙ্কু বিধানসভা: নির্বাচনে কোনো দল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে নিজস্ব পছন্দ প্রয়োগ করা।
  • অনাস্থা প্রস্তাব: মন্ত্রীপরিষদ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে মনে হলে বিধানসভায় আস্থা প্রমাণের নির্দেশ দেওয়া।
  • জরুরি অবস্থা জারি (Article 356): রাজ্যে সাংবিধানিক শাসন ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রপতির কাছে শাসনতান্ত্রিক জরুরি অবস্থা বা রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ পাঠানো।
  • বিল সংরক্ষণ: কেন্দ্রীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে রাজ্য আইনসভার বিল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো।

৬. রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের ক্ষমতার মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য

বিষয় ভারতের রাষ্ট্রপতি (President) রাজ্যের রাজ্যপাল (Governor)
পজিশন সমগ্র ভারতের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান
নির্বাচন/নিয়োগ পরোক্ষভাবে নির্বাচিত (Electoral College) রাষ্ট্রপতি দ্বারা সরাসরি নিযুক্ত
মৃত্যুদণ্ড ক্ষমা মৃত্যুদণ্ড সম্পূর্ণ মওকূফ করতে পারেন মৃত্যুদণ্ড ক্ষমা করতে পারেন না
সামরিক ক্ষমতা তিন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক (Pardon for Court Martial) কোনো সামরিক ক্ষমতা নেই
অর্ডিন্যান্স বাতিল অনুচ্ছেদ ১২৩ অনুযায়ী জারি করেন অনুচ্ছেদ ২১৩ অনুযায়ী জারি করেন

৭. ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের রাজ্যপালদের তালিকা

ভারতীয় সংবিধান এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ভারতের প্রতিটি রাজ্যের বর্তমান রাজ্যপাল এবং তাঁদের যোগদানের বছর জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিস্তারিত তথ্যের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Ministry of Home Affairs) -এর অফিশিয়াল পোর্টাল ভিজিট করতে পারেন।

অঞ্চল রাজ্য / কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল রাজ্যপাল / উপ-রাজ্যপাল (L-G) নিয়োগের বছর
উত্তর ভারত জম্মু ও কাশ্মীর (UT) মনোজ সিনহা (উপাধ্যক্ষ/L-G) ২০২০
হিমাচল প্রদেশ শিব প্রতাপ শুক্লা ২০২৩
পাঞ্জাব গোলাপ চাঁদ কাটারিয়া ২০২৪
উত্তরাখণ্ড গুরমীত সিং ২০২১
হরিয়ানা বান্দারু দত্তাত্রেয় ২০২১
রাজস্থান হরিভাউ কিষাণরাও বাগদে ২০২৪
উত্তর প্রদেশ আনন্দিবেন প্যাটেল ২০১৯
দক্ষিণ ভারত অন্ধ্র প্রদেশ এস. আব্দুল নাজির ২০২৩
কর্ণাটক থাবর চাঁদ গেহলট ২০২১
কেরল আরিফ মোহাম্মদ খান ২০১৯
তামিলনাড়ু আর. এন. রবি ২০২১
তেলেঙ্গানা যিশু দেব বর্মা ২০২৪
পূর্ব ভারত পশ্চিমবঙ্গ সি. ভি. আনন্দ বোস ২০২২
বিহার রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর ২০২৩
ঝাড়খণ্ড সন্তোষ কুমার গাংওয়ার ২০২৪
ওড়িশা রঘুবর দাস ২০২৩
পশ্চিম ভারত গোয়া পি. এস. শ্রীধরন পিল্লাই ২০২১
গুজরাট আচার্য দেবব্রত ২০১৯
মহারাষ্ট্র সি. পি. রাধাকৃষ্ণান ২০২৪
উত্তর-পূর্ব ভারত অরুণাচল প্রদেশ কৈবল্য ত্রিবিক্রম পারনায়েক ২০২৩
আসাম লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য ২০২৪
মণিপুর অনসূয়া উইকে ২০২৩
মেঘালয় সি. এইচ. বিজয়শঙ্কর ২০২৪
মিজোরাম হরি বাবু কম্ভমপতি ২০২১
নাগাল্যান্ড এল. গনেশন ২০২৩
সিকিম ওম প্রকাশ মাথুর ২০২৪
ত্রিপুরা ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু ২০২৩
ইউটি (UT) আন্দামান ও নিকোবর দেবেন্দ্র কুমার জোশী ২০১৭
চণ্ডীগড় গোলাপ চাঁদ কাটারিয়া ২০২৪
দিল্লি (NCT) বিনয় কুমার সাক্সেনা ২০২২
লাদাখ বি. ডি. মিশ্র ২০২৩
পুদুচেরি কে. কৈলাশনাথন ২০২৪

শিক্ষাবিষয়ক অন্যান্য ভারতীয় সংবিধান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান টিউটোরিয়াল পড়তে আমাদের Educenters.in হোমপেজ ভিজিট করুন।

৮. সাধারণ প্রশ্নোত্তর (Frequently Asked Questions)

প্রশ্ন ১: রাজ্যের রাজ্যপাল হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স কত?
উত্তর: সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপাল পদে নিযুক্ত হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ৩৫ বছর।

প্রশ্ন ২: রাজ্যপালকে কে শপথ বাক্য পাঠ করান?
উত্তর: সংশ্লিষ্ট রাজ্যের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি (Chief Justice of High Court) বা তাঁর অনুপস্থিতিতে জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি রাজ্যপালকে শপথ পাঠ করান।

প্রশ্ন ৩: রাজ্যপাল কি একই সাথে দুই রাজ্যের দায়িত্ব সামলাতে পারেন?
উত্তর: হ্যাঁ, ১৯৫৬ সালের ৭ম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে এক ব্যক্তি একাধিক রাজ্যের রাজ্যপাল হিসেবে কাজ করতে পারেন।

Leave a Reply

Share with